মালয়েশিয়ায় একই গাছে কাঁচা-পাকা আমের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে জেলা শাখার উদ্যোগে জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক প্রভাষক মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা গণসংহতি আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলফাত হোসেন, প্রভাষক রবিউল ইসলাম, সদস্য সচিব রুবেল গাইন, শ্যামনগর উপজেলা জিএসএর আহ্বায়ক জিএম মাহফুজ, আশাশুনি উপজেলা জিএসএর সদস্য সচিব ছুরাত আলী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জিএসএর সংগঠক প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সংগঠক মাসুদ, জেলা কমিটির সদস্য নাজনীন নাজরানা বেবীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬১ বছরের পুরাতন ভবনে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর ৬১ বছর ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছ ঐতিহ্যবাহী ওই বিদ্যালয়টি।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এতো দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৬৫ সালে এলাকার কয়েকজন গুণী মানুষের হাত ধরে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়টিতে পড়া- লেখা করলেও শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কমনরুম, শিক্ষকদের জন্য আলাদা টয়লেট ও ভবনের অবস্থা নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদের মধ্যে দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। যে কোন সময় এই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, পুরোনো ভবনের কারণে তারা অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব আল-হাসান বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করার সময় ভয় লাগে। আমরা দ্রুত নতুন ভবন চাই।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিহাব উদ্দিন বলেন, “ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে ফাটল ধরেছে বিভিন্ন স্থানে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।” একজন অভিভাবক রাবেয়া বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে ছেলে মেয়েদের কাটিয়ে সারাক্ষণ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় থাকতে হয়। সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও উন্নত হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুন্ডু বলেন, “বিদ্যালয়ের ভবনটি অনেক পুরোনো এবং জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভবনটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। শ্রেণি কক্ষে যাতে কোনো ভাবেই পাঠদান না করানো হয় সেটি বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সংবাদদাতা: ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় দুই দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলবে।
সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন (সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন আলমের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা ও লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মহসিন আলম নিজে সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে মাইকিং করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত বার্তা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা সদর থানার ভেতরের ড্রেন ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের বিভিন্ন স্থানে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি অপসারণ, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে মহসিন আলম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে সামান্য জমে থাকা পানিতেও এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে চারপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে আমাদের বাংলাদেশ আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল সাতক্ষীরা নয়, সারা দেশেই জোরালোভাবে পালন করা প্রয়োজন। দলীয় নেতা-কর্মী কিংবা সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণ একযোগে এগিয়ে এলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জোরদার হবে।