টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ
পত্রদূত রিপোর্ট: দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। তলিয়ে গেছে ফসল ও মাছের ঘের। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কামাননগর, ইটাগাছা, মধুমোল্যারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনিসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এখন জলমগ্ন। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা জাহেদা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বসবাস করেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।’
যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা। তিনি খাল খনন ও নেট-পাটা অপসারণের দাবি জানান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে ড্রেন ও খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া চলছে। সিল্টেড স্লুইসগেটগুলো অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টিতে ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে এবং সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানান, দুই শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, জেলার ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।












