মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

পত্রদূত রিপোর্ট: অহিদা সুলতানা শিমু নামের এক বিধবা নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ পুরাতন সাতক্ষীরার তার নিজ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মৃত অহিদা সুলতানা শিমু (৪০) পুরাতন সাতক্ষীরার মিয়ারাজ হোসেনের মেয়ে।

মৃতের বড় বোন রাবেয়া সুলতানা জানান, তারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। ২০০৭ সালে শহরের সুলতানপুরের সাংবাদিক আহসানের সঙ্গে ছোট বোন অহিদা সুলতানা শিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর শিমুর স্বামী আহসান গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সে তার (রাবেয়া) কাছে নিজের ঘরে থাকতো। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে সে তার সংসার খরচ নির্বাহ করতো। দুই মাস আগে সেটি হাসান ইলেকট্রিক এর মালিক হাসানের কাছে বিক্রি করে দেয়। বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডাকতে যেয়ে ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মৃতের দুই কনুই ও পেটের উপরের চামড়া ওঠানো ছিল।

তবে স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শিমু বড় বোনের কাছে খাওয়া দাওয়া করলেও সে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতো। নিয়মিত নেশা জাতীয় ইনজেকশান নিত সে। তার কাছে অনেকেই যাতায়াত করতো। গত বছরের আগষ্ট মাসে তার বাবা মারা যায়। একমাত্র ভাই এক সময়কার তুখোড় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনিরুজ্জামান কিরণ বোনদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় সদর উপজেলার মাধবকটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে। বৃহষ্পতিবার লাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করে হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে শিমুর মৃত্যু হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (৬৪ নং) হয়েছে। ওই নারীর সামাজিক সম্মান ছিল না। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে না।

Ads small one

শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইক চালকরা। একই সাথে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শহরের অন্যান্য এলাকা এবং পৌরসভার ইজিবাইকগুলো নির্বিঘেœ শহরের সর্বত্র চলাচল করতে পারলেও কেবল আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে চালকদের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং ক্ষোভ চালক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, এই রুটে নিয়মিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতায়াত করেন। কিন্তু বিভিন্ন পয়েন্টে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পথে পথে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে কুলিয়া থেকে মাত্র ২৫ টাকায় সরাসরি সদর হাসপাতালের সামনে যাওয়া যেত। কিন্তু এখন শহরের মাঝপথে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় নেমে অন্য গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। ফলে ২৫ টাকার জায়গায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।প্রতিবাদ সভায় চালক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

চালকদের রুজি-রোজগার রক্ষা এবং রোগীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে তারা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অবিলম্বে আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্র ও হাসপাতাল এলাকায় চলাচলের সুযোগ না দেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

প্রদর্শক থেকে প্রভাষক হলেন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রদর্শক থেকে প্রভাষক হলেন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম ‘প্রদর্শক’ থেকে ‘প্রভাষক’ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁর এই অর্জনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‎শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা, মেধা ও নিরলস পরিশ্রমে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। তাঁর এই পদোন্নতি কেবল একটি প্রশাসনিক অগ্রগতি নয়, বরং শিক্ষাদানের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও ভালোবাসারই এক যোগ্য স্বীকৃতি।

‎বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেগঘন বার্তায় জানান, ক্লাসরুমে পাঠদানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে একজন অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে থেকেছেন শহীদুল স্যার। তাঁর এই সাফল্য পুরো কলেজের জন্যই আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

‎এক অভিনন্দন বার্তায় শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যারের এই অর্জন তাঁর মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর সুচিন্তিত পথচলায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার মান ও একাডেমিক পরিবেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।”

‎শিক্ষার্থীবৃন্দ তাঁদের প্রিয় এই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভাংছে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক, ঝুঁকিতে বিদ্যালয় ভবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভাংছে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক, ঝুঁকিতে বিদ্যালয় ভবন

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপা অভিমুখে নির্মিত ইটের সলিং রাস্তার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমুরকাটা স্লুইস গেটসংলগ্ন খালে অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার স্্েরাতে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশেই অবস্থিত আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পাশঘেঁষা রাস্তার দীর্ঘ অংশে ইটের সলিং ভেঙে নিচে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়ছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ে ভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার তীব্রতা বাড়ায় খালের স্্েরাত সরাসরি রাস্তার নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধ্বসে পড়ছে।

এ সড়ক দিয়ে আমুরকাটা, বয়ারঝাপাসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সড়কের পাশের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাঙন এভাবেই চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কয়েক দফা বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ কুমার মন্ডল বলেন, শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না। খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং বা তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও খালে বিলীণ হয়ে যেতে পারে। আমুরকাটার আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, রাস্তা পূর্ব-পশ্চিমে কম বেশি ভালো হলেও বালিকা বিদ্যালের উভয় পাশে ভীষণ খারাপ অবস্থা।

 

গেটের খালের অব্যাহত অতি জোয়ার ভাটার কারণে রাস্তাটি প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। যেকোন সময় স্কুলের ক্লাস রুম ভেঙ্গে ধ্বসে যেতে পারে। অতিদ্রুত খালের পাশে পাইলিং না করলে রাস্তাটি বিলিন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল ( ভারপ্রাপ্ত) বলেন, রাস্তার অবস্থা আসলেই খারাপ। রাস্তার ভাঙ্গন রোধ ও সংস্কারের জন্য অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকৌশলীর নিকট আবেদন জমা দিব।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, রাস্তাটির খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমার জানানেই। আপনার কাছ থেকে শুনছি। রাস্তাটি ভাঙ্গন রোধ করতে ও সংস্কার করতে হলে এলাকাবাসী বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন আসলে গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।