রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্বকাপ জিতলেই বিরল কীর্তি গড়বে স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ জিতলেই বিরল কীর্তি গড়বে স্পেন

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, এটি স্পেনের জন্য ইতিহাস গড়ার এক বিরল সুযোগ। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যদি স্পেন বিশ্বকাপ জয় করতে পারে, তাহলে তারা দ্বিতীয়বারের মতো পুরুষদের বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ—উভয় বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অসাধারণ কৃতিত্বও অর্জন করবে।

স্পেন প্রথম এবং একমাত্র পুরুষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার অতিরিক্ত সময়ের গোল এখনো স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

তারপর কেটে গেছে ১৬ বছর। এই সময়ে স্পেন ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখলেও বিশ্বকাপের শিরোপা আর জেতা হয়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ এসেছে।

স্পেনের নারী দল ইতোমধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে স্পেন নারী ফুটবলেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

এখন যদি পুরুষ দলও ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে স্পেন একই সময়ে নারী ও পুরুষ—দুই বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি অত্যন্ত বিরল এবং মর্যাদাপূর্ণ এক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এটি শুধু একটি ট্রফি জয়ের বিষয় নয়; বরং একটি দেশের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামো, যুব উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফলতার প্রতীক হবে।

এই স্পেন দলটি আগের প্রজন্মের টিকি-টাকা ফুটবলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও তাদের খেলায় এসেছে নতুন গতি ও আক্রমণাত্মকতা।

তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, দ্রুত পাসিং, বল দখলে রাখার দক্ষতা এবং সংগঠিত দলগত ফুটবল—সব মিলিয়ে স্পেন এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম আকর্ষণীয় দল হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দলটি শুধু প্রতিভায় নয়, মানসিক দৃঢ়তাতেও পরিণত। কঠিন ম্যাচে চাপ সামলে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

তবে ইতিহাস গড়ার পথে স্পেনের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি অভিজ্ঞ, আত্মবিশ্বাসী এবং বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণিত করেছে।

লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ফলে স্পেনের জন্য এই ফাইনাল হবে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পরীক্ষা।

স্পেন জিতলে সেটি শুধু পুরুষ দলের সাফল্য হিসেবে দেখা হবে না। নারী দল, যুব একাডেমি, ক্লাব ফুটবল এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্মিলিত সফলতা হিসেবেও এটি মূল্যায়িত হবে।

লা মাসিয়া থেকে শুরু করে স্পেনের বিভিন্ন যুব উন্নয়ন কাঠামো বহু বছর ধরে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি করে আসছে। নারী ফুটবলেও একই ধরনের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার ফল এখন দৃশ্যমান।

স্পেন যদি শিরোপা জেতে, তাহলে তারা বিশ্ব ফুটবলে একটি শক্ত বার্তা দেবে—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যুব উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষ উভয় ফুটবলে সমান গুরুত্ব দিলে একটি দেশ একসঙ্গে দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বসেরা হতে পারে।

ফাইনালের আগে তাই স্পেনের সামনে শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম নতুনভাবে লেখার সুযোগ।

এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই শেষ ধাপটিও তারা সফলভাবে পার হতে পারে কি না।

 

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসরাইলের ড্রোন হামলায় লেবানন এ নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভদাস এর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌচেছে। সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে লেবানন এর দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলায় শুভদাস মারা যান। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর মরদেহ আসলো। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ দ্বিতীয়।

 

দরিদ্র পরিবারের দুই শতক বসত ভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যায়। এরপর লাশ হয়ে ফিরলো। হতাশ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে সমাধির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় লেবানন এ সাতক্ষীরার ৩ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেল। আশাশুনির নাহিদুল, সদরের ভালুকা চাদপুরের শফিকুল ও কলারোয়ার শুভ দাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গতকাল রাতেই দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েকমাস পর জীবন বীমার আরো ১০ টাকা অনুদান পাবেন।

ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোমরা মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (এমএসপি) আহবায়ক সৌমেন কুমার সরকার ও মানবাধিকার নারী পরিষদ (এমএনপি) আহবায়ক মধুমালা গাইন এর সভাপতিত্বে সদস্যদের সাথে পৃথক দুটি দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সভায় নারী শিশু পাচার এবং শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও বাল্যবিবাহসহ এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে সদস্যদের উদ্যোগে এলাকাতে উক্ত বিষয়ের উপরে মানুষকে সচেতন করার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত হয়।

 

স্বদেশ সংস্থার নাগরিকতা প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাাম উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবনের গহীনে যখন ভোরের কুয়াশা কাটতে শুরু করে, তখন ছোট ছোট নৌকায় চড়ে একদল মানুষ রওনা দেয় এমন এক যুদ্ধযাত্রায়, যার প্রতিপক্ষ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারিদের একজন। এরা মৌয়াল। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই মানুষগুলোর সাহসের ওপর, যারা প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসে সুন্দরবনে ঢোকেন কেবল একটি জিনিসের খোঁজে, বন্য মধু।

 

এই পেশাটি শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে, বাস্তবতা ততটাই নির্মম। প্রতিটি মৌসুমে গড়ে কয়েকজন মৌয়াল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে প্রাণ হারান, আরও অনেকে ফিরে আসেন গুরুতর জখম নিয়ে। সরকারি হিসাবে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে মনে করেন স্থানীয়রা, কারণ অনেক মৃত্যু কিংবা নিখোঁজের ঘটনা কখনো নথিভুক্তই হয় না। যে বনজীবী পরিবার একবার তার উপার্জনক্ষম সদস্যকে বাঘের পেটে হারায়, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে কেবল দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ ছায়া।

 

এই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৌয়ালরা যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আশ্রয় গড়ে তুলেছেন, তার কেন্দ্রে আছেন বনবিবি। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মৌয়ালদের কাছেই তিনি সমান শ্রদ্ধার পাত্র, এক অসাম্প্রদায়িক লোকদেবী, যিনি বনের রক্ষাকর্ত্রী বলে বিশ্বাস করা হয়। বনে ঢোকার আগে প্রতিটি নৌকায় বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, মানত করা হয়, প্রার্থনা করা হয় নিরাপদে ফেরার জন্য। এই আচার কোনো নিছক কুসংস্কার নয়, বরং এক মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, যা মানুষকে অজানা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়।

 

আরও চমকপ্রদ হলো বাঘের সঙ্গে মৌয়ালদের এক ধরনের অলিখিত সম্পর্কের ধারণা, যাকে স্থানীয় লোকবিশ্বাসে প্রায়ই এক চুক্তির রূপে দেখা হয়। দক্ষিণরায় নামের বাঘ দেবতার কাহিনি এই বিশ্বাসের মূলে। কিংবদন্তি অনুযায়ী বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মধ্যে এক আপসরফা হয়েছিল, যেখানে মানুষ যদি বনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সীমিত পরিমাণে সম্পদ আহরণ করে, তবে বাঘ তাকে আক্রমণ করবে না। মৌয়ালরা তাই মধু সংগ্রহের সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন, যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৌচাক না ভাঙা, নির্দিষ্ট আচার পালন করে বনে প্রবেশ করা, কিংবা মুখোশ পরিধান করে বাঘকে বিভ্রান্ত করার কৌশল অবলম্বন করা। এই বিশ্বাস কার্যকর প্রতিরোধমূলক আইন না হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবেশগত প্রজ্ঞা, প্রকৃতি থেকে নিলে সীমা মেনে নেওয়ার শিক্ষা।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে জীবনবাজি রেখে মধু সংগ্রহ করে আনা মৌয়ালরা, তাদের প্রাপ্য মূল্য কি তারা পান। বাজারে যে মধু বিক্রি হয় চড়া দামে, সেই মধুর প্রকৃত উৎপাদনকারীর ভাগে জোটে সামান্যই। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে মুনাফার সিংহভাগ চলে যায় অন্য কারো পকেটে। যে মানুষটি বাঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন, তার সন্তানের শিক্ষা কিংবা পরিবারের স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম নিশ্চয়তাও অনেক সময় থাকে না।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মৌয়ালদের জন্য বিমা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা, তা এখনো অনেকাংশে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল, আর দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও দুর্গম। অথচ এই মানুষগুলোই সুন্দরবনের প্রকৃত রক্ষক, কারণ তারা জানেন বন বাঁচলেই তাদের জীবিকা বাঁচবে।

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের এই মৌয়াল সম্প্রদায়ের গল্প আসলে বাংলাদেশের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক অনন্য দর্শন ধারণ করেও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় থেকে যান অবহেলিত। বনবিবির প্রতি তাদের বিশ্বাস আর বাঘের সঙ্গে তাদের সেই নীরব সমঝোতা কেবল লোকজ সংস্কৃতির উপাদান নয়, এটি টিকে থাকার এক আশ্চর্য কৌশল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিমার্জিত হয়ে এসেছে। এই কৌশলকে সম্মান জানিয়ে যদি রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায়, তবেই সুন্দরবন এবং তার সন্তানেরা উভয়েই রক্ষা পাবে।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।