রাড়ুলী ইউপি নির্বাচন: ঈদের শুভেচ্ছায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচারে মাঠে ১০ জন
আহমাদ আলী বাচা, রাড়–লী (পাইকগাছা): আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৮ নম্বর রাড়ুলী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণা না হলেও ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এই ইউনিয়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও প্রবাসী প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় ভোটার ও দলীয় সূত্রে অন্তত ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। সাবেক ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম নাজির আহমেদ ইতিমধ্যে ফেসবুকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সাত্তার মোড়ল জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম মানিক এবং আরেক নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবও ইউনিয়নবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়া শাহিনুর রহমান গাজী এবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। খুলনা জেলা জামায়াত নেতা মো. আব্দুল মেমিন সানা দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হতে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দল থেকে পদত্যাগ করা আরেক জামায়াত নেতা মহিবুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠ গোছাতে তৎপরতা শুরু করেছেন। লোকমুখে ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির মো. ফুরকান আলীর নাম শোনা গেলেও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে অধ্যক্ষ (অব.) আবুল কালাম আজাদ এবং দলবদলকারী হিসেবে পরিচিত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদারের নামও লোকমুখে বেশ আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, এই নির্বাচনে নতুন চমক হিসেবে আলোচনায় এসেছেন সাবেক চেয়ারম্যান এস ওয়াজেদ আলীর পুত্র এবং আমেরিকা প্রবাসী এস রহমান। পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা এবং রাড়ুলী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে তার সমর্থকেরা এলাকায় ব্যাপক ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন। সুদূর আমেরিকা থেকে মুঠোফোনে এস রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন, “আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। নির্বাচিত হতে পারলে আমি গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব এবং ইউনিয়নকে আধুনিকায়ন করব।”












