শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালের বন্যা: সীমান্তহীন জলবায়ু সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
নেপালের বন্যা: সীমান্তহীন জলবায়ু সংকট

নিকোলাস বিশ্বাস

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বিশ্বকে এক কঠিন বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে: জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। এগুলো জাতীয় সীমান্তে থেমে যায় না, ধনী-দরিদ্র দেশের মধ্যে পার্থক্য করে না, আর কোনো দেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে সামান্য অবদান রাখে বলে তাকে রেহাইও দেয় না। জলবায়ু পরিবর্তন একটি অভিন্ন বৈশ্বিক সংকট হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সেই দেশগুলোতেই, যারা এই সমস্যার জন্য সবচেয়ে কম দায়ী।

 

নেপাল এই বৈষম্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বৈশ্বিক নিঃসরণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে ০.১ শতাংশেরও কম অবদান রাখে, অথচ দেশটি জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা দেখিয়েছে, কীভাবে চরম আবহাওয়া দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে-ধ্বংস করতে পারে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবিকা।

 

নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে এই ট্র্যাজেডি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালার আবাসস্থল নেপাল হিমালয় অঞ্চলের অংশ, যাকে বিপুল বরফ-মজুদের কারণে কখনও কখনও “তৃতীয় মেরু” বলা হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গত তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে- যা পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও হিমালয়-নির্ভর নদীর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

 

হিমবাহ দ্রুত গলে পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ সৃষ্টি হতে পারে, যা অস্থিতিশীল হয়ে হঠাৎ নিচের দিকে ভয়াবহ বন্যা ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে হিমবাহের অব্যাহত ক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে পানির প্রাপ্যতাকেও হুমকির মুখে ফেলে। ফলে উঁচু পাহাড়ে যা ঘটছে, তা বহুদূরের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ ও প্রাণহানির চিত্র এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকারীরা বিপজ্জনক বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। এদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত মর্মান্তিক ঘটনা- পরিবার বিচ্ছিন্ন, ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া, জনপদের ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। এই দুর্যোগ শুধু সম্পদ নয়, কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তাবোধও।

 

দ্য হিন্দু-এর নেপালের আকস্মিক বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতি লাইভ রিপোর্টে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আর প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। আজ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করেছে। এগুলো নিছক শুধু পরিসংখ্যান নয়- এগুলো এমন মানুষের জীবন, যা সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়েছে।

 

এটাই জলবায়ু পরিবর্তনের মৌলিক অবিচার: যারা এই সংকটে সবচেয়ে কম অবদান রেখেছে, তারা প্রায়ই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়। দশকের পর দশক ধরে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বড় অংশের জন্য দায়ী। ইউএনইপি নির্গমন ব্যবধান প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির জোট জি২০ দেশসমূহ ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৭৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। অন্যদিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো- যারা বৈশ্বিক নিঃসরণে সামান্য অবদান রেখেছে- জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদের উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি। এই বৈষম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে: যে সংকটের জন্য গুটি কয়েকটি দেশ বহুলাংশে দায়ী তার জন্য সবাই সমানভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে না। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার খরচ কে বহন করবে?

 

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি ন্যায়বিচার, উন্নয়ন, দারিদ্র্য, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়। সম্প্রতি, নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যা সেখানকার জনগোষ্ঠীর কয়েক দশকের উন্নয়ন-অর্জন কয়েক ঘণ্টায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ঘটনায় মাত্র কয়েক মুহুর্তের মধ্যে নেপালের বিধ্বংস্থ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, সেতু, স্কুল, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যায়।

 

দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারের জন্য একটি ঘর বা জীবিকা হারানোর অর্থ হতে পারে বছরের পর বছরের দুর্ভোগ। এর প্রভাব দুর্যোগ-এলাকাতেও সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবহন, বিদ্যুৎ ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়, কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর পুনর্র্নিমাণের ব্যয় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জরুরি খাত থেকে সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য করে।

 

এ কারণেই জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। দেশে-দেশে এর ব্যাপ্তি ও প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। বায়ুমন্ডল রাজনৈতিক সীমান্ত মেনে চলে না; একটি দেশে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড বৈশ্বিক বায়ুমন্ডলে মিশে সর্বত্র উষ্ণতা বাড়ায় যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী নিঃসরণ কমানোর দায়িত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বেশি নিঃসরণকারী দেশগুলোর ওপর দক্ষিণ এশিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলকে সহায়তা করারও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এখানেই রয়েছে জলবায়ূ ন্যায়্যতা।

 

নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রয়োজন। তবে শুধু অভিযোজন দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অভিযোজনেরও সীমা রয়েছে। তাই বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে মূল কারণ, অর্থাৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

নেপালের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও শক্তিশালী বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ পরস্পর-সংযুক্ত জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, খরা, তাপপ্রবাহ। হিমালয়ে যা ঘটে তা নিম্নাঞ্চলের নদীব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে; এক দেশে যা ঘটে তা অন্য দেশের জন্যও ভয়াবহ পরিণতি তৈরি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহবস্থান ও যৌথ সমাধান; যেমন: দুর্যোগ প্রস্তুতি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নদী ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, এবং জাতিসংঘ ও বিধিবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সরাসরি আর্থিক ও অর্থবহ কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জলবায়ু মোকাবিলার কার্যক্রম শুধু বক্তৃতা ও ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বন্যা ও বিলীন হয়ে যাওয়া হিমবাহের মুখোমুখি মানুষদের প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ- নিরাপদ অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য সতর্কবার্তা, সহনশীল জীবিকা, সহজলভ্য অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংহতি।

 

বন্যার কবল থেকে মানুষ তুলে আনার দৃশ্য কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র নয়- এটি বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে মানুষ, যাদের জীবন ও জীবিকা কোনো না কোনোভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

 

নেপালের অভিজ্ঞতা আমাদের জলবায়ু-দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। কোনো দেশের কার্বন নিঃসরণ সামান্য হলেও তার ঝুঁকিপ্রবণতা হতে পারে বিপুল। বিপরীতভাবে, বেশি কার্বন নিঃসরণকারী জি২০ দেশগুলোর উচিৎ ভুক্তভোগী দেশগুলোকে সহায়তা করা; যাতে জলবায়ূ ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি অসম। নেপালের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসা এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জলবায়ু সংকট থেকে নিরাপদ দূরত্ব বলে কিছু নেই। রাজনৈতিক সীমান্ত দেশগুলোকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু আমাদের গ্রহকে সংযুক্ত রাখা বায়ুমন্ডল, মহাসাগর, নদী ও আবহাওয়া ব্যবস্থা থেকে কোনো দেশকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।

 

জলবায়ু দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না। তেমনি এগুলো প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সুরক্ষিত করার দায়িত্বেরও কোনো সীমান্ত থাকা উচিত নয়। সম্মিলিতভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।

 

এখন সময় এসেছে বিশ্বের উপলব্ধি করার যে, জলবায়ু ন্যায্যতা কোনো দয়া বা দান নয়; এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। বিশ্বের এক প্রান্তে সৃষ্ট নিঃসরণ যদি অন্য প্রান্তের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, তাহলে জলবায়ু মোকাবিলার পদক্ষেপ, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সংহতিকেও সীমান্ত অতিক্রম করতে হবে।

 

নেপালের বন্যাকে একটি বিচ্ছিন্ন জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটিকে দেখা উচিত সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে: পরিবর্তিত জলবায়ু থেকে কোনো দেশ একা রক্ষা পেতে পারে না, এবং এর পরিণতি মোকাবিলায় কোনো দেশকেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

Ads small one

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবশিঘ্রই ভিসি নিয়োগ: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবশিঘ্রই ভিসি নিয়োগ: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

পত্রদূত ডেস্ক: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান তৃতীয় অধিবেশনে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারী ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলার জনসংখ্যা ২১ দশমিক ৯৭ লাখ এবং খানার সংখ্যা ৫ দশমিক ৬৭ লাখ। এই বিপুল জনসংখ্যান জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্ঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাতক্ষীরা একটি জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণঙ্গভাবে চালু হলে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী, তথ্য প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, কৃষি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা উদ্ভাবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ রয়েছে। ব্যানবেইস এর তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, শ্যামনগর ও আশাশুনি চারটি উপজেরায় আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

 

এছাড়াও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা সাব রিজিউনাল সেন্টার এর অধীনে স্টাডি সেন্টার তালিভুক্ত রয়েছে। এসব তথ্য জেলার উচ্চ শিক্ষা, প্রযুক্ত নির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে একটি বিদ্যমান ভিত্তি স্থাপন করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনী ভিত্তি ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। খুবশিঘ্রই ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

্উল্লেখ্য, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয়।

শ্যামনগরের চকবার-গাইনবাড়ী সড়ক ভেঙে গেছে, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের চকবার-গাইনবাড়ী সড়ক ভেঙে গেছে, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবার থেকে গাইনবাড়ী যাওয়ার একমাত্র সড়কটি ভেঙে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারি বর্ষণের চাপে রাস্তাটি বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ঘের ও খালের সঙ্গে প্রায় একাকার হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই রাস্তাটি তিনবার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ, নারী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষার পর দায়সারা গোছের সাময়িক মেরামত করা হলেও কোনো টেকসই সমাধান করা হয় না। যে কারণে সামান্য বৃষ্টি বা পানির চাপে বারবার একই চিত্র ফিরে আসে। এই পরিস্থিতিতে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। জরুরি ভিত্তিতে কেবল জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার নয়, বরং স্থায়ীভাবে রাস্তাটি উঁচুকরণ ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে চকবার–গাইনবাড়ী সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার এবং জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

পাইকগাছায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পাইকগাছায় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় পূজা মন্দির সরল কালীবাড়িতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা শাখার আহবায়ক শ্রী প্রাণকৃষ্ণ দাশের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শ্রী হিমাদ্রী শেখর দে ও সন্তোষ সরদার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বিএনপি সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাসী। অতীতের মতো বিএনপি বর্তমানেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, সকল ধর্মের লোক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসাথে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। দেশকে গড়তে হলে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

 

সেজন্য সকল ধর্মের মানুষের সাথে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি তাঁর নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বহুগোত্রের অনেক বর্ণের, নানান সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর জনসাধারণের সমন্বয়ে গঠিত দেশ, এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে কোন গোষ্ঠী নাই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী সাধন কুমার ভদ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ, থানা অফিসার-ইন-চার্জ মোঃ আব্দুল আউয়াল, উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি শ্রী সমীরণ কুমার সাধু, জেলা শাখার সদস্য শ্রী অলোক মজুমদার।

অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব ইমদাদুল হক, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আব্দুস সত্তার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, বিএনপি নেতা সেলিম রেজা লাকি, মোস্তফা মোড়ল, রুহুল কুদ্দুস, শ্রী মৃত্যুঞ্জয় সরদার, জগদীশ দে, কৃষ্ণেন্দু দত্ত, মানবেন্দ্র মন্ডল, সুরঞ্জন চক্রবর্তী, রবীন্দ্র নাথ রায়, সন্তোষ কুমার সরকার, সুজিত কুমার মন্ডল, বাবুরাম মন্ডল, মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জিএম রাসেল ইসলাম, মমিনুর রহমান সাগর, ইয়ারুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

 

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রীমতী রমা পাল গীতা পাঠ করেন। আলোচনা সভা শেষে পাইকগাছা সদরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।