বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ডভ্যান দুমড়েমুচড়ে নিহত ঝিকরগাছার চালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ডভ্যান দুমড়েমুচড়ে নিহত ঝিকরগাছার চালক

সংবাদদাতা: যশোর সদর উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ডভ্যানের চালক আতিয়ার রহমান (৫৫) নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি অননুমোদিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আতিয়ার রহমান ঝিকরগাছা উপজেলার কাটাখাল কলোনিপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মুরগির খাদ্যবোঝাই একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ে বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী বেতনা কমিউটার ট্রেনটি জয়কৃষ্ণপুর এলাকার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় কাভার্ডভ্যানটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক লিটন মিয়া জানান, ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ডভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। আহত চালককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Ads small one

সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

দুপুর দেড়টা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের পাশের একটি মুদির দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন জেলে মনজুর আলম (৬৫) ও মুদিদোকানি হামিদ হোসেন (৬০)। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসিমুখে গল্প করছিলেন তারা। কথার ফাঁকে উঠে আসে গত দুই বছরের দুঃসহ দিনগুলোর কথা। পর্যটক কম আসা, দ্বীপে রাতযাপনে বিধিনিষেধ আর বেচাকেনার মন্দায় সংসার চালাতে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও শোনান তারা। তবে এবার তাদের চোখেমুখে স্বস্তি আর নতুন আশার ঝিলিক।

এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে জানতে চাইলে দুই জনের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আনন্দ। তাদের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর যেন ‘ঈদের আনন্দ’ ফিরে আসছে দ্বীপে।

কথা হলে মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সংসারে খুব টানাপোড়েন গেছে। পর্যটকদের রাতযাপন বন্ধ থাকাসহ পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ছিল খুবই কম। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমাদের ঈদের মতো খুশি লাগছে। আগের দুই বছর ঈদেও আমাদের মধ্যে সেই আনন্দ ছিল না।’

 

শুধু মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন নন, পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলসংশ্লিষ্ট কর্মী, নৌযান শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে আবারও সচল হবে দ্বীপের অর্থনীতি এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা ছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। ৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রীযাপনসহ সাড়ে চার মাসে দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণে যাবেন। কিন্তু এর আগে গত দুই বছর নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। সে সময়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন।

 

সেন্টমার্টিনে আট বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক। পশ্চিম সৈকতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের সবার মধ্যে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা নতুন করে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে যেমন ব্যস্ততা দেখা যায়, দ্বীপে এখন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আশা করছি, এবার আয় বাড়লে অন্তত কিছুটা ঋণের বোঝা কমাতে পারবো।’

দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে দ্বীপের বাইরে থাকতে হয়। তবে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এবার ফিরেছেন নিজ দ্বীপে। তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় আমার মতো অনেক যুবকই জীবিকার সন্ধানে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা আবার ফিরছেন। কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, বাইক চালানোসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে দ্বীপে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা তরুণ রহমত উল্লাহও পর্যটন মৌসুম ঘিরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছেন। পর্যটকদের পরিবহনসেবা দিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পুরো মৌসুম দ্বীপে থাকার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘পুরো পর্যটন মৌসুম সেন্টমার্টিনে অবস্থান করবো। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি টমটমও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেক বাড়বে। সেই প্রত্যাশা থেকেই মৌসুম শুরুর আগেই দ্বীপে চলে এসেছি।’

স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত প্রবালদ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। কেউ দোকানপাট, কেউ মাছ ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রি, আবার কেউ হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা নৌযানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে পর্যটক কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে। গত দুই মৌসুমের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপবাসী।

 

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায় আবারও গতি ফিরবে। কারণ, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুম অনেকের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। এ সময়টিকে ঘিরেই স্থানীয় মানুষের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। তবে শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্বীপের মানুষের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও পর্যটননির্ভর। এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই দিনে এনে দিনে খান। পর্যটন বন্ধ বা সীমিত থাকলে তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পর পর্যটন ঘিরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপবাসী প্রস্তুত। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কারণ, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয়-রোজগার দুটোই বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসী যেন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

অভয়নগরে ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
অভয়নগরে ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের অভয়নগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নওয়াপাড়া নৌযান কার্যালয়ে অভয়নগর থানা কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন থানা কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস।

সভায় বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের থানা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সহসভাপতি জহির সরদার, সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক, প্রচার সম্পাদক নাজিম উদ্দিন শেখ, সদস্য আবুল কাশেম ও দিলীপ বিশ্বাস। সভা পরিচালনা করেন থানা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম আর টিটু।

বক্তারা ডা. এম এ করিমের রাজনৈতিক জীবন ও শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজির বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি আজীবন যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব, যুদ্ধের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কৃষক ও দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্য গড়ে তোলার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড নেই, ভূমিসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় এসিল্যান্ড নেই, ভূমিসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): জমির মালিকানা আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত। কিন্তু নামজারি কিংবা জমাভাগের কাজ শেষ করতে অপেক্ষার যেন শেষ নেই। কেউ পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করতে চান, কেউ জমি কেনার পর নামজারি করতে গিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। আবার কারও প্রয়োজন জমির সীমানা নির্ধারণ, কারও জরুরি শুনানি। এসব সেবা পেতে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে এসে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদটি শূন্য রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে ভূমিসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভূমি অফিসের সেবা মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নামজারির আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জমির মালিকানা হালনাগাদ আটকে যায়। এর প্রভাব পড়ে জমি কেনাবেচা, ব্যাংকঋণ গ্রহণ ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন কাজে। একইভাবে জমাভাগ, আপত্তির শুনানি ও ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে দীর্ঘায়িত হয় মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতা।

জানা গেছে, এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমের অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে ইউএনওর ওপর। ফলে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভূমি অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রমও সমন্বয় করতে হচ্ছে তাঁকে।

নামজারি ও জমাভাগের আবেদন নিষ্পত্তি, শুনানি গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় তদারকি, সরকারি খাসজমি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এসিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ পদে কর্মকর্তা না থাকলে এসব কার্যক্রমে সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পাইকগাছা সদরের বাসিন্দা আবির মল্লিক বলেন, পাইকগাছার মতো উপকূলীয় উপজেলায় সরকারি খাসজমি, জলাশয়, কৃষিজমি ও বিভিন্ন সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও অভিযোগ যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সদরের আরেক বাসিন্দা সমীর রাহা বলেন, ভূমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতি শুধু একটি পদ শূন্য থাকার বিষয় নয়, এর প্রভাব পুরো ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমে পড়তে পারে।

সেবাগ্রহীতা হাফিজুর রহমান জানান, জমির নামজারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ নিয়ে তাঁকে ভূমি অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পদে কর্মকর্তা না থাকায় কাজের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সময়মতো কাজ শেষ না হলে জমিসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমেও সমস্যায় পড়তে হবে।

আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভূমি অফিসে আসতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই ব্যয় হয়। একদিনে কাজ শেষ না হলে আবার আসতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। দ্রুত নতুন এসিল্যান্ড পদায়ন করে ভূমিসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর পাইকগাছায় যোগদান করেন। প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাঁকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। ১ অক্টোবর বদলির আদেশের পর ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন ব্যাচের ভূমিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মকর্তা পদায়ন সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।

অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় তো চাপ থাকে।’ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই চাপের প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নামজারি, জমাভাগ, শুনানি ও ভূমিসংক্রান্ত জরুরি আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। দ্রুত নতুন কর্মকর্তা পদায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে ভূমিসেবার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।