সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ শুরু হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে হিসেবে অন্তত কক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মিজ্ কাউসার আজিজ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ প্রমুখ।

উদ্বোধনের পর প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া ইভেন্টের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল কবির খান বাপ্পি, খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, মোঃ আলতাফ হোসেন, কাজী কামরুজ্জামান, ইমাদুল হক খান, মুফাচ্ছিনুল ইসলাম তপু প্রমুখ।

আয়োজকেরা জানান, খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো এবং ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এতে দাবাসহ বিভিন্ন ইনডোর খেলায় প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধি এবং ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Ads small one

দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহমেদ অপু।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সখিপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী ও হারুন অর রশিদ, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইয়াছিন আলী, সখিপুর সরকারি কেবিএ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাসিন আলী, কেবিএ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবু তালেব, হাদীপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার এবং দেবহাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাস প্রমুখ।

কেশবপুরে জমি রেজিষ্ট্রেশনে ভোগান্তি ৪ উপজেলায় ১ সাব-রেজিস্ট্রার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি রেজিষ্ট্রেশনে ভোগান্তি ৪ উপজেলায় ১ সাব-রেজিস্ট্রার

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের ৪ উপজেলায় ১ জন সাব-রেজিস্টার থাকায় জমি রেজিষ্ট্রেশনের জন্য মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সপ্তাহের এক দিনের ভাগে কেশবপুরে পড়েছ সোমবারে। সপ্তাহের ওই একদিনে জমি রেজিষ্ট্রি করতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের।

কেশবপুর দলিল লেখক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কেশবপুরে যিনি সাব রেজিস্ট্রার আছেন তার নাম শাহীন আলম। তিনি মুলত ঝিকরগাছা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার। চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলা তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ৪ অফিসে দায়িত্ব পালন করায় সপ্তাহের এক দিন সোমবার কেশবপুরে আসেন। ফলে সারা সপ্তাহের কাজ এক দিনে করতে সবাইকে পড়তে, হয় চরম ভোগান্তিতে।

সপ্তাহের একদিনে ১৫০ থেকে ২০০ দলিল সম্পন্ন করতে গভীর রাত হয়ে যায়।
দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, জন ভোগান্তি এড়াতে স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার থাকলে কোন সমস্যা হতো না। বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার শাহীন আলম ঝিকরগাছার দায়িত্ব পালন করলেও অতিরিক্ত আরও তিন উপজেলার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গুড়পুকুরের মেলায় নাগরদোলা-ঘোড়া-ট্রেনে মেতে উঠেছে শিশুরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুরের মেলায় নাগরদোলা-ঘোড়া-ট্রেনে মেতে উঠেছে শিশুরা

মিলন বিশ্বাস: জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। সকাল থেকে মেলার মাঠে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে মেলার সবচেয়ে বেশি আনন্দ যেন শিশুদের চোখেমুখে। নাগরদোলা, ঘোড়া, শিশুদের ট্রেন, রঙিন খেলনা আর বেলুন-সবকিছু ঘিরেই তাদের উচ্ছ্বাস।

নাগরদোলা ঘুরছে আপন গতিতে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে শিশুদের আনন্দ। কেউ বাবার হাত ধরে টানছে, ‘ওইটাতে উঠব।’ কেউ মায়ের কাছে আবদার করছে পছন্দের খেলনা কিনে দেওয়ার জন্য। কোথাও ঘোড়ার টগবগ ছুট, কোথাও শিশুদের ট্রেনের হুইসেল। চারপাশে রঙিন বেলুন, খেলনা ও বাহারি পণ্যের সমাহার। সব মিলিয়ে যেন শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আনন্দের জগৎ।

দুই বছর পর আবারও বসেছে গুড়পুকুর মেলা। ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। চতুর্থ দিনে এসে মেলার বিভিন্ন আয়োজন আরও জমে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিশুরা ঘুরে দেখছে মেলার বিভিন্ন স্টল ও বিনোদনের আয়োজন।

বিনেরপোতা থেকে বাবার হাত ধরে মেলায় এসেছে সুমাইয়া ইয়াসমিন (৯)। একের পর এক আয়োজন দেখছিল সে। তবে নাগরদোলার সামনে এসে থমকে যায় তার চোখ। মেলার কোন জিনিসটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে জানতে চাইলে সুমাইয়া জানায়, নাগরদোলায় চড়ার আনন্দই তার কাছে সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে পছন্দের একটি খেলনা নিয়ে বাড়ি ফেরার ইচ্ছাও রয়েছে তার।

শিশু শোভন (৭)-এর আবার নাগরদোলার চেয়ে বেশি পছন্দ শিশুদের ট্রেন। ট্রেনে ওঠার জন্য সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল সে। নিজের পালা আসতেই আনন্দে চড়ে বসে। ট্রেন চলতে শুরু করলে চারপাশ দেখতে দেখতে হাত নাড়ছিল। তার কাছে মেলার সবচেয়ে মজার বিষয়—একসঙ্গে এত কিছু দেখা আর ঘুরে বেড়ানো।

তাবাচ্ছুম আক্তার (১৪) মেলায় এসেই ছুটে যায় খেলনার দোকানে। নানা রঙ ও আকৃতির খেলনা দেখে একটির পর একটি হাতে নিয়ে দেখছিল সে। শেষ পর্যন্ত পছন্দের খেলনা হাতে পেয়ে মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরে দেখে মেলার অন্যান্য আয়োজন।
দেবহাটা থেকে আসা চুমকির পছন্দ নাগরদোলা ও রঙিন খেলনা। মেলার আলো, মানুষের ভিড় আর সারি সারি খেলনা দেখে তার চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখার আবদারও করছিল সে।

শিশুদের এই আনন্দের অংশীদার অভিভাবকেরাও। সন্তানদের হাত ধরে মেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরছেন তাঁরা। কেউ সন্তানের পছন্দের খেলনা কিনে দিচ্ছেন, কেউ নাগরদোলায় তুলে দিচ্ছেন, আবার কেউ শিশুদের ট্রেনের টিকিট কাটতে ব্যস্ত।

শহরের লস্করপাড়া থেকে আসা হোসনে আরা বলেন, সন্তানদের আনন্দ দেখতেই মেলায় এসেছেন। দীর্ঘদিন পর মেলা হওয়ায় বাচ্চাদের আগ্রহও অনেক বেশি। মেলায় এসে তাদের আনন্দ করতে দেখে ভালো লাগছে।

বাঁশদহা থেকে আসা বিলকিস খাতুন বলেন, বাচ্চাদের আনন্দ দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে এভাবেই মেলায় এসে ঘুরে বেড়াতেন তাঁরা। এখন সন্তানদের হাত ধরে সেই একই মেলায় আসতে পেরে ভালো লাগছে।

আশাশুনি থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন ওকালত হোসেন। তিনি বলেন, ছোটদের জন্য মেলার আনন্দই আলাদা। দুই বছর পর মেলা হওয়ায় এবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছেন। সন্তানদের মুখে হাসি দেখলেই বোঝা যায়, তারা কতটা আনন্দ করছে।

গুড়পুকুর মেলা শুধু কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের আয়োজন নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে এটি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ। বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলার মাঠে ঘুরতে ঘুরতে শিশুরা দেখছে বহুদিনের পুরোনো এই আয়োজন। নাগরদোলার ঘূর্ণন, ট্রেনের হুইসেল আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গুড়পুকুর মেলা।

চতুর্থ দিনে এসে শিশুদের হাসি-আনন্দে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে মেলার মাঠ। দুই বছর পর ফিরে আসা এই আয়োজন যেন পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আনন্দেরও এক সুন্দর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।