প্রসঙ্গ: বন সংলগ্ন লোকালয়ে ইকো রিসোর্ট
মুক্তমত
এম শফিকুল ইসলাম
সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বন- সংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীরবর্তী লোকালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্ট ঘিরে এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি স্থানীয় জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব রিসোর্ট। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন ঢাংমারি খালের তীর ঘেঁষে ১৩টি বন থিমযুক্ত ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ।
গোলপাতা, কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি অন্যান্য নকশা করা রিসোর্ট গুলো দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক প্রশান্তির পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। একসময় ভ্রমনের কষ্ট এবং সুযোগ- সুবিধার অভাবে পর্যটকরা এখানে আসতে চাইত না। কিন্তু এখন বেসরকারি উদ্যোগে এসব ইকো রিসোর্ট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকরা এখন আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা উপভোগ করতে পারেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ফলে বৈধ অবৈধভাবে বনের সম্পদ থেকেই জীবিকা আহরণ করতে হতো। কিন্তু এখন গ্রামে ইকো রিসোর্ট গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আর সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংস করতে হয় না।
এসব রিসোর্ট ঘিরে গ্রামের পরিবেশও পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তাদের জীবন-জীবিকাও সার্বিক কর্মকা-ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। নিত্যদিনের একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি এড়াতে গিয়েছিলাম সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের ইরাবতী ইকো রির্সোট অ্যান্ড রিসার্জ সেন্টার ও পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এন্ড কালচারাল সেন্টারে। অপরূপ সাজে রিসোর্ট কেন্দ্রটি।
বৈচিত্র্যপিপাসু পর্যটকদের ঢল নেমেছে এখানে। মনকে সজীব রাখার জন্য কিছু সময় নিজের কর্মকা-কে ভুলে থেকে সুখ আর প্রশান্তিতে অবগাহন করছে বিনোদন প্রিয় পর্যটকরা। পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কালাম খান জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী আঁখি সিদ্দিক সর্বপ্রথম ২০২১ সালে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কাজ শুরু করে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করেন। পরে একই এলাকায় ২০২৩ সালে পিয়ালী ইক রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারলি সেন্টার গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন। বর্তমানে ঢাংমারি গ্রামে ১৩ টি রিসোর্ট চালু রয়েছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে আরো ৭টি ইকো রিসোর্ট চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব ইকো রিসোর্ট সুন্দরবনের বাইরে, সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গড়ে উঠেছে। এখানে একদিকে যেমন দেশ-বিদেশি পর্যটকরা অবস্থান করে খুব কাছ থেকেই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিক সচ্ছলতায় ফিরে আসছে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন ঘাগরামারী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শাহ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, অনুন্নত বনসংলগ্ন এলাকায় এই রিসোর্টগুলো গড়ে ওঠা স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে বন উজাড় ও কমেছে।
পর্যটন উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ সুন্দরবন অঞ্চলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এটি জাতীয় পর্যটন অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করবে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বন বিভাগ আরো চারটি নতুন পর্যটন অঞ্চল যুক্ত করেছে। এগুলো হলো- শরণ খোলার আলীবান্ধা, চাঁদপাই বেঙ্চের আন্ধার মানিক, খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কৈলাশগঞ্জ।
এছাড়া কটকা, কচিখালি, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কলাগাছিয়া,করমজলসহ নতুন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। লেখক : সাংবাদিক ও নাট্যকার












