মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষার্থী নেই, আছে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষার্থী নেই, আছে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক -কর্মচারী রয়েছে ১৭ জন। শিক্ষার্থীবিহীন আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলো রাতে বসে মাদকের আড্ডা, দিনে ছাগল গরু বিচারণ করে। ইটের তৈরী ভাংগাচোরা শ্রেণী কক্ষগুলোতে রাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আড্ডা বসে, দিনে গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দির্ঘদিন মাদ্রাসার কোন কার্যক্রম না থাকায় দানীয় জমি ফেরৎ চেয়ে ইউএনও দপ্তরে আবেদন করেছে দাতারা।

উপজেলার দক্ষিণ সোনাতন কাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে ৩২ শতক জমির উপর সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার জন্য স্থানীয় রেখা বেগম, আনোয়ারা বেগম ও আকবর মোড়ল সম্পত্তি দান করেন। শর্ত ছিলো শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে জমি দাতা বা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফেরত যাবে। জমিদাতা আকবর মোড়ল জানান, কয়েকবছর মাদ্রাসা ভালভাবে ছলছিলো। কিন্তু সুপারিন্টেন্ডেন্টের নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়েছে। ২০১১ সাল থেকে কোন ক্লাসে একজনও শিক্ষার্থী নেই। নেই কোন শ্রেণী কক্ষ বা শিক্ষা উপকরণ।

 

এদিকে ২০০১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাঃ রুহুল কুদ্দুস মাদ্রাসা উদ্ধোধন করেন এবং আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন। তবে জাল জালিয়াতি করে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন এমনটি জানালেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে প্রতি বছর সরকার প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বই চাহিদা দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে নিয়ে থাকেন।

 

চলতি বছর চাহিদা দিয়ে ছিলেন ২২৫ সেট। তারা পেয়েছেন প্রাক প্রাথমিক সহ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১৫ সেট করে, দাখিল ৬ ষ্ট শ্রেণী থেকে দাখিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১০ সেট করে। এবিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম জানান, যেহেতু নন এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাদের বইয়ের চাহিদা আরও বেশি ছিলো কিন্ত কম দেয়া হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা ও পেয়ে আসছেন। কিন্তু কিভাবে পাচ্ছেন এ জিজ্ঞাসা সকলের।

 

এবিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর দাখিল পরীক্ষা দেয়া হয়। এবছরও পরীক্ষা দিয়েছে। সম্প্রতি বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসা হয়ে সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাড়ীতে সরজমিনে গেলে তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুনকে তার বাড়ীতে ধান শুকাতে দেখা যায়। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে আমি এই মাত্র ক্লাস নিয়ে আসলাম। অতচ মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলোতে গোখাদ্য ও ছাগল বাধা ছিলো। কোন অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাষক শফিয়ার রহমান জানালেন, এতো জালিয়াতি ও দুর্নীতি আমি কোন প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু বরাদ্দ হয় সবই স্বামী ও স্ত্রী আত্মসাৎ করেন। জমি দাতা আকবর মোড়ল বলেন, যেহেতু আমরা মাদ্রাসা করার জন্য জমি দান করছিলাম কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে নেই যুগযুগ ধরে। একারণে আমাদের জমি ফেরৎ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছি।

সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগর আলীর সাথে মুঠোফোন কয়েকবার ফোন করার পর একবার রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এমনও প্রতিষ্ঠান পাইকগাছায় আছে! খোজ খবর নিয়ে বিষয়ে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

 

 

Ads small one

বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাজার থেকে নলতা ঘাট অভিমুখী পাকা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ধসে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিকল্প (বাইপাস) সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়কটি দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান ধসে যাওয়া অংশের পরিমাপ সম্পন্ন করেছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির মূল সংস্কারকাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।
জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধসে যাওয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়।

নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি পুকুরে বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে সব মাছ ধরে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লিজ নেওয়া পুকুরে এই বর্বরোচিত চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মৎস্য চাষি মো. কুরমান আলী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুনগোলা গ্রামের গোপাল সাধুর মালিকানাধীন একটি বড় পুকুর লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন বর্তমান ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও পুকুরটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পুকুরের পানিতে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে। এতে পুকুরের সব মাছ নিমিষেই মারা যায় এবং ভেসে ওঠে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা অধিকাংশ মাছ ধরে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লিজগ্রহীতা কুরমান আলীকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিষ প্রয়োগের ফলে পুকুরের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ মারা গেছে। এতে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জেরে নাকি কেবলই মাছ চুরির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মৎস্য চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর ও ফিংড়ী (বিডিএফ) প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কমিটির সভাপতি জি এম আমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরশাদ আলীর কাছে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বাবু, আহ্বায়ক এস এম ইসমাইল হোসেন, সদস্যসচিব মো. মুকুল হোসেন ও সদস্য মো. মেহেদী হাসান শিমুল নতুন কমিটির কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় বিডিএফ প্রেসক্লাবের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ হাসান, সাধারণ সম্পাদক নাসিম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল গালিব, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সলেমান মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল আহাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
এ ছাড়া ফয়জুল্যাপুর ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকেও নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাকিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু ওবায়দা গাজীর নেতৃত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এম এম জাহাঙ্গীর আলম, মো. রাসেল হোসেন রাহী ও এম এ রাসেলসহ সংগঠনের অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।