শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্টাটাসকোর সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলার অভিযোগ, লাখ টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
স্টাটাসকোর সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলার অভিযোগ, লাখ টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চন্ডীপুর মৌজায় দীর্ঘ চার দশকের পুরোনো জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের ‘স্ট্যাটাসকো’র সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী দুলালী তরফদার। এ ঘটনায় পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি আগেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ১ দশমিক ৪৫ একর জমিটি নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বিরোধের সূত্রপাত। জমির মূল মালিক দীনদয়াল তরফদার জমিটি মীরা তরফদারের কাছে বন্ধক রেখে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্রবধূ দুলালী তরফদার ১৯৮৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতের রায়ের পর সরকারি প্রক্রিয়ায় ঢোল-সহরতের মাধ্যমে দুলালী তরফদারকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মাছের ঘের পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ মীরা তরফদার নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মামলা ও আপিল করলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে রায় দুলালী তরফদারের অনুকূলেই থাকে। জমির নামজারি, খাজনা ও সর্বশেষ বিএস খতিয়ানও তার নামেই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বিএস খতিয়ান প্রকাশের আগে মীরা তরফদার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে আদালত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার আদেশ দেন। বাদীপক্ষের দাবি, বিএস খতিয়ান চূড়ান্ত হওয়ায় রিটটি কার্যকারিতা হারালেও শুনানির তারিখ পেছানোয় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি থমকে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই স্থিতাবস্থার আদেশকে নিজেদের পক্ষে রায় দাবি করে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এ কারণে গত ৩০ এপ্রিল শ্যামনগর থানায় জিডি করেন দুলালী তরফদার। এরপরও গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে মনোরঞ্জন তরফদারের ছেলে শংকর তরফদার ও তার সহযোগীরা মাছের ঘেরে প্রবেশ করে নেট, পাটা কেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালায়। উল্টো পরদিন শংকর তরফদার থানায় ঘেরের দখল না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ জুলাই শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এবং বর্তমানে যার দখলে ঘের রয়েছে, তার কাজে বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযুক্ত শংকর তরফদার ভাঙচুর ও ঘের দখলের চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ এবং হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় চেতনা নাশক স্প্রে করে দুই বাড়িতে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় চেতনা নাশক স্প্রে করে দুই বাড়িতে চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় চেতনা নাশক স্প্রে ব্যবহার করে দুটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার গভীর রাতে খলিশখালী ও বয়রাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দুই বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলিশখালী গ্রামের ঘনু ঘোষের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা চেতনা নাশক স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ফেলে। পরে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণের গহনাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে প্রতিবেশীরা তাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই রাতে পাশের বয়রাডাঙ্গা গ্রামের সাজ্জাদ মুহুরীর বাড়িতেও একই কায়দায় স্প্রে করে ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ফাটল, দুই ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ফাটল, দুই ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের সীমানার খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফাটল ধরা অংশে নেমে দেখতে পান যে বাঁধের নিচের মাটি ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, পাঁচপোতা, বাইনতলা, খাজরা, লাউতাড়াসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে। গত বছরও লোনা পানি ঢুকে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির আমন চাষ ব্যাহত হয়েছিল।
সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) রাশিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনের দৃশ্য দেখে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

মো. সিরাজুল ইসলাম: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে মাছ ধরার কথা বলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই শিশুর নাম মো. অরিদ হাসান। সে সিংগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র এবং সিংগা গ্রামের খায়রুল জামানের ছেলে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আবু হুরায়রা ওরফে রাসেল বাবু (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাসেল বাবু একই গ্রামের রকিবুজ্জামান লাল্টুর ছেলে। পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও গেঞ্জি আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল বাবু মাছ ধরার কথা বলে অরিদকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও অরিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরিদের চাচা মুনছুর আলী জানান, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি অরিদকে গ্রামের ইজাজুল ডাক্তারের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে দেখেছিলেন।
এই তথ্যের সূত্র ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অরিদের বাবা ও চাচাসহ স্বজনেরা ওই নির্মাণাধীন ভবনের পেছনে যান। সেখানে থাকা একটি অব্যবহৃত সেপটিক ট্যাংকের সামনে গিয়ে অরিদের নাম ধরে ডাকতে থাকলে ভেতর থেকে ক্ষীণ স্বরে অরিদের সাড়া পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাংকের ঢাকনা সরিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় অরিদকে উদ্ধার করা হয়।
স্বজনেরা প্রথমে অরিদকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অরিদ কিছুটা সুস্থ হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল বাবু তাকে ওই নির্মাণাধীন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং প্লেসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, কান ও ঘাড়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে অরিদ মারা গেছে ভেবে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে তাকে ভবনের পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর ফেলে ঢাকনা বন্ধ করে পালিয়ে যায় রাসেল বাবু।
এই ঘটনায় অরিদের বাবা মো. খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কলারোয়া থানা-পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর শনিবার (১৮ জুলাই) আসামি রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।