বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে ডা. অনিমেষ অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ডা. অনিমেষ অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্য অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তারা সাতক্ষীরার আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের খাস কামরায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেয়।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দাতারা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন (৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে মুন্সিগঞ্জের ৭নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর জব্বার(৩৫) ও নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০)। এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসি সোমবার বিকেলে ভেঙে দিয়েছে অপহরণকারি বনদস্যু আশরাফের বাড়ির ঘরের চাল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ মে সকাল ১০টার দিকে বৈশখালি গ্রামের টেকনিশিয়ান ভেটেনারী পল্লী চিকিৎসক অনিমেষ পরামান্য বাড়ি থেকে বের হয়ে হরিনগর গ্রামের ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে চেয়ারম্যান মোড়ে ট্যারাখালি গ্রামের ও বর্তমানে বৈশখালি গ্রামে বসবাসরত আশরাফ হোসেন তার মোটরসাইকেলে উঠে সুন্দরবন বাজারে যাওয়ার আব্দার করে। তাকে সুন্দরবন বাজারে নামিয়ে দেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ি থেকে বের হয়ে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তাকে থামায় আশরাফ ও রবিউল। এক পর্যায়ে রবিউলের বাড়িতে অসুস্থ গরু দেখতে যাওয়ার কথা বলে দুজনকে মোটরসাইকলে তুলে মীরগাং যেতে হয়। সেখানে গরু না থাকায় গরু আনতে দেরী হবে বলে তাকে নিয়ে সুন্দরবনে ঘুরে আসার কথা বলে রবিউল। এক পর্যায়ে নিজের মোটরসাইকেলে তালা মেরে বেড়িবাঁধের উপর রেখে আশরাফ ও রবিউলসহ নৌকায় ওঠেন তিনি। নৌকায় আগে থেকে জব্বার গাজী, মাহামুদুল হাসান, শাহীনুর ও মতিয়ার বসে ছিল। ধলের খালে নৌকা পৌছালে সকলে তাকে ঘিরে ধরে তার ব্যাগে থাকা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। পরে গামছা ও দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে লাঠি দিয়ে মারপিট করে মুক্তিপণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা চায়। কেড়ে নেওয়া হয় মোটরসাইকেলের চাবি। পরবর্তীতে তার স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে তারই মুঠোফোন থেকে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তাকে খুঁজে না পাওয়ায় ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য ২ মে রাতে থানায় ১০০ নম্বর হারানো সংক্রান্ত ডায়েরী করেন। স্ত্রী সবিতা টাকা দিতে রাজী হওয়ায় ৩ মে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আসামী মতিয়ার টাকা নিতে মীরগাং বেড়িবাঁধের উপর আসে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের তৎপরতা দেখে মতিয়ার বনের মধ্যে চলে যায়। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৪ মে সকাল ৮টার দিকে তাকে ফেরৎ দেওয়া হবে বলে শলাপরামর্শ করতে থাকে আসামীরা। রাত ৯টার দিকে সুন্দরবনে পুলিশি অভিযান শুরু হবে জানতে পেরে শাহীনুরের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে নিয়ে শাহীনুর মীরগাং বেড়িবাঁধে আসে। চিৎকার করায় শাহীনুরকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সুদেব পাল জানান, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে সোমবার রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা (৬ নম্বর) দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ২০১৮ সালে র‌্যাবের হাতে আত্মসমর্পণকারি মাহামুদুল হাসান ডন, শাহীনুর ও জব্বারকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে তারা আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের কাছে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মাঈনউদ্দিন জানান, জবানবন্দি শেষে তিন আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

শনিবার (৯ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রাথমিক গণিত এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ছাড়া রোববার (১০ মে) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক গণিত, সোমবার (১১ মে) একই শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি সব বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ক্লাস্টারভিত্তিক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছেন।

উল্লেখ্য, এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে পাঠদান হয়, সেসব ক্ষেত্রে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে থাকবে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, পরীক্ষাকক্ষে শৃঙ্খলাপূর্ণ আসন বিন্যাস এবং উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে পানির গল্প এখন আর কেবল নদী, খাল বা বৃষ্টির নয়; এটি ক্রমেই হয়ে উঠছে এক জটিল জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত সংকটের প্রতিচ্ছবি। একদিকে নিরাপদ পানির তীব্র চাহিদা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যÑএই দুইয়ের সংঘাতে সারা দেশে তৈরি হয়েছে এক নীরব বিপদ, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে বহন করতে হয় বছরের পর বছর। শহর থেকে গ্রামÑসবখানেই এখন “বিশুদ্ধ পানি” নামের একটি বাজার গড়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের জার, বোতল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই পানি অনেকের কাছে জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই পানির গুণগত মান কতটা নিশ্চিতÑসে প্রশ্নের জবাব আজও অস্পষ্ট।

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, এবং বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক দূষণÑসব মিলিয়ে নিরাপদ পানির সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে মানুষ বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ঝুঁকছে বাণিজ্যিক পানির দিকে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে হাজার হাজার পানি পরিশোধন প্লান্ট। কিন্তু এগুলোর একটি বড় অংশই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে পানি পরিশোধন ও বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই খাতের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি পানির প্লান্ট কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা বা লাইসেন্সিং কার্যক্রমÑসবই সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে বাজারে “বিশুদ্ধ পানি” নামে যা বিক্রি হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই অজানা মানের।

 

রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশের পানি পরিশোধন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। এটি পানির ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সক্ষম হলেও এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলোÑএটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও সরিয়ে দেয়।ফলে আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানি অনেক সময় “ডেড ওয়াটার”-এ পরিণত হয়, যেখানে শরীরের জন্য দরকারি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশিয়ামের অভাব থাকে। দীর্ঘদিন এই পানি পান করলে শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, ফিল্টার বা মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে তা জীবাণুর উৎসে পরিণত হয়। ফলে বিশুদ্ধ করার বদলে পানি আরও দূষিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এই নিয়ন্ত্রণহীন পানির বাজার সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় তৈরি না করলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়। খনিজের ঘাটতি, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, শিশুদের শারীরিক বিকাশে প্রভাব এসব ঝুঁকি এখনো অনেকাংশে অদৃশ্য, কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পানির মান যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে স্বচ্ছ ও স্বাদে মিষ্টি পানি মানেই ভালো পানি।

 

এই ধারণা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ বাজার তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বিকল্পের অভাবও একটি বড় কারণ। অনেক এলাকায় নিরাপদ নলকূপ বা পাইপলাইনের পানি না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে বাজারজাত পানির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সুবিধা না থাকায় তারা কার্যকর তদারকি করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, সমন্বয়ের অভাব।

 

বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও একটি সমন্বিত কাঠামো নেই। চতুর্থত, জনসচেতনতা কার্যক্রম অপর্যাপ্ত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: শেখার সুযোগ বিশ্বের অনেক দেশে বোতলজাত ও প্রক্রিয়াজাত পানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং বিতরণÑসবকিছুই নজরদারির আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও এই ধরনের কাঠামো আংশিকভাবে থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের সব পানির প্লান্টকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানিতে প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করা নিশ্চিত করতে হবে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উন্নত নলকূপ এবং পাইপলাইন পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে পানি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখিÑএকদিকে এটি মৌলিক অধিকার, অন্যদিকে এটি লাভজনক পণ্য। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের ওপর নির্ভর করে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিমালা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নইলে “বিশুদ্ধ পানি” নামের এই নীরব ব্যবসা একদিন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নেবেÑযার মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকেই।

লেখক: সংবাদ কর্মী

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে

হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।

হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও রয়েছে।

চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামীতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না।

তিনি আরো বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এসব টিকা দেশে এনে ইতিহাস গড়েছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ আরো ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে।