শ্যামনগরে বিদ্যালয়ের অফিসে আগুন, পুড়ে গেছে কম্পিউটার, শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে অগ্নিকা-ে প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে শিক্ষা বিভাগ। বিদ্যালয়টির নাম ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অগ্নিকা-ে দুটি প্রজেক্টর, একটি ল্যাপটপ, তিনটি সাউন্ড বক্স, একটি টেলিভিশন, দুটি টেবিল ফ্যান, দুটি রাউটার, একটি মেগাফোনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক সহায়িকা, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ পরিকল্পনা এবং ১০টি ডিজিটাল ব্যানারও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম মিজানুর রহমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে জানান, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে পাঠদান শেষে তিনি বিদ্যালয় থেকে বাড়ি চলে যান। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আগুন লাগার খবর পান। দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি অফিসকক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। এ সময় শোকেস ও সাউন্ড বক্সে আগুন জ্বলছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। অগ্নিকা-ে অফিসের আসবাব, পানির ফিল্টার, প্লাস্টিকের ওয়ারড্রব, র্যাক, দেয়ালঘড়ি, মনিটরিং বোর্ড, টেবিল ও চেয়ার পুড়ে গেছে।
এ ছাড়া কাঁচের গ্লাস, ডিনার সেট, মেলামাইনের প্লেট, গামলা ও চামচ, টেবিলের কাপড় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রানারআপ ট্রফি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ফিডিং রেজিস্টার, বই বিতরণ রেজিস্টার এবং তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা। প্রধান শিক্ষকের হিসাবে, অগ্নিকা-ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা। ঘটনার পর গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। কক্ষের দেয়াল ও সিলিং কালো হয়ে গেছে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অগ্নিকা-ের ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”












