শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

বিশ্ব মা দিবসে ‘মা পদক’ পাচ্ছেন ববিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব মা দিবসে ‘মা পদক’ পাচ্ছেন ববিতা

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ সালটা যেন নন্দিত অভিনেত্রী ববিতার প্রাপ্তির বছর হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন ‘হুস হু’ পুরস্কার। আবার আগামী ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পেতে যাচ্ছেন ‘আনন্দ মেলা’র আজীবন সম্মাননা।

 

এরই মধ্যে তিনি জানালেন, আগামী বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আগামী ১০ মে  ‘আলী-রূপা ফাউন্ডেশন’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় মা পদক পেতে যাচ্ছেন। রাজধানীর একটি হোটেলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে এ পুরস্কার।

ববিতা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকে ভূষিত হয়েছি। কিন্তু চলচ্চিত্রে মায়ের ভূমিকায় অভিন্ন এবং আমার একমাত্র সন্তান অনিককে মানুষের মতো মানুষ করার কারণে আমাকে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মা পদক পেতে যাচ্ছি ভেবে ভালো লাগছে। ধন্যবাদ আলী-রূপা ফাউন্ডেশনকে।’

 

সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীনের উদ্যোগে এটি আয়োজন করেছে ‘মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং’। চলতি বছরে সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে ছয়জনকে, সাংবাদিকতায় দুইজনকে এবং ব্যাংক, আইন বিচার, বিমানবাহিনী, ডাক্তারি পেশায় ১২ জন সফল ও গর্বিত সন্তানের মায়েদের’কে ‘মা পদক ২০২৬’ দেওয়া হবে।’

 

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির এক বাণিজ্য আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এ রায় দেয়। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে তারা।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে বাতিল করে দেয়। আদালত বলেছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

সেকশন ১২২ অনুযায়ী, কোনো দেশের বড় ও গুরুতর ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন।

 

তবে, মামলার বাদীরা যুক্তি দেন, ট্রাম্প এই ধারা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

 

আদালতের সর্বশেষ এই রায় নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য। তবে, এই রায়ের বিরুদ্ধে এখনও আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

 

এবার আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
এবার আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আজ শুক্রবার (৮ মে) ভোরে ইরান থেকে ছোড়া একঝাঁক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের আকাশসীমায় আঘাত হানে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনএনের।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে রুখে দিয়েছে। রাজধানী আবুধাবি ও দুবাইসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝ আকাশে এই ইন্টারসেপশনের বিকট শব্দ শোনা যায়।

 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ছবি তোলা বা তার কাছে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

গত ৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আমিরাতের আকাশসীমা ‘হুমকিমুক্ত’ ঘোষণা করেছিল। তবে গত দুই মাসে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমিরাতই সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগন দাবি করেছে, তারা মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আরব আমিরাতের ন্যাশনাল এমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।