রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব বামনত্ব সচেতনতা দিবস: বামনরাও সমমর্যাদার মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বামনত্ব সচেতনতা দিবস: বামনরাও সমমর্যাদার মানুষ

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৫ অক্টোবর বিশ্ব বামনত্ব সচেতনতা দিবস। বামনত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, খর্বাকৃতির মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। শারীরিক উচ্চতা কখনোই মানুষের মেধা, যোগ্যতা কিংবা মানবিক মূল্যবোধের মাপকাঠি হতে পারে না। অথচ ভুল ধারণা, উপহাস ও বৈষম্যের কারণে খর্বাকৃতির অনেক মানুষকে প্রতিনিয়ত সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।

দিবসটির সূচনা হয় ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘লিটল পিপল অব আমেরিকা’র উদ্যোগে। ১৯২৪ সালের ২৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী খর্বাকৃতির মার্কিন অভিনেতা বিলি বার্টির স্মরণে দিনটি বেছে নেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর সংগঠনটি খর্বাকৃতির মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বামনত্ব বলতে সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি বা ১৪৭ সেন্টিমিটার কিংবা তার কম হওয়ার অবস্থাকে বোঝায়। এর অন্যতম পরিচিত কারণ অ্যাকোন্ড্রোপ্লাসিয়া, যা জিনগত পরিবর্তনের ফলে ঘটে। এ ছাড়া হরমোনের ঘাটতি, কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও পুষ্টিহীনতার কারণেও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই শিশুর বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বামনত্বের বিভিন্ন ধরন ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা মোকাবিলায় আধুনিক চিকিৎসায় অগ্রগতি হয়েছে। হরমোনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন প্রতিস্থাপন করা হয়। অ্যাকোন্ড্রোপ্লাসিয়ায় আক্রান্ত নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের জন্যও বিশেষ ওষুধ রয়েছে, যা হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। রোগের ধরন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিকিৎসার ধরন ও প্রাপ্যতা রোগীর অবস্থা এবং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

এ দিবসের অন্যতম তাৎপর্য হলো খর্বাকৃতির মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন ও সরকারি স্থাপনায় তাঁদের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। উপহাস, বুলিং ও বৈষম্য বন্ধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর আওতায় বামনত্বের কারণে প্রতিবন্ধিতার স্বীকৃতিযোগ্য অবস্থা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচিত হয়। তাঁদের জন্য চিকিৎসাসেবা, উপযোগী পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বামনত্ব কোনো অভিশাপ নয়, এটি একটি শারীরিক অবস্থা। খর্বাকৃতির মানুষ করুণা বা দয়ার পাত্র নন; তাঁরা সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী। শারীরিক উচ্চতা নয়, মানুষের মেধা, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হোক মূল্যায়নের প্রকৃত মানদণ্ড। বিশ্ব বামনত্ব সচেতনতা দিবসে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার হোক সবার।

Ads small one

বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীর বিয়ে, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বাল্যবিবাহমুক্ত কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীর বিয়ে, মুচলেকা ও নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের খাঁরহাট গ্রামে ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়। এ ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

ছাত্রীটি বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী, তার জন্মতারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১০। সে হিসাবে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ১১ মাস। তার বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মারকা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ২৭ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, ২০১৫ সালে কালীগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আর্ণা চক্রবর্তী ছাত্রীর পরিবারকে ডেকে বাল্যবিবাহবিরোধী আইন সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে ছাত্রীর বাবা শেখ ইমান আলী মুচলেকা দেন। একই সঙ্গে বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর মুচলেকা দিয়েছেন।

ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বিয়ে। কয়েক দিন আগে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের বয়স ১৭ বছর। অন্যদিকে, ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। ওই কিশোরী ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শিশুবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। পরে নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সচেতন করেন।

রোববার সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তাঁরা ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে শিশুবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে অপপ্রচার, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল হাসান বাবলু।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটির বুধহাটা শাখায় তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর নিজের নামে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবলু অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। মামলা নিষ্পত্তি হলে গ্রাহকেরা তাঁদের পাওনা ফেরত পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাবলু। এ ঘটনায় কিছু গ্রাহককে ভুল বুঝিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।