শার্শায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ‘গৃহবন্দী’ শতাধিক পরিবার
বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি: দেশের আনাচে-কানাচে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, দৃশ্যমান হয়েছে বড় বড় মেগা প্রকল্প। তবে এর ঠিক উল্টো চিত্র যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত রুদ্রপুর গ্রামে। এখানকার ‘খালধার পাড়া’ এলাকার মাত্র এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। দীর্ঘ এই সময়ে রাস্তাটিতে এক ঝুড়ি মাটিও না পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়। ফলে বর্ষা আসার আগেই কার্যত জনবিচ্ছিন্ন ও ‘গৃহবন্দী’ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুদ্রপুর গাঙধার পাড়ার গোলাম হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে খালধার পাড়ার মুকুল হাজির বাড়ি পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিই ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে ইরি-বোরো মৌসুমে রাস্তাটির এই বেহাল দশার কারণে কৃষকেরা মাঠের পাকা ধান কেটে সহজে ঘরে তুলতে পারছেন না। কৃষকদের মাথায় করে বা বিকল্প উপায়ে কাদার ওপর দিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে ধান বয়ে আনতে হচ্ছে। শুধু কৃষিতেই নয়, যাতায়াত ব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণে এই পাড়ার বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিয়ে দিতেও চরম বেগ পেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। ভাঙা রাস্তার অজুহাতে অনেকেই এই গ্রামে আত্মীয়তা করতে চান না।
রুদ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের মুয়াজ্জিন জিয়ারুল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের সময় এলে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা রাস্তা পাকা করার অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে আর কেউ খোঁজ নেন না। কোনো মানুষ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো উপায় থাকে না।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অতি দ্রুত রাস্তাটিতে মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অবহেলিত রুদ্রপুর খালধার পাড়ার বাসিন্দারা।












