রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শার্শায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ‘গৃহবন্দী’ শতাধিক পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
শার্শায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ‘গৃহবন্দী’ শতাধিক পরিবার

বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি: দেশের আনাচে-কানাচে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, দৃশ্যমান হয়েছে বড় বড় মেগা প্রকল্প। তবে এর ঠিক উল্টো চিত্র যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত রুদ্রপুর গ্রামে। এখানকার ‘খালধার পাড়া’ এলাকার মাত্র এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। দীর্ঘ এই সময়ে রাস্তাটিতে এক ঝুড়ি মাটিও না পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়। ফলে বর্ষা আসার আগেই কার্যত জনবিচ্ছিন্ন ও ‘গৃহবন্দী’ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুদ্রপুর গাঙধার পাড়ার গোলাম হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে খালধার পাড়ার মুকুল হাজির বাড়ি পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিই ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে ইরি-বোরো মৌসুমে রাস্তাটির এই বেহাল দশার কারণে কৃষকেরা মাঠের পাকা ধান কেটে সহজে ঘরে তুলতে পারছেন না। কৃষকদের মাথায় করে বা বিকল্প উপায়ে কাদার ওপর দিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে ধান বয়ে আনতে হচ্ছে। শুধু কৃষিতেই নয়, যাতায়াত ব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণে এই পাড়ার বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিয়ে দিতেও চরম বেগ পেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। ভাঙা রাস্তার অজুহাতে অনেকেই এই গ্রামে আত্মীয়তা করতে চান না।
রুদ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের মুয়াজ্জিন জিয়ারুল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের সময় এলে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা রাস্তা পাকা করার অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে আর কেউ খোঁজ নেন না। কোনো মানুষ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো উপায় থাকে না।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অতি দ্রুত রাস্তাটিতে মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অবহেলিত রুদ্রপুর খালধার পাড়ার বাসিন্দারা।

Ads small one

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

0-3840x2160-0-0-{}-0-12#

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন এবং জটিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এ অঞ্চলকে প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকতে হয়। এই দুর্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কর্মসংস্থানে। কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সনাতনী জীবিকা আজ চরম সংকটে। ফলে কর্মসংস্থানের তীব্র অভাবে কয়রার যুবসমাজ এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের যে দাবি উঠেছে, তা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
একটি জনপদের বিরাট অংশ কর্মহীন থাকলে সেখানে সামাজিক অস্থিরতা, মাদক ও জুয়ার মতো ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কয়রায় ঠিক এই চিত্রটিই ফুটে উঠছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্য জেলার ইটভাটায় বা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শ্রম বিক্রি করতে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং বিঘিœত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষাজীবন, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথকে রুদ্ধ করছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তাত্ত্বিক উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে বহু তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার অভাব কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় স্থানীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সড়ক সংস্কারের মতো জরুরি কাজেও স্কেভেটর বা রোলার চালকসহ দক্ষ কর্মী অন্য জেলা থেকে আনতে হয়। অথচ স্থানীয় যুবকদের যদি ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল কিংবা আইটি খাতের মতো বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত, তবে তাঁরা শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাতেন না, বরং দুর্যোগ-পরবর্তী অঞ্চলের পুনর্গঠনেও দক্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারতেন।
সুসংবাদ হলো, কয়রায় টিটিসি স্থাপনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রস্তাবিত এই টিটিসি শুধু যুবকদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করেই তুলবে না, বরং এর বহুতল ভবনটি দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
কারিগরি শিক্ষাই পারে একটি অনুন্নত ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের যুবসমাজকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে। কয়রার বিপন্ন যুবসমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উপকূলের টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে সরকার দ্রুততম সময়ে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপন করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তালায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন: শ্রেষ্ঠদের নাম ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
তালায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন: শ্রেষ্ঠদের নাম ঘোষণা

 

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বিদ্যালয়, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ঘোষিত ফলাফলে উপজেলার শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) নির্বাচিত হয়েছেন পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. অলিউল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন আলাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে আরা সাথী।
অন্যান্য ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতরা হলেনÑশ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ): মো. শরিফুল ইসলাম (কৃষ্ণকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা): নাসিমা সুলতানা (কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ): মো. আব্দুল মজিদ (ঝড়গাছা দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (মহিলা): সালমা বানু (৩১ নং জেয়ালা নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
এছাড়া প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেনÑ হরিহরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ওমর ফারুক। শ্রেষ্ঠ কর্মচারী: মো. সাইফুল্লাহ। উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠরা সেখানে অংশ নেবেন।

 

 

 

সাতক্ষীরায় ৮ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগী, সরকারি হাসপাতালে নেই চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৮ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগী, সরকারি হাসপাতালে নেই চিকিৎসা

ভারত-ঢাকা-খুলনামুখী রোগীরা, চিকিৎসা ব্যয়ে নিঃস্ব হচ্ছে একের পর এক পরিবার
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলায় মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও উন্নয়নকর্মীদের আশঙ্কা, জেলায় বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। তবে বিপুলসংখ্যক এই রোগীর চিকিৎসার জন্য জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়েই হাজারো রোগীকে ছুটতে হচ্ছে ঢাকা, খুলনা কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তি, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয়ের ধাক্কায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।
জেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যান্সার রেজিস্ট্রি’ বা সঠিক ডাটাবেজ না থাকায় সাতক্ষীরায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। জাতীয় গড় (প্রতি ১ লাখে প্রায় ১০৬ জন আক্রান্ত) অনুযায়ী জেলায় ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা আনুমানিক আড়াই হাজার হওয়ার কথা।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় উন্নয়নকর্মী শেখ আফজাল হোসেন জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানির কারণে মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তার দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই অঞ্চলে মৃত্যুর ঝুঁকি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ব্লাড ক্যান্সার, স্তন, কিডনি, ফুসফুস, জরায়ুমুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের সুযোগ এখানে সীমিত।
রোগীরা যখন গুরুতর অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা সদর হাসপাতালে আসেন, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক সুবিধা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। হাসপাতাল দুটির কোনোটিতেই আলাদা কোনো অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগ নেই; নেই কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।
চিকিৎসকরা বলছেনÑ ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা-গুল সেবন, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ দূষণের কারণে সব বয়সীদের মধ্যেই এখন ক্যান্সারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী পল্টু বাসার তাঁর যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর রোগ ধরা পড়ে। শুরুতে আত্মীয়-স্বজন ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় চিকিৎসা চললেও এখন তিনি অর্থসংকটে দিশেহারা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কবি পল্টু বাসার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কোনো ওষুধ বা সেবা নেই। বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর মতো টাকাও আর অবশিষ্ট নেই। ক্যান্সার মানে শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, এটি একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক যুদ্ধ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাতায়াত আর ওষুধের পেছনে মাসে লাখ টাকা চলে যায়। বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ জমি, শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।”
দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় ক্যান্সার চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন করছে জেলা নাগরিক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, “আমার বড় ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত, প্রতি দুই মাস পর পর তাঁকে বোম্বে (মুম্বাই) নিতে হয়। যার টাকা নেই, এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় তার বেঁচে থাকা মুশকিল। সাতক্ষীরায় এত বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকতেও কেন একটি ১০ বেডের প্রাথমিক ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হচ্ছে না?” নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও ফ্রি সেবার দাবি জানিয়ে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্য এক নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষ আর অবহেলার শিকার হতে চায় না। ক্যান্সার এখন নীরব মহামারি। জেলায় দ্রুত আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও সঠিক ক্যান্সার ডাটাবেজ তৈরি করা রাষ্ট্রের জরুরি দায়িত্ব।”
সরকারি সুযোগ-সুবিধার এই শূন্যতার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছেন সাতক্ষীরারই কৃতি সন্তান এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি বিশেষজ্ঞ) ডা. মনোয়ার হোসেন।
খুলনা মেডিকেলে নামমাত্র শয্যা নিয়ে ক্যান্সার ইউনিট চালু থাকলেও সাতক্ষীরার রোগীদের কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করে। তাই সরকারি দায়িত্ব পালনের পর ভালোবাসার টানে নিয়মিত সাতক্ষীরায় ছুটে আসেন তিনি, গভীর রাত পর্যন্ত রোগীদের সেবা দিয়ে আবার ফিরে যান।
ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, “মেডিকেল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি না হওয়ায় তৃণমূলের রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।” সাতক্ষীরার রোগীদের খুলনা বা ঢাকামুখী হওয়া বন্ধ করতে তিনি নিজের সমস্ত জমানো সঞ্চয় দিয়ে বিনেরপোতা এলাকায় একখ- জমি কিনেছেন। সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি। হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের প্রান্তিক রোগীরা স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক।