বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সমান কাজের সমান মজুরি: ন্যায়বিচার ন্যায্যদাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
সমান কাজের সমান মজুরি: ন্যায়বিচার ন্যায্যদাবি

সাকিবুর রহমান বাবলা

একজন মানুষ নারী না পুরুষ-তার ভিত্তিতে শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। কাজের ধরন, দক্ষতা, দায়িত্ব ও শ্রমের মূল্য যদি সমান হয়, তবে পারিশ্রমিকেও বৈষম্য থাকার কথা নয়। অথচ বাস্তবে বিশ্বের বহু কর্মক্ষেত্রে নারী এখনো পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে নারীরা গড়ে পুরুষের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক পান। এই বাস্তবতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমান মজুরি দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪/১৪২ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটির স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ২০২০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সমান মজুরি দিবস পালিত হয়।

সমান মজুরি বলতে শুধু একই ধরনের কাজের জন্য একই টাকা বোঝায় না। সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক-এই নীতিটি আরও বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১০০ নম্বর কনভেনশনে নারী ও পুরুষের সমান মূল্যের কাজের জন্য লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ছাড়া সমান পারিশ্রমিকের নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই কনভেনশন অনুমোদন করেছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এর ৮ নম্বর লক্ষ্যের ৮.৫ নম্বর লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষ সবার জন্য পূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শোভন কাজ এবং সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নও এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সমান মজুরি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইউএন উইমেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। ইকুয়াল পে ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন-এর মাধ্যমে সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনকে সমান মজুরি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ২৮(১) অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে। ২৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আবার ২৯ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদ। সেখানে কর্মকে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিকের নীতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমের ন্যায্য মূল্য-দুটিই রাষ্ট্রের মৌলিক দর্শনের অংশ।

বাংলাদেশ শ্রম আইনেও সমান মজুরির বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম আইনের ৩৪৫ ধারায় একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য পুরুষ, নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের সমান মজুরির নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ৩৪৫ক ধারায় জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয়, ধর্ম, রাজনৈতিক মতামত, জাতীয়তা, সামাজিক অবস্থান, বংশ বা প্রতিবন্ধিতার কারণে বৈষম্যমূলক আচরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে আইন থাকলেই বৈষম্য শেষ হয়ে যায় না। বাস্তব জীবনে অনেক নারী এখনো কৃষিকাজ, দিনমজুরি, গৃহস্থালি শ্রম, পোশাকশিল্প, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম মজুরির মুখোমুখি হন। আইএলওর বাংলাদেশের তথ্যেও বিভিন্ন পেশায় নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধানের কথা উঠে এসেছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেশি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষাতেও শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামে শ্রমিকের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধের শিক্ষা রয়েছে। কোরআনে মানুষের নিজ নিজ অর্জন ও প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় শিক্ষাতেও শ্রমিক তার পারিশ্রমিকের যোগ্য-এই নীতি স্পষ্ট। সনাতন ধর্মীয় দর্শনেও কর্ম, কর্তব্য ও ন্যায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভাষা ভিন্ন হলেও শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং মানুষের মর্যাদার বিষয়টি বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সমান মজুরি তাই শুধু নারীর অধিকার নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়। একজন নারী একই যোগ্যতা, সময়, শ্রম ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে শুধু নারী হওয়ার কারণে তার পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া তার শ্রমের মর্যাদাকে ছোট করা। আবার একজন পুরুষকে শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়াও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই পরিবর্তন শুধু সরকার বা আদালতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। একজন সচেতন নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারে গৃহস্থালি কাজকে শুধু নারীর দায়িত্ব মনে না করা, কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছ বেতন কাঠামো রাখা, একই কাজের জন্য বৈষম্যমূলক মজুরি না দেওয়া, শ্রমিককে তার অধিকার সম্পর্কে জানানো এবং কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে প্রতিবাদ করা-এসবই নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
নিয়োগকর্তাদেরও দায়িত্ব কম নয়। যোগ্যতা ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতিতে সমান সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ এবং বেতন কাঠামোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বের সুযোগও বাড়াতে হবে।

সমান মজুরি দিবস আমাদের শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবসের কথা মনে করিয়ে দেয় না; এটি আমাদের চারপাশের শ্রমজীবী মানুষের দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায়। একজন কৃষিশ্রমিক নারী, একজন পোশাকশ্রমিক, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, একজন শিক্ষক কিংবা একজন পেশাজীবী-প্রত্যেকের শ্রমের মূল্য আছে। কাজের মূল্য যেন মানুষের লিঙ্গ দিয়ে নির্ধারিত না হয়, সেটিই এই দিবসের মূল শিক্ষা।

সমান কাজের সমান মজুরি কোনো দয়া নয়, কোনো অনুগ্রহও নয়-এটি ন্যায়সঙ্গত অধিকার। আইন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক শ্রমনীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক নৈতিকতা-সবকিছুর আলোকে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি কর্মসমাজ, যেখানে মানুষ তার পরিচয়ের কারণে নয়, তার কাজের ন্যায্য মূল্য অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে। সেই সমাজ গড়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেমন, তেমনি নিয়োগকর্তা, শ্রমিক, পরিবার এবং প্রত্যেক সচেতন নাগরিকেরও।

Ads small one

বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা নদীতে মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা নদীতে মানুষের ঢল

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট): বাগেরহাটের ফকিরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে মায়ারখালী চিত্রা নদীতে ৩৬তম বার্ষিক গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ সহ নানা বয়সের মানুষ আনন্দে মেঠে উঠে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে ১০টি নৌকা অংশগ্রহন করে। নৌকাবাইচ এর আয়োজন করে মায়ারখালী যুব সংঘ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন কমিটির সভাপতি পরিতোষ বাগচী, সাধারন সম্পাদক রঞ্জন বালা ও মিল্টন শাখারীসহ কমিটির কিরন মন্ডল, পঞ্চানন বিশ্বাস, গৌতম বিশ্বাস, সঞ্জিত বিশ্বাস, মনোজ গাইন, মিলন মোহšসহ অন্যান্যরা। নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধন

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম। অনুষ্ঠানে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নাসরিন আক্তারসহ কলেজের ১৬টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, উত্তরণ ও প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন এর কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সহযোগিতায় উত্তরণ কর্তৃক বাস্তবায়িত জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম এর আওতায় কলেজ প্রাঙ্গণে এই মিয়াওয়াকি বন গড়ে তোলা হচ্ছে। কলেজের ৬৮ শতাংশ জমিতে বৃক্ষ, ভেষজ, গুল্ম, লতা এবং ঝোপ জাতীয় ১০০ প্রজাতির প্রায় ৮,০০০টি দেশীয় চারা রোপণের মাধ্যমে গড়ে উঠবে এই বন।

কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বনটির পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধানের এই উদ্যোগ সাতক্ষীরা শহরে সবুজায়ন বৃদ্ধি, নগর তাপদাহের প্রভাব কমানো, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখবে।
একইসঙ্গে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্ভিদ পরিচিতি, পরিবেশ শিক্ষা, ব্যবহারিক জ্ঞান ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এমন উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

নিরাপদ পানি ও কৃষির উপযোগী পানির দাবিতে শ্যামনগরে যুবদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
নিরাপদ পানি ও কৃষির উপযোগী পানির দাবিতে শ্যামনগরে যুবদের মানববন্ধন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: নিরাপদ সুপেয় পানি ও চাষাবাদের জন্য উপযোগী পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রংতুলি ইয়ুথ টিম, রমজাননগর ও পিঁপিঁলিকা ইয়ুথ টিম, একশনএইড বাংলাদেশ, এলআরপি-৫৪ এর সহায়তায় শ্যামনগরের যুব সদস্যরা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় পানির স্বল্পতা এবং জলাবদ্ধতা স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত লবণাক্ততার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় পুকুর ও নলকূপের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক পরিবারকে দূরবর্তী স্থান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও জলাধারের অভাব, পুকুর-খালের সীমিত ব্যবহারযোগ্য, লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সারা বছর নিরাপদ পানি ও কৃষিকাজের উপযোগী পানির সংকট দেখা দেয়। লবণাক্ততা ও খরার কারণে গবাদিপশুর পানীয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির সংকটও বাড়ছে।

মানববন্ধন শেষে যুব প্রতিনিধিরা শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে কমিউনিটি পর্যায়ে পর্যাপ্ত পুকুর ও খাল খনন/পুনঃখনন, বিদ্যমান পিএসএফ-এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন পিএসএফ স্থাপন, সোলারবেস পিএসএফ ও লোনাপানি মিঠাকরন প্রযুক্তি(আরও প্লান্ট) ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর পুনঃখনন এবং চিংড়িঘেরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া বন্ধ ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নালা পুনরুদ্ধার, স্লুইস গেটের যথাযথ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, লবণ সহনশীল জাতের বীজের সম্প্রসারণ এবং কৃষি ও মৎস্য চাষে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়।