শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সংবাদ অঙ্গনের পরিচিত মুখ, দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা জেলা ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী ঢাকার ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর ফুসফুসে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী নিবিড় পরিচর্যায় থাকা অবস্থায় সন্ধ্যায় হঠাৎ খিঁচুনি উঠে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ পেশাগত জীবনে শেখ আব্দুল আলিম দৈনিক পত্রদূতের পাশাপাশি দৈনিক সদ্যখবর ও দৈনিক সাতক্ষীরা চিত্র পত্রিকায় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় নিঃস্বার্থ সহায়তা প্রদান করে তিনি বহুজনের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, ব্যবসায়ী মহল ও সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহকর্মীরা এক গভীর বেদনাবিধুর পরিবেশে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

দৈনিক পত্রদূত পরিবারের শোক: সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দৈনিক পত্রদূত পরিবার। পত্রদূত পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক: শেখ আব্দুল আলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদার।

 

জেলা জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের শোক: সাংবাদিক আব্দুল আলিমের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিদাতারা হলেন, সংগঠনের সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম খান মামুন, সহ-সভাপতি আহাদুর রহমান জনি, মারুফ আহমেদ খান শামীম, মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং শেখ হাসান গফুর।
এছাড়াও শোক জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আক্তারুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, শাহ নেওয়াজ মৃণাল, আরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর সরদার, গাজী হাবিব, আলমগীর হোসেন ও মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক: সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম (রেজিঃ নং ৫৮৩) এর পক্ষ থেকে বিবৃতিদাতারা হলেন, সংগঠনের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন আব্বাস, যুগ্ম-সম্পাদক শেখ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মোতাহার নেওয়াজ মিনাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম আক্কাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনিছুর রহমান তাজু, আরীফ মাহমুদ, মোঃ আব্দুল মতিন, মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া ও এএইচএম তুমু।

 

 

 

 

Ads small one

অপরাধমুক্ত দেবহাটা গড়তে পুলিশের পাশে জনগণকে দাঁড়ানোর আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
অপরাধমুক্ত দেবহাটা গড়তে পুলিশের পাশে জনগণকে দাঁড়ানোর আহ্বান

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পূর্বে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজার জামে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিং ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এলাকার যেকোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান সন্ধ্যার পর কোথায় সময় কাটাচ্ছে, স্কুলে নিয়মিত যাচ্ছে কি না এবং কাদের সঙ্গে চলাফেরা করছেÑএসব বিষয়ে বাবা-মাকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাদক নির্মূলে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে ওসি বলেন, মাদক বিক্রি বা সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে সরাসরি পুলিশকে জানাতে হবে এবং তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। দেবহাটাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

সম্পাদকীয়/ বাল্যবিবাহের অভিশাপ ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাল্যবিবাহের অভিশাপ ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

কিশোরী বয়সে যখন হাত বাড়ানোর কথা নতুন বইয়ের পাতার দিকে, যখন শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের সঙ্গে স্বপ্ন ও চিন্তার বিস্তার ঘটার কথা, ঠিক সেই বয়সে সংসার জীবনের ভারী দায়িত্ব চেপে বসা এক কঠিন ও নির্মম বাস্তবতা। সাতক্ষীরার তালার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের সমাজের এক গভীর ক্ষতকে আবার উন্মোচিত করেছে। একই প্রতিষ্ঠানের এত বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে যাওয়া কেবল শিক্ষার পথকে রুদ্ধ করে না, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক অগ্রগতির সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে।

একটি মেয়েশিশুর অপরিণত বয়সে বিয়ে তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়। পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পারিবারিক সহিংসতা এবং সর্বোপরি অকাল মাতৃত্বের কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাছাড়া এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; আমাদের গ্রামীণ জনপদে বাল্যবিবাহের এই প্রবণতা প্রকাশ করে যে আইন ও সচেতনতা সৃষ্টির প্রচার চালানো সত্ত্বেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন পুরোপুরি ঘটেনি। দারিদ্র্য, কুসংস্কার কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের অজুহাতে অভিভাবকদের এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ঘটনাটি নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা, বাল্যবিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কেবল সময়োপযোগী নয়, বরং এটি একটি জোরালো প্রশাসনিক বার্তাও বহন করে। তবে প্রশাসনিক কঠোরতা ও নজরদারিই যে এ ব্যাধি নির্মূলে একমাত্র সমাধান নয়, তা-ও স্মরণে রাখা জরুরি।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুশীল সমাজকে প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে তার কারণ অনুসন্ধানে নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যে সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সচেতনতা তৈরিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তালার ঘটনাটিকে কেবল একটি সংবাদের শিরোনামে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সচেতনতার প্রদীপ জ্বালানোর তাগিদ হিসেবে দেখতে হবে। তবেই একটি সুস্থ, সচেতন ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আসছেন সাতক্ষীরায়: চাই বঞ্চনার অবসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী আসছেন সাতক্ষীরায়: চাই বঞ্চনার অবসান

এম. এম হায়দার আলী

দেশের একবারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা, সম্ভাবনার এক বিশাল জনপদ। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই জেলা দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্য, সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের প্রশ্নে সাতক্ষীরার মানুষ যেন বার-বারই থেকেছেন উপেক্ষিত। প্রতিশ্রুতি এসেছে, আশ্বাস এসেছে, প্রকল্পের কথা শোনা গেছে,কিন্তু কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অনেক ক্ষেত্রেই অধরাই থেকে গেছে। এবার সেই বঞ্চনার বৃত্ত ভাঙার প্রত্যাশা জেগেছে সাতক্ষীরাবাসীর মনে।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান মহোদয়ের সাতক্ষীরা সফরকে ঘিরে তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। শুধু আনুষ্ঠানিক সফর নয়,সাতক্ষীরার বাস্তব সমস্যা, মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং উন্নয়নের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি হবে,এমন প্রত্যাশাই এখন জনমনে। এদিন

সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মন্ত্রী। এরপর সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, বিজিবির সিও, র‌্যাবের সিও, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জিপি-পিপি, প্রেসক্লাবের সভাপতি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। আর বিকেল ৩টায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন মন্ত্রী।

 

এই তিনটি পর্বের মতবিনিময়কে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সাতক্ষীরার উন্নয়নের জন্য এসব মতবিনিময় হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্ল্যাটফর্ম। কারণ উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণের নাম নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, বন্দর, নদী-খাল, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সর্বোপরি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন। প্রশ্ন হলো,সাতক্ষীরা এত সম্ভাবনাময় হয়েও পিছিয়ে থাকবে কেন ?

সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। সুন্দরবনকে ঘিরে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। কৃষি ও মৎস্য খাতেও সাতক্ষীরার অবদান কম নয়। চিংড়ি ও কাঁকড়া রপ্তানি, সবজি উৎপাদন, কৃষিপণ্য, মৎস্য সম্পদ,সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা। কিন্তু অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং শিল্প-কারখানার অপ্রতুলতা সেই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়নের গল্প শুনতে, শুনতে ক্লান্ত। তারা এবার বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান। তারা চান, সড়ক হবে, সেতু হবে, নদী-খাল বাঁচবে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে, কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নত হবে, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বাড়বে, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সাতক্ষীরাকে আর ‘অবহেলিত জেলা’ হিসেবে দেখতে চান না এখানকার মানুষ।

মন্ত্রী যদি সত্যিই সাতক্ষীরার মানুষের কথা শুনতে চান, তাহলে মতবিনিময় সভাগুলোতে শুধু বক্তব্যের ফুলঝুরি নয়,মানুষের বাস্তব অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের দাবিগুলোও শুনতে হবে। কোন প্রকল্প আটকে আছে, কোথায় বরাদ্দের অভাবে কাজ থেমে আছে, কোন সড়ক বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি, কোন নদী দখল-দূষণে মৃতপ্রায়, কোন এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

রাজনীতিরও একটি বড় দায়িত্ব আছে। দল-মত নির্বিশেষে সাতক্ষীরার উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে এক টেবিলে বসতে হবে। উন্নয়ন কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। আজ যে রাস্তা নির্মিত হবে, সেটি শুধু একটি দলের মানুষ ব্যবহার করবেন না, হাসপাতাল, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগও দল দেখে মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তাই সাতক্ষীরার স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি অভিন্ন উন্নয়ন দাবি তৈরি করা সময়ের প্রয়োজন।

 

বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মহোদয়কে সাতক্ষীরাবাসীর পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি একটি কথাই বলা দরকার, আমরা প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান পরিবর্তন চাই। মতবিনিময় সভা শেষে যেন ফাইলের স্তূপে মানুষের দাবিগুলো চাপা পড়ে না যায়। সভায় উত্থাপিত দাবিগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সময়সীমাবদ্ধ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন কাজ কখন শুরু হবে, কোন কাজ কতদিনে শেষ হবে,তার একটি সুস্পষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা থাকা দরকার।

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে টেকসই। এমন উন্নয়ন নয়, বর্ষা এলেই যে রাস্তা ভেঙে যাবে; এমন বাঁধ নয়, সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই যে মানুষকে সর্বস্বান্ত করবে; এমন প্রকল্প নয়, যার সুফল জনগণের বদলে কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সাতক্ষীরা দীর্ঘকাল ধরে পিছিয়ে আছে, এ কথা শুধু অভিযোগ হিসেবে উচ্চারণ করলেই হবে না। কেন পিছিয়ে আছে, কারা দায়ী, কোথায় প্রশাসনিক দুর্বলতা, কোথায় পরিকল্পনার ঘাটতি এবং কোথায় বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, সেসবও খুঁজে বের করতে হবে। ১৩ সেপ্টেম্বরের সফর তাই সাতক্ষীরার জন্য একটি সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে জেলার উন্নয়ন-ভাবনায় নতুন গতি আসতে পারে।

 

তাইতো সাতক্ষীরাবাসী এখন তাকিয়ে আছেন মন্ত্রীর দিকে। তারা আশা করছেন,আইন ও বিচার অঙ্গনের দায়িত্বের পাশাপাশি সাতক্ষীরার উন্নয়ন-সম্ভাবনাকেও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অবহেলিত এই জনপদকে উন্নয়নের মূল গ্রোতে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। সাতক্ষীরা আর পেছনে পড়ে থাকতে চায় না।

 

ভোমরা বন্দর থেকে সুন্দরবন, কৃষকের মাঠ থেকে মৎস্যঘের, শহরের সড়ক থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের জনপদ, সবখানেই উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছাতে হবে। মানুষের চোখে-মুখে ফুটিয়ে তুলতে হবে পরিবর্তনের স্বপ্ন। সময় এসেছে সাতক্ষীরার বঞ্চনার হিসাব চুকিয়ে দেওয়ার। এবার চাই উন্নয়নের জোয়ার, থায় নয়, কাজে।

সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা, মন্ত্রীর ১৩ সেপ্টেম্বরের সফর যেন সেই নতুন যাত্রার সূচনা করে। একই সাথে অবহেলা, বৈষম্য ও উন্নয়ন-ঘাটতির পুরোনো অধ্যায় পেছনে ফেলে সাতক্ষীরা এগিয়ে যাক সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার পথে,এই হোক আমাদের এবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট