আজ আন্তর্জাতিক চা দিবস
২১ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক চা দিবস। ধারণা করা হয়, চায়ের উৎপত্তি উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তর মিয়ানমার কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কোনো অঞ্চলে। তবে ঠিক কোথায় প্রথম চা–গাছ জন্মেছিল, তা আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পানীয় হিসেবে চায়ের ব্যবহার নিয়ে একটি প্রাচীন চৈনিক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। চৈনিক পুরাণমতে, ঘটনাটি প্রায় ২৭৩৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের।
সে সময়কার চীন সম্রাট শেন নাং তার ভৃত্যকে পানীয় জল ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করতে বলেছিলেন। ভৃত্য যখন পানি গরম করছিল, তখন আশপাশের কোথাও থেকে কয়েকটি চা–পাতা উড়ে এসে পড়ে ফুটন্ত পানিতে। সঙ্গে সঙ্গে পানির রং হালকা বাদামি হয়ে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি এক সুগন্ধ। সম্রাট কৌতূহলী হয়ে সেই পানীয় পান করেন। মুহূর্তেই তার শরীর চাঙা হয়ে ওঠে। স্বাদ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে তিনি পানীয়টি গ্রহণ করেন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, এভাবেই মানুষের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত হয় চা।
এটি নিঃসন্দেহে বহু-বহু পুরোনো গল্প। কিন্তু সন্দেহ নেই, চা বহু শতাব্দী ধরে মানুষের প্রিয় পানীয় হিসেবে খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। প্রমাণসিদ্ধ তথ্যমতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনের মানুষ প্রথম চা পান শুরু করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চায়ের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বর্তমানে পানির পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা পানীয় হচ্ছে চা।
জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী দিনটি উদ্যাপন করা হয়। স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে চায়ের অবদান তুলে ধরতেই এই দিবসের প্রচলন। বর্তমানে বিশ্বের অল্প কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে চা চাষ হয় এবং এই শিল্প প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদ্র চাষি ও তাদের পরিবার, যারা প্রত্যক্ষভাবে চা–শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে চা–শিল্প জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।
বাংলাদেশে প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয় ১৮৪০ সালে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদনের সূচনা ঘটে ১৮৫৭ সালে, সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান–এ।









