রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

Ads small one

কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এক দিন আগে বাড়ানোর পর এবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ টাকা।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

রবিবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

২২ ক্যারেটের স্বর্ণ ২০ হাজার ১৬০ টাকা গ্রাম

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২০ হাজার ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি হিসেবে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৭ টাকা।

এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ২৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ৫০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী এর সঙ্গে মজুরি যোগ হবে।

রুপার দামও কমেছে

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক দিন আগে বাড়ানো হয়েছিল দাম

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বাড়তি দাম কার্যকর হয়।

তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাজুস জানিয়েছিল, তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় ওই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

এর মাত্র এক দিন পরই তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার কারণে আবারও নতুন দাম নির্ধারণ করলো সংগঠনটি।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তারও আগে ৩১ আগস্ট একই মানের স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়। ২৯ আগস্টও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছিল ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কয়েক দফা স্বর্ণের দাম কমার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানো এবং আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

বিক্রির ক্ষেত্রে আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই নতুন দাম কার্যকর থাকবে।

ডিভোর্স হয়েছে সৃজিত-মিথিলার? ইঙ্গিত দিলেন নির্মাতা নিজেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ডিভোর্স হয়েছে সৃজিত-মিথিলার? ইঙ্গিত দিলেন নির্মাতা নিজেই

টলিউডের অন্যতম চর্চিত ও সফল পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও বাংলাদেশি অভিনেত্রী মিথিলার দাম্পত্যকে কাঁটাতার আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছিল অনেক আগেই। এবার নাম না ধরেও সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন পরিচালক নিজেই। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় টকশো অনুষ্ঠান ‘স্ট্রেইট আপ উইথ শ্রী’-তে উপস্থিত হয়ে নিজের অতীত সম্পর্ক, সাবেকদের সঙ্গে বর্তমান বন্ধুত্ব এবং নিজের একাকিত্ব নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বললেন পরিচালক।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে সৃজিত সরাসরি জানান, জীবনের এই বয়সে এসে তিনি ‘স্টেবল পার্টনারশিপ’ বা স্থায়ী সঙ্গীর অভাব বোধ করেন।

সৃজিত ও মিথিলার বিয়ের পর প্রায় ছয় বছর কেটেছে। সেভাবে গুছিয়ে সংসার কোনোদিনই করেননি দুজনে। গত তিন বছরে বারবার তাদের বিচ্ছেদ চর্চায় উঠে এসেছে। এদিন সরাসরি মিথিলার প্রসঙ্গ না উঠলেও জীবনে যে কোনও ‘স্থায়ী সঙ্গী নেই’ তা স্পষ্ট করলেন নির্মাতা নিজেই।

তবে কি সৃজিত আর মিথিলার সম্পর্ক আগেই ভেঙেছে? পরিচালকের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি অনুগামীদের মনে সেই সম্পর্কে চিড় ধরা বা পরোক্ষ বিচ্ছেদের জল্পনাকেই নতুন করে উসকে দিলো।

এ সময় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কিংবা ঋতাভরী চক্রবর্তীর মতো সাবেকদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙলেও তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগের কথা স্বীকার করে নেন সৃজিত। এখানেই শেষ নয়, সৃজিতের কথায়- সুস্মিতা (চট্টোপাধ্যায়) একটা সময় তার খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরিচালকের সঙ্গে কি তার প্রেম ছিল? উত্তরে সৃজিত বলেন, ‘সব সম্পর্কের লেবেল হয় না। ও আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিল, আমরা এক্সট্রিমলি ক্লোজ ছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘনিষ্ঠতা মুছে গিয়েছে, এখন আর আমরা অতটা ক্লোজ নই। তবে একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে জীবন একটা জার্নি, অনেকে ট্রেন থেকে কয়েকটা স্টেশন পর নেমে যায়। সুস্মিতাও নেমে গিয়েছে, হয়তো অন্য কোনও ট্রেন ধরেছে’।

সম্পাদকীয়/ ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগের ব্যাপ্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগের ব্যাপ্তি

দেশজুড়ে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানী থেকে শুরু করে তা গ্রাম ও দূরবর্তী প্রান্তিক অঞ্চলেও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও আঞ্চলিক প্রতিবেদনের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাতক্ষীরা জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং জেলাজুড়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৪ জন। অন্যদিকে খুলনার পাইকগাছায় কেবল ডেঙ্গুই নয়, পাশাপাশি হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব একই সাথে দেখা দেওয়ায় সার্বিক জনস্বাস্থ্য নতুন এক সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্রগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশজুড়ে বিস্তৃত হতে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস।

মৌসুম অনুযায়ী প্রতিবছরই আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। চলতি বছরেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি; বরং আগস্ট মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ এখনো গতানুগতিক পন্থায় সীমাবদ্ধ। লার্ভিসাইড ছেটানো কিংবা লোকদেখানো রাসায়নিকের ধোঁয়া প্রয়োগের যে পুরোনো চর্চা দেখা যায়, তা দিয়ে উড়ন্ত এডিস মশা ধ্বংস বা সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙা পুরোপুরি অসম্ভব। ডেঙ্গুর সঙ্গে যখন হামের মতো উচ্চ সংক্রামক রোগ যুক্ত হয়, তখন বিশেষ করে প্রান্তিক ও নি¤œআয়ের পরিবারের শিশু ও রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ে।

সংকট সমাধানে সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত মশা নিধনে কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বা ক্র্যাশ অভিযান পরিচালনা করা। পার্শ্ববর্তী দেশ বা অঞ্চলের সফল উদাহরণগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্যের এই জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপই সাফল্য এনে দিয়েছে। শুধু সরকারি স্বাস্থ্য খাত কিংবা স্থানীয় সরকারের কর্মীদের একক প্রচেষ্টায় এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব নয়। প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রশাসনিক এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে এডিস মশার প্রজননস্থলÑযেমন জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা ও টব নিয়মিত পরিষ্কারের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও সহজলভ্যতা। জটিলতা বাড়ার পর রোগীকে শহরের বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রবণতা বন্ধ করতে হলে একদম প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিনামূল্যে দ্রুত ডেঙ্গু ও হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেকেই পরীক্ষার খরচের ভয়ে কিংবা অজ্ঞতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা নিতে আসেন না, যার ফলে শেষ মুহূর্তে জটিলতা নিয়ে এসে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি সার্ভিস বা বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রাথমিক টেস্ট নিশ্চিত করা দরকার।

সর্বোপরি, এই স্বাস্থ্যসংকট সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের ওপর যে মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, সেদিকে রাষ্ট্রকে মানবিক নজর দিতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, সংক্রামক রোগ বা আইসিইউভিত্তিক চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বহু পরিবার সঞ্চয় হারিয়ে চূড়ান্ত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রে সংক্রামক রোগ ও মহামারিজনিত স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের চিকিৎসার দায়ভার সরকারের এড়ানো উচিত নয়।

উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে থাকা সমাজকল্যাণ দপ্তরের তহবিল থেকে দরিদ্র রোগীদের তাৎক্ষণিক পথ্য ও ওষুধ সরবরাহের আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
সেপ্টেম্বর পার হয়ে অক্টোবর-নভেম্বরে ডেঙ্গুর এই বিস্তার যাতে কোনোভাবেই আর ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ না নেয়, সে জন্য এখনই জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত মশক নিধন অভিযান এবং দোরগোড়ায় সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোরালো তাগিদ দিচ্ছি। সময়মতো সচেতনতার বর্ম পরতে না পারলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে আরও বড় মূল্যে এই গাফিলতির মাশুল দিতে হবে।