বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

আইন আছে প্রয়োগ নেই: ২০ বছরেও ঘুচেনি উপকূলের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আইন আছে প্রয়োগ নেই: ২০ বছরেও ঘুচেনি উপকূলের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য

পত্রদূত রিপোর্ট: দেশে সমান মজুরি আইন পাস হয়েছে প্রায় দুই দশক আগে। কিন্তু সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। একই সময়, একই শ্রম এবং সমপরিমাণ কাজ করেও নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন অনেক কম। দীর্ঘ ২০ বছরেও ‘সমান কাজে সমান মজুরি’ আইনের সুফল পৌঁছায়নি সুন্দরবন উপকূলের এসব সংগ্রামী নারীর কাছে।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বিশেষ করে ‘সফটশেল’ কাঁকড়া চাষে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এমনকি মাসিক বেতনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া খামারের শ্রমিক রিনা খাতুন বলেন, “সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করি। মাসিক বেতন পাই ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। কাজ সমান হলেও পুরুষ হওয়ায় তার কদর বেশি। বারবার বলে লাভ হয় না।”

একই অভিযোগ ধান কাটা শ্রমিক মুজি বেগমের। তিনি জানান, এক বেলা কাজ করলে একজন পুরুষ ৮০০ টাকা পেলেও নারীদের দেওয়া হয় ৫০০ টাকা। শ্রমিক কামরুল মল্লিক ও তার স্ত্রী ইটের কাজ করেন একসাথে। কামরুল বলেন, “আমরা একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় আমার স্ত্রীকে কম টাকা দেওয়া হয়। এটা অন্যায়।”

বেসরকারি সংস্থা সিসিটিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন মনে করেন, এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। তিনি বলেন, “নারীরা শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখলেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মালিকপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তার বলেন, “শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। এই বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও এই মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

 

Ads small one

শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে কৃষক মাঠ দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে কৃষক মাঠ দিবস উদযাপন

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে কৃষক মাঠ দিবস উদযাপন ও সফল কৃষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটায় ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ফেইথ ইন অ্যাকশন (ফিয়া)-এর ‘সাত-আইসিডিপি’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইসিডিপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শমূয়েল সাংমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জাহানারা খাতুন, পিআইয়ের সভাপতি সুষমা রানী মন্ডল, সম্পাদক শরিফা খাতুন, ৬টি সিসিসির সভাপতিবৃন্দ ও মাঠ সংগঠকেরা।

অনুষ্ঠানে স্বপন মন্ডল, নাছিমা খাতুন, দেবদাস বর্মন, ছালিমা বেগম, অনিমিতা মন্ডল ও বিমল কৃষ্ণ মিস্ত্রীকে সফল কৃষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা জেমস গাইন।

মহিলা পরিষদের আয়োজনে কর্মী সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মহিলা পরিষদের আয়োজনে কর্মী সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংগঠনিক মাস উদযাপন উপলক্ষে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা চারটায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সাংগঠনিক মাস পালিত হচ্ছে।

মহিলা পরিষদের জেলা শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না দত্ত। সমাবেশে সংগঠনটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রূপা মিত্র, পরিবেশ সম্পাদক ফরিদা খাতুন, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ মো. মফিজুল ইসলামসহ জেলা ও পাড়া কমিটির নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাাধিকার তথা নারীমুক্তির এই নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের ঐতিহ্য সংগঠনটি বহনে অঙ্গীকারবদ্ধ। আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও গণসংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এর জন্ম।

বক্তারা আরও বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার থেকে শুরু করে নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ কবি সুফিয়া কামালসহ সংগ্রামী নারীদের অবদান সংগঠনের মূল প্রেরণা। তাঁদের দেখানো পথেই নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

দেবহাটার দুই বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
দেবহাটার দুই বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: পরিবেশবান্ধব ও সবুজ বিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার দেবহাটায় দুটি বিদ্যালয়কে ‘সবুজ ও সহনশীল গ্রিন স্কুল’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের আমবাগান চত্বরে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সুশীলনের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চবিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রিন স্কুল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর কে বাপ্পা, ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্পনসরশিপ ও চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার পল্টন বিশ্বাস, টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফছার আলী এবং দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক গৌর চন্দ্র ঘোষ।

সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, সিভিএ সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিকল্প নেই। বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

এর আগে বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সবজি বাগানের উদ্বোধন করা হয়। পরে দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল দুটি বিদ্যালয়কে গ্রিন স্কুল ঘোষণা করেন।

এ সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান বক্তারা।