বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনির বুড়িয়া আড়ং মেলায় তিন মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বুড়িয়া আড়ং মেলায় তিন মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন

Oplus_131074

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলার মাঠে তিনটি মন্দিরের দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিসর্জন দেওয়া প্রতিমাগুলোর মধ্যে ছিল বড়দল বাজার মন্দির, বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও ফকরাবাদ সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বুড়িয়া আড়ং মেলার মাঠে ভক্ত-অনুরাগীসহ হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

ধর্মীয় রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে এক ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের কাছে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এ মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমাগম ঘটে।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান, এএসআই অমিত হাসানসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া হাজারো ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জনের এ আয়োজনে অংশ নেন।

 

Ads small one

মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার পথে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার পথে

সরকারের ঋণ বাড়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ বেড়ে রেকর্ড ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে, বিদেশি ঋণের নতুন অর্থছাড় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কম। বিপরীতে, আগের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার— নতুন অর্থছাড়ের প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ।

একই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে এই ঋণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দেশের জনসংখ্যা আনুমানিক ১৭ কোটি ৫০ লাখ ধরে হিসাব করলে মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৬০ লাখ ধরলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ হবে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, জনসংখ্যার হিসাবভেদে অঙ্ক কিছুটা পরিবর্তিত হলেও অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি থাকতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন শেষে মাথাপিছু ঋণ ওই অঙ্কের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার টাকা বাড়তে পারে।

তবে অর্থবছর শেষে সরকারের প্রকৃত ঋণের স্থিতি, জনসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের ওপর চূড়ান্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ নির্ভর করবে। মাথাপিছু ঋণ বলতে সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় অঙ্ক বোঝায়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ নয়।

দুই বছরে সরকারি ঋণ বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ প্রায় ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সে হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় দুই বছরে ঋণের স্থিতি বাড়তে পারে প্রায় ২৩ শতাংশ।

ঋণ বাড়ার এই প্রবণতা পরবর্তী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকার প্রাক্কলন রয়েছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অর্থাৎ, আগামী দুই অর্থবছরেও সরকারের ঋণ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এদিকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি আগের ‘নিম্ন’ পর্যায় থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। গত মার্চ শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। তিন মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এই বৃদ্ধির প্রধান অংশ এসেছে সরকারি খাতের ঋণ থেকে। মার্চ শেষে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ১৪ কোটি ডলার কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ২০ পয়সা বিনিময় হার ধরে হিসাব করলে, জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যা ধরে মাথাপিছু মোট বিদেশি ঋণ প্রায় ৮১ হাজার টাকা এবং সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ৬৭ হাজার টাকা।

তবে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ও সরকারের সরাসরি বিদেশি ঋণ এক বিষয় নয়। সরকারি খাতের হিসাবে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণও অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণের মাথাপিছু অঙ্কের সঙ্গে সরকারের মোট মাথাপিছু ঋণ যোগ করলে দ্বৈত গণনার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ জিডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ ছিল।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এর পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ছিল ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রায় ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।

ঋণের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী পরিশোধের সময়সূচি আলাদা হওয়ায় মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি কোন সময়ে কত ঋণ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঋণ ছাড় কমেছে ৬১ শতাংশ, পরিশোধ বেড়েছে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তা পেয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ২৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার এবং অনুদান ৩১ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে এডিবি, প্রায় ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। একই সময়ে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও সীমিত ছিল। জুলাই ও আগস্টে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ২৪ কোটি ডলারের।

অন্যদিকে, আগের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার সমান। এর মধ্যে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি।

নতুন অর্থছাড়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ও ঋণ পরিশোধের হিসাব অনুযায়ী নিট প্রবাহ প্রায় ৪০ কোটি ডলার ঋণাত্মক হয়েছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও একই সময়ে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমে যাওয়ায় নিট প্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ইআরডির আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ রেকর্ড ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের আসল পরিশোধ ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যাংক খাত থেকেও বাড়ছে সরকারের ঋণ

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। গত জুনের শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণ জুনের শেষের ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০ আগস্টে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তা পাঁচ গুণেরও বেশি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসেই ওই লক্ষ্যের ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশের সমপরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা ব্যাংকগুলোর তারল্য, ঋণের চাহিদা এবং সুদের হারের ওপর নির্ভর করে। ব্যাংকগুলোর তহবিলের বড় অংশ সরকারি ঋণে ব্যবহৃত হলে বেসরকারি ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য ঋণপ্রবাহ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাজেটের ১৪ শতাংশ যাবে সুদ পরিশোধে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইসঙ্গে পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধেও বাজেটের বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সরকারের সুদ ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন খেলাপি। এর আগের প্রান্তিক, অর্থাৎ মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল। ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

মাথাপিছু ঋণ নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রাক্কলন এবং বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হওয়া স্বাভাবিক। তবে মাথাপিছু ঋণের অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক নাগরিককে সরাসরি ওই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই গড় হিসাব করা হয়। কিন্তু ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারি বাজেটের ওপরই পড়ে। আর এই বাজেটের অর্থের বড় উৎস হলো কর ও অন্যান্য রাজস্ব আয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, সরকার ঋণ নিয়ে কী করছে এবং সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কি না। ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু অপচয়, দুর্বল প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে বিলম্ব কিংবা প্রত্যাশিত আয় না এলে ঋণ বাড়লেও তার সুফল সীমিত থাকবে। তখন ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে উন্নয়ন ও জনসেবার অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’’

‘‘বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার, সুদের হার ও পরিশোধের সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। টাকার অবমূল্যায়ন হলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে আগের চেয়ে বেশি দেশীয় মুদ্রার প্রয়োজন হয়। তাই ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এর শর্ত, অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের ফলাফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। এ বিষয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো উচিত’’, বলেন তিনি।

ঋণের বোঝা ও অর্থনীতির সক্ষমতা

সরকারি ঋণের প্রভাব নির্ধারণে মোট ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত, রাজস্ব আয়, সুদের হার, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক কম সুদের ঋণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, ঋণের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন, আয় বা অর্থনৈতিক সুফল না এলে ঋণ পরিশোধের দায় বহাল থাকে। বিদেশি ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধে সরকারের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়।

ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটের বরাদ্দ বাড়লে অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণও প্রভাবিত হতে পারে। একইভাবে, রাজস্ব আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে বাজেট ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন হতে পারে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের পরিকল্পনা

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থায়নের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ জন্য কর ও করবহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার ও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজার সংস্কার এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা অনুসরণের কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরগুলোতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি বাড়তে পারে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় এবং বাজেটে সুদ ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

 

সমীকরণ মেলাতে পারেনি, আফগানদের দাপুটে জয়ে বাংলাদেশের বিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সমীকরণ মেলাতে পারেনি, আফগানদের দাপুটে জয়ে বাংলাদেশের বিদায়

জয়ের বিকল্প ছিল না, সঙ্গে মিলতে হতো কঠিন এক সমীকরণও। কিন্তু ব্যাট হাতে বাংলাদেশ গড়তে পারলো না লড়াইয়ের পুঁজি। বোলাররাও আটকে রাখতে পারলেন না আফগানিস্তানকে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে তাই ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাওহীদ হৃদয়দের। ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর আফগানদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের বড় হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

আবু ধাবিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পায়নি। ব্যাটিংয়ে ধস নামায় ১৬০ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণও ছিল কঠিন। জবাবে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পেতো বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, আফগান ব্যাটারদের সামনে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করেছে আফগান দল।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে তারা। ফাইনালে দলটির প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।

ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?

আদালতের নির্দেশে ২০২৭ সালের জন্য ডাইভার্সিটি গ্রিন কার্ড লটারি বা ডিভি কর্মসূচি আবার চালু করতে বাধ্য হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যেসব দেশ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসী আসে, সেসব দেশের মানুষের জন্য এটি স্বস্তির খবর।

১৪ অক্টোবর মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও পররাষ্ট্র দফতরকে বিলম্বিত ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দেন। ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ থেকে কম অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে যায়, সেসব দেশের মানুষকে স্থায়ী বসবাসের পথ করে দেয় এই কর্মসূচি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র দফতর কর্মসূচিটি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, নিবন্ধনের তারিখ যথাসময়ে জানানো হবে। এ বিলম্ব শেষ পর্যন্ত কর্মসূচির কার্যক্রমকেই হুমকির মুখে ফেলে। রেড ঈগল-এর পক্ষে অ্যাটর্নি কার্টিস মরিসন নিবন্ধনের সময়সীমা না দেওয়ায় রুবিওর ব্যর্থতাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন।

নিবন্ধন না হলে কোনও আবেদনকারী থাকে না, লটারিতে নির্বাচনও হয় না, ফলে ২০২৭ সালে কর্মসূচি কার্যকর থাকে না। মরিসন যুক্তি দেন, নিবন্ধনের সময় আবার চালু না করায় কার্যত কর্মসূচিটি বাতিল হয়ে গেছে। বিচারক ওহতা এ যুক্তি মেনে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন। এর আওতায় সরকারকে নিবন্ধনের ঘোষণা দিতে, ৩০ দিনের নিবন্ধনের সময় রাখতে, নির্বাচিত আবেদনকারীদের জানাতে এবং পররাষ্ট্র দফতরকে স্বাভাবিক মান অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া করতে হবে।

আদেশ অনুযায়ী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের বিবরণ ঘোষণা করতে হবে, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে হবে এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের জানাতে হবে। ভিসা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় দেরি হলে বিজয়ীদের আশা তাতে ভেস্তে যেতে পারে।

আদালতের আদেশের পর প্রশাসন আপিল করেছে। আপিল বা স্থগিতাদেশ এ বাধ্যবাধকতা বদলে দিতে পারে। মরিসন বলেন, ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে আমরা এটি আবার ঘটতে দেব না। তার যুক্তি, নিবন্ধনের জয় শেষ পর্যন্ত বাস্তব ভিসা প্রক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে গড়াতে হবে।

কর্মসূচিটির উৎপত্তি প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্বাক্ষরিত ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইন থেকে। ১৯৬৫-পরবর্তী ব্যবস্থায় কিছু দেশ থেকে অভিবাসীর সংখ্যায় যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছিল, তার জবাবেই এটি তৈরি। পারিবারিক বা দক্ষতাভিত্তিক অগ্রাধিকারের বাইরে পথ খুলে কম প্রতিনিধিত্বের গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশাধিকার ফেরানোই ছিল লক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে মূল লক্ষ্যগোষ্ঠীর চাহিদা কমায় আফ্রিকান সুবিধাভোগীদের অংশ বেড়েছে। কর্মসূচির বরাদ্দে আবেদনকারীর স্ত্রী ও সন্তানরাও গণ্য হন। অর্থাৎ ৫৫ হাজার মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তাদের পরিবার নয়।

নিবন্ধনের পথ খুলে দিলেও লটারিতে নির্বাচিত হওয়া ভর্তির নিশ্চয়তা নয়। পররাষ্ট্র দফতরের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল আবেদনকারীদের উপযুক্ত হাইস্কুল শিক্ষা বা যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে চাকরির প্রস্তাব সাধারণভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এ ছাড়া অপরাধমুক্ত থাকা এবং আগে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন না করার মতো প্রযোজ্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

সমালোচকদের যুক্তি, এসব ভিসা বরং ব্যতিক্রমী কর্মী বা বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহার করা উচিত। তবে এর পাল্টা যুক্তি হলো, কংগ্রেস সেসব পথ বাড়িয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে সম্পর্ক নেই এমন মানুষের জন্য সীমিত সুযোগ বজায় রাখতে পারে।

১৯৯০ সালের আইনের অন্যতম প্রণেতা সাবেক প্রতিনিধি ব্রুস মরিসন বলেছিলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হলো বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে স্বনির্বাচিত পরিশ্রমীদের আকৃষ্ট করা।

সূত্র: ফোর্বস