শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

এআই ট্রাফিক জরিমানার নামে সাইবার ফাঁদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
এআই ট্রাফিক জরিমানার নামে সাইবার ফাঁদ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার জেরে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থার কারণে চালকদের মধ্যে জরিমানা বা মামলার ভয়ও বেড়েছে। আর সেই ভয়কেই এবার অস্ত্র বানিয়েছে সাইবার প্রতারকরা।

ভুয়া জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি নোটিশের আদলে পাঠানো এসব মেসেজে থাকে ভুয়া পেমেন্ট লিংক। অনেকেই যাচাই না করে লিংকে ক্লিক করছেন, আর মুহূর্তেই খালি হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালাচ্ছে। প্রথমে চালকদের মোবাইলে ট্রাফিক বিভাগের বার্তার মতো দেখতে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ থাকে— নির্দিষ্ট কোনও সড়কে গাড়িটি গতিসীমা অতিক্রম করেছে বা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে। এরপর বলা হয়, এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।

মেসেজের সঙ্গে দেওয়া হয় একটি লিংক, যা দেখতে সরকারি ওয়েবসাইট বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মতো। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ফিশিং বা ক্লোন সাইট। কোথাও .gov.bd-এর মতো ডোমেইন ব্যবহার করা হয়, কোথাও আবার bit.ly বা অন্য সংক্ষিপ্ত লিংকের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করা হয়।

শুধু তাই নয়, চালকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতেও কৌশল নেয় প্রতারকরা। এসএমএসে বলা হয়— ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে অর্থদণ্ড দ্বিগুণ হবে। এমনকি, লাইসেন্স বাতিল বা আইনি ব্যবস্থারও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে অনেকেই আর বিস্তারিত যাচাই করেন না।

এই প্রতারণার শিকার হয়ে শুধু জরিমানার টাকা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পুরো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতারণার শিকার হওয়া মোটরসাইকেল চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়, প্রগতি সরণিতে আমার বাইক স্পিড লিমিট অতিক্রম করেছে। জরিমানা দেওয়ার জন্য একটি লিংক ছিল। আমি বিকাশ দিয়ে টাকা দিতে যাই। কিছুক্ষণ পর দেখি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা উধাও।”

আবদুর রাকিব নামে এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি বাইক না চালিয়েই এ ধরনের প্রচারণামূলক মেসেজ পেয়েছিলেন। প্রথমে তার কাছেও বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিলে ডিসকাউন্টের কথাও বলা হয়। পরে বুঝতে পারেন এটা প্রতারকদের কাজ।

সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ওটিপি ও পিন সংগ্রহ করাই প্রতারকদের প্রধান লক্ষ্য। ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর ব্যবহারকারীদের বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে বলা হয়। এরপর ওটিপি বা পিন ইনপুট করার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় প্রতারক চক্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল ও ভুয়া ট্রাফিক নোটিশের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি নোটিশ সাধারণত নির্ভরযোগ্য ডোমেইন থেকে আসে এবং সেখানে সরাসরি পিন বা ওটিপি চাওয়া হয় না। অন্যদিকে, প্রতারণামূলক লিংকে প্রায়ই বানান ভুল, অস্বাভাবিক ওয়েব ঠিকানা বা অতিরিক্ত ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয় দেখা যায়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, কোনও জরিমানার মেসেজ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে গাড়ির নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনও লিংকে ক্লিক করা বা সেখানে আর্থিক তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও বলেন, কোনও অবস্থাতেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন, কার্ডের সিভিভি নম্বর বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। প্রতারণামূলক কোনও মেসেজ পেলে সেটির স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রাফিক জরিমানার নামে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে ভুয়া বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য।

ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের ঘটনায় এআই বা ভিডিও মামলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনও যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের ঠিকানায় ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। এছাড়া প্রয়োজনে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হয়ে থাকে বলেও জানানো হয়েছে।

ডিএমপি আরও জানায়, ট্রাফিক জরিমানার অর্থ কেবল অনুমোদিত অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম— উপায় ও সিবিবিএলের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। কোনও অবস্থাতেই ট্রাফিক বিভাগ মোবাইল ব্যাংকিং পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চায় না।

ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ডেল্টা-৩ শাখা, ০১৩২০-০৪২২০৭, ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

Ads small one

কামার বায়সা গ্রামে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রমজান আলীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
কামার বায়সা গ্রামে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রমজান আলীর মতবিনিময়

0-0x0-0-0#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের কামার বায়সা গ্রামে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমজান আলী।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মাওলানা রমজান আলীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা বি. এম. নুরুজ্জামান।

বাঁশদহায় মদিনাবাগ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বাকের আলীর দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
বাঁশদহায় মদিনাবাগ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বাকের আলীর দাফন সম্পন্ন

0-0x0-0-0#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের মদিনাবাগ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ আব্দুল বাকের আলীর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অসংখ্য মুসল্লি অংশ নেন।

 

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাঁশদহা ইউনিয়ন আমির মাওলানা এ.টি.এম. নাজমুল হুদা, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রমজান আলী, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. বকুল হোসেন এবং মদিনাবাগ মাদরাসার সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এএসএম কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি আজমাল হোসেন।

ধানদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামানের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ধানদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামানের গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সমাজসেবক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ নির্বাচনী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাতি ঢালিপাড়া এলাকায় এ গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মিজানুর রহমান, ডা. শামসুর জামান, মো. রোস্তম ঢালী, হাসান গাজী, আব্দুল রাবী গাজী, নজরুল ঢালী, আব্দুল মান্নান গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।