মালয়েশিয়ায় একই গাছে কাঁচা-পাকা আমের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে নানা আয়োজনে বিশ্বকর্মা পূর্জা অনুাষ্ঠত হয়েছে। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে এই পূজা হয়। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র, পারিবারিক মন্দির ও বাড়ীতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার পৌর বাজার, কপিলমুনি, বাঁকা বাজার, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন মন্দির, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র, পারিবারিক মন্দির ও বাড়ীতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাইকগাছার নতুন বাজার মন্দিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পূজার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন, পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক পলাশ ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ নিরঞ্জন বিশ্বাস, সুভাষ দেবনাথ, তপন দেবনাথ, পবিত্র বিশ্বাস, গোবিন্দ বিশ্বাস, স্বপন বিশ্বাস, তরুন চৌধুরী, উৎপল কর্মকারসহ ভক্তবৃন্দ।
বিশ্বকর্মা পূজা হিন্দুদের একটি ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বকর্মা পূজা হলো হিন্দু স্থাপত্য ও প্রকৌশলের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা এবং কারিগর, শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একটি পবিত্র উৎসব। হিন্দু শাস্ত্রে বিশ্বকর্মাকে দেবশিল্পী ও বিশ্বের স্্রষ্টা বলা হয়। তিনি দ্বারকা নগরী, লঙ্কা এবং দেবতাদের বিভিন্ন অস্ত্র ও রথ তৈরি করেছিলেন। কলকারখানা, গ্যারেজ, এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন এই দিনে শ্রদ্ধাভরে পূজা করেন।
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পৃথক মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাটকেলঘাটা থানার মামলা নং-০৭(০৯)/২৬, ধারা ৩৭৯/৪১১ দন্ডবিধির এজাহারনামীয় আসামি পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের আজগর শেখের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার মামলা নং-০৮, তারিখ ১৭/০৮/২০২৬, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৯(১)/৩০ এরএজাহারনামীয় আসামি পাটকেলঘাটার নোয়াকাটি গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর সরদারের ছেলে মোঃ হৃদয় হোসেন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে বিধি মোতাবেক পুলিশ প্রহরায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ফটিকখালী গ্রামে ৪ একর ৪৩ শতক জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ প্রভাবশালী আবু তালেব গংদের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফটিকখালী মাঠে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জমির মালিক দাবিদার ফটিকখালী গ্রামের মৃত অশ্বিনী সানার ছেলে ভূপতি সানা ও তাঁর পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, গেজেটে দাগ নম্বরের ভুল থাকায় কাপসন্ডা মৌজায় ৫৬ খতিয়ানে ৪ একর ৪৩ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছে। এ নিয়ে ২০১২ সালে সাতক্ষীরা সিভিল কোর্টে মামলা করেন তারা। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মে ওই মামলায় আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন বলে দাবি করেন ভূপতি সানা।
তিনি বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ ডিস্ট্রিক্ট জজ আদালতে আপিল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত আবারো তাঁর পক্ষে রায় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভূপতি সানা আরও বলেন, আদালতের রায়ের পর তিনি জমির নামজারি (নামপত্তন) জন্য আবেদন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তবে ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হলেও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য রামপদ সানা বলেন, “ভূপতি সানা গংরা দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ফটিকখালী গ্রামের প্রভাবশালী আবু তালেব গাজীসহ কয়েকজন ওই জমিকে খাস সম্পত্তি দাবি করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জমির মালিকরা বর্তমানে সেখানে ধান রোপণ করছেন।” তবে তিনি বিভিন্নভাবে ভাই-ভীতি দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে খাজরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি শুনেছি। জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।” তবে আবু তালেব গাজি গংদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমার পরিষদের হয়েছে।
এ বিষয়ে খাজরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা দেবব্রত মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধনে ইউপি সদস্য রামপদ সানার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য সুরঞ্জন সানা, জমির মালিক দাবিদার মতিলাল সানা,তপন সানা, অনিবেশ সানা, নব সানা, হাসেম গাজী সহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
মানববন্ধন থেকে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।