রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ

পত্রদূত রিপোর্ট: দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। তলিয়ে গেছে ফসল ও মাছের ঘের। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কামাননগর, ইটাগাছা, মধুমোল্যারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনিসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এখন জলমগ্ন। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা জাহেদা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বসবাস করেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।’
যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা। তিনি খাল খনন ও নেট-পাটা অপসারণের দাবি জানান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে ড্রেন ও খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া চলছে। সিল্টেড স্লুইসগেটগুলো অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টিতে ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে এবং সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানান, দুই শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, জেলার ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।

Ads small one

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গেল স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গেল স্পেন

১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের দারুণ এক গোলে এগিয়ে গেল স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোলটি করেছেন তোরেস। এবার কি আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

প্রসঙ্গ: শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এবং ভোমরা স্থলবন্দরের সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
প্রসঙ্গ: শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এবং ভোমরা স্থলবন্দরের সংকট

একটি দেশের অর্থনীতির ফুসফুস হলো তার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালিত হয়, তা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব উৎপাদনকারী কেন্দ্র ‘ভোমরা স্থলবন্দর’ যেভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক শর্ত ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার যে বেড়াজাল তৈরি হয়েছে, তার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
দৈনিক পত্রদুতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনের জেরে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে সুতা, তৈরি পোশাক, তুলা, আসবাবপত্র ও পাটজাত পণ্যের মতো অতিপ্রয়োজনীয় ও লাভজনক খাতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এখন তলানিতে। বৈশ্বিক মন্দা ও ডলার সংকটের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শর্তের কড়াকড়ি ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
তবে ভোমরা স্থলবন্দরের এই সংকটের পেছনে শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনই একমাত্র কারণ নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওজন স্কেলে কারসাজি, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাস এবং প্রকাশ্য দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেখানে এমনিতেই বাণিজ্য কমে গেছে, সেখানে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস নামাটা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর শামিল। এই অনিয়ম উচ্ছেদ করা না গেলে বন্দরের ওপর ব্যবসায়ীদের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য স্পষ্টÑএই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শুধু সাতক্ষীরা অঞ্চল নয়, জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমরা দুটি জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ দিচ্ছিÑ ১. দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবিলম্বে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু করতে হবে। বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আরোপিত বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করার বিষয়ে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা এখন সময়ের দাবি। ২. ভোমরা স্থলবন্দরের ওজন স্কেলের কারসাজি বন্ধ করা, মিথ্যা ঘোষণা রোধ এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে সৎ ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবেন না।
রেকর্ড রেমিট্যান্সের প্রবাহ যেমন সাময়িকভাবে আমাদের অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে, ঠিক তেমনি টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়তে স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্য সচল রাখা অপরিহার্য। আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোমরা স্থলবন্দরের এই সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সুন্দরবনে আলিম বাহিনীর হাতে জেলে জিম্মি, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আলিম বাহিনীর হাতে জেলে জিম্মি, উৎকণ্ঠায় পরিবার

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে বনদস্যু আলিম (দয়াল) বাহিনীর হাতে এক জেলে জিম্মি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই জেলের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। জিম্মি হওয়া জেলের নাম রিপন গাজী (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মৃত শফিকুল গাজীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় তাঁরা খবর পান যে, সুন্দরবনের কুকুমারি খাল এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় ওত পেতে থাকা আলিম বাহিনীর সদস্যরা রিপন গাজীকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে রিপনের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্বজনরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পেটের তাগিদে ও জীবিকার সংকটে কিছু জেলে ঝুঁকি নিয়ে বনে যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দস্যু ও ডাকাত চক্র জেলেদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়াসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।