বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্ত মতামত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট নিরসনে ‘ফুয়েল কার্ড’ এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত মতামত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট নিরসনে ‘ফুয়েল কার্ড’ এখন সময়ের দাবি

মাসুদ রানা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। সাতক্ষীরার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এখন দিগন্তবিস্তৃত মোটরসাইকেলের সারি। তবে এই দীর্ঘ লাইনে কেবল সাধারণ মানুষই নন, রয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল, যার ফলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে জরুরি সেবা খাত।
ভোগান্তির কবলে জরুরি সেবাদানকারীরা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সংবাদের সন্ধানে যাদের প্রতিনিয়ত ছুটতে হয়, তাদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে পাম্পের লাইনে।সিনিয়র সাংবাদিক এস এম রেজাউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “নিউজ কভার করতে যাব নাকি তেল খুঁজতে বের হব? ৮-১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন সিরিয়াল আসে, তখন শুনছি তেল শেষ। এভাবে চললে জনগনের কাছে তথ্য পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
একই চিত্র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও। একজন ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসক জানান “অনেক দূরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাইকে তেল নেই। ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এই সময়ের মূল্য কি ৩০০ টাকায় পরিমাপ করা সম্ভব?
তীব্র এই সংকটের মাঝেও একদল অসাধু ব্যক্তি মেতে উঠেছে কালোবাজারিতে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বাইকার যাদের ট্যাংকে পর্যাপ্ত তেল আছে, তারা পাম্প থেকে তেল নিয়ে কৌশলে পাইপ দিয়ে প-াস্টিক পটে সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে সেই তেল প্রতি লিটারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাম্পে কখন তেল আসবে সেই তথ্য আগাম জেনে নিয়ে একটি চক্র ১০-১২ ঘণ্টা আগেই মোটরসাইকেল দিয়ে সিরিয়াল বুকিং দিয়ে রাখছে। ফলে প্রকৃত সংকটে থাকা বাইক চালকরা যখন পাম্পে পৌঁছান, তখন তারা সিরিয়ালের শেষে পড়ে যান এবং তাদের তকদিরে জোটে ‘তেল শেষ’ লেখা সাইনবোর্ড।
বিদ্যমান এই নৈরাজ্য রুখতে প্রস্তাবিত সমাধানগুলো হতে পারেÑ
ফুয়েল কার্ড প্রবর্তন: প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা। এই কার্ডে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং তেল গ্রহণের তারিখ সংরক্ষিত থাকবে। তিন দিনের বিরতি: একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী তিন দিন ওই কার্ডে আর তেল দেওয়া হবে না। সমন্বিত সরবরাহ: সকল পাম্পে একই সময়ে তেল সরবরাহ করতে হবে যাতে এক পাম্পে ভিড় না জমে। কার্ডধারীদের নির্দিষ্ট পাম্প নির্ধারণ করে দিতে হবে।
কঠোর নজরদারি ও জরিমানা: তেল দেওয়ার আগে চালকের হেলমেট, লাইসেন্স ও গাড়ির ট্যাংক পরীক্ষা করতে হবে। যদি দেখা যায় কারো ট্যাংকে ৩ লিটারের বেশি তেল আছে কিন্তু তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক জরিমানার আওতায় আনতে হবে। পেশাজীবীদের জন্য নির্ধারিত সময়: সরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের মতো জরুরি পেশার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী মোতায়েন: প্রতিটি পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও কালোবাজারি রুখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী অথবা বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা এখন সময়ের দাবি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলা না ফিরলে এই জ্বালানি সংকট জনরোষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ads small one

প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক গৃহবধূকে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের ওপর এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে ট্রাঙ্ক ভেঙে সঞ্চিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক বা পরিচয় দিয়ে এভাবে তা-ব চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নম্বর বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ও কলারোয়ার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় জিরা, শাড়ি, মদ ও ফেন্সিডিলজাতীয় ‘ফেন্সিডিল/ডেক্সপোটেন’ সিরাপ এসব চালানের মধ্যে রয়েছে।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) জানায়, ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৭/৬৫-এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৬,৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাশির সিরাপ আটক করে। অপরদিকে কাকডাঙ্গা বিওপির দুটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৪ ও ৫ আরবি থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১১,৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা ও মদ উদ্ধার করে।

এ ছাড়া মাদরা বিওপির অপর একটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৮ আরবি থেকে ২০০ গজ অভ্যন্তরে কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৪৫,০০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল।

ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল নম্বরে চলে যাওয়া ৯ হাজার ৬০০ টাকা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

জানা যায়, সম্প্রতি নুর আলম ভুলবশত ৯ হাজার ৬০০ টাকা অন্য একটি বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় এএসআই জাফর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুল নম্বরে পাঠানো ওই টাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা এলাকার একটি নম্বরে চলে গেছে। পরবর্তীতে ভৈরব থানা পুলিশের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকা শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে নুর আলমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নুর আলম বলেন, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার করে শ্যামনগর থানার ওসি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়রির অভিযোগের ভিত্তিতে ভুল লেনদেনের অর্থ উদ্ধারে আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে দেয়া হয়েছে।