শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদী কেবল ভূখন্ডের ওপর দিয়ে বয়ে চলা পানির ধারা নয়, বরং এটি লাখ লাখ জলজ ও স্থলজ জীবের জীবনধারণের মূল ভিত্তি। প্রকৃতির এক জটিল ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থা। নদী ও এর অববাহিকা হাজারো প্রজাতির মাছ, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী এবং অগণিত জলজ উদ্ভিদের প্রধান বাসস্থান। অনেক বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির জীব কেবলমাত্র নদীর নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রেই বেঁচে থাকতে পারে।

বিশ্ব নদী দিবস প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস। নদীগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা, পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

প্রখ্যাত কানাডীয় নদী সংরক্ষণবাদী ও পরিবেশবিদ মার্ক অ্যাঞ্জেলো এই দিবসটি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে লাইফ ফর ওয়াটার বা জীবনের জন্য পানি দশক ঘোষণা করে। সেই বছর থেকেই মার্ক অ্যাঞ্জেলোর প্রস্তাবনায় প্রথম বিশ্ব নদী দিবস পালন শুরু হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত নদী রক্ষা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম ও অনন্য। নদী হলো পৃথিবীর রক্তনালীর মতো, যা সমগ্র স্থলভাগের প্রাণশক্তিকে টিকিয়ে রাখে। নদী বিভিন্ন অঞ্চলের বনাঞ্চল, জলাভূমি ও মহাসমুদ্রের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সংযোগ সেতু বা করিডোর হিসেবে কাজ করে। নদী উজান থেকে পুষ্টি উপাদান ও পলি বহন করে ভাটির প্লাবনভূমি ও মোহনায় নিয়ে যায়, যা মাটিকে উর্বর করে এবং জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অনেক মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে বা নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মাইগ্রেশন বা পরিযায়ন করে। নদী সচল না থাকলে এই বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

নদীর বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশাল খাদ্যকৃঙ্খল গড়ে ওঠে। নদীর ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটনকে খেয়ে ছোট মাছ বাঁচে, ছোট মাছ খেয়ে বড় মাছ এবং বড় মাছ খেয়ে পাখি, ডলফিন বা মানুষ জীবনধারণ করে। নদী দূষিত বা শুকিয়ে গেলে এই পুরো কৃঙ্খলটি ভেঙে পড়ে। প্রাকৃতিক ফিল্টার এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জনদী ও এর চারপাশের জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ফিল্টার বা পরিশোধন করে। এছাড়া নদীর পানি চুইয়ে মাটির নিচে জমা হয়, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে আশেপাশের অঞ্চলের স্থলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরাও পানির সংকট থেকে রক্ষা পায়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও তাপমাত্রা হ্রাসনদী আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় জলবায়ু স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এটি চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমায়, যা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নদীর স্্েরাত প্রতিনিয়ত উর্বর পলি এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায়। এটি জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এবং মাছের খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বহু পরিযায়ী পাখি এবং বন্য প্রাণী নদীর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। নদী বিভিন্ন বনাঞ্চল ও জলাভূমিকে বাঁচিয়ে রেখে সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। নদী ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে এবং স্থানীয় জলবায়ু শীতল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

বর্তমানে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে নদীর বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করার ফলে জলজ প্রাণীদের যাতায়াত এবং বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

নদীর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মিঠা পানির পুরো বাস্তুতন্ত্র ধসে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রকৃতির ভারসাম্যের ওপর। তাই নদী রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদী মাছ, উভচর প্রাণী, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নদীর ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।
নদী দূষণ বা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়ে। নদী যদি তার স্বাভাবিক গতি ও পরিচ্ছন্নতা হারায়, তবে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে এবং বিলুপ্ত হবে বহু অমূল্য জীববৈচিত্র্য।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বনদস্যুদের নির্যাতন, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ বনের ওপর নির্ভর করে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয় ও নির্যাতনের কারণে তাঁদের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবনে কাজ করতে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে শুধু প্রতিবাদ সভা নয়, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ নুরুল হক নুরু (৭৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুলতানপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের বড় পুত্র এবং দুই ছেলে, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরহুমের নামাজের জানাজা রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সুলতানপুর ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।