শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

২০২০ সালের মে মাস। পৃথিবী তখন এক অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দী, শহর থমথমে, হাসপাতালগুলো উদ্বেগে ভারী। ঠিক সেই সময় বঙ্গোপসাগরের গভীরে জন্ম নেয় আরেক আতঙ্কÑঘূর্ণিঝড় আম্পান। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এটি পরিণত হয় এক সুপার সাইক্লোনে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছিলেন, উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি সামনে কতটা ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

 

২০২০ সালের ২০ মে সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবন ঘেঁষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে আম্পান। ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া, প্রবল জলোচ্ছ্বাস আর মুষলধারে বৃষ্টি মিলে মুহূর্তেই পুরো উপকূলকে এক অচেনা ভূখ-ে পরিণত করে। কয়েক ঘণ্টার সেই তা-ব কেড়ে নেয় বহু মানুষের জীবন, ধ্বংস করে লাখো মানুষের স্বপ্ন, আর রেখে যায় লবণাক্ত পানির দীর্ঘশ্বাস। আজও সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট কিংবা শ্যামনগরের অনেক মানুষ আম্পানের কথা বলতে গিয়ে থেমে যান।

 

কারও চোখে জল আসে, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ, আম্পান শুধু একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল না; এটি ছিল উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক নির্মম অধ্যায়। উপকূলের মানুষ ঝড়ের ভাষা বুঝতে শেখে ছোটবেলা থেকেই। আকাশের রঙ বদলে গেলে, বাতাসের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে কিংবা নদীর পানি ফুলে উঠলে তারা আঁচ করতে পারেÑবিপদ আসছে। আম্পানের আগেও তেমন লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তা।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি, আবার ঘরে থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক বৃদ্ধ জেলে পরে বলেছিলেন, “করোনার ভয় ছিল, কিন্তু ঝড়ের ভয় তার চেয়েও বড় ছিল। কারণ করোনা ধীরে মারে, ঝড় এক রাতেই সব নিয়ে যায়। ”সরকারি উদ্যোগে লাখো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপকূলের অনেক মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ছাড়তে চাননি। কারণ তাদের ভয় ছিল অন্য জায়গায়Ñঘর ফেলে গেলে যদি সব চুরি হয়ে যায়? গবাদিপশু কে দেখবে? মাছের ঘের ভেসে গেলে কী হবে? এই দ্বিধা উপকূলের মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা। ২০ মে বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়া ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

 

আকাশ কালো হয়ে যায়, বাতাসের শব্দ ধীরে ধীরে গর্জনে রূপ নেয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রকৃতির উন্মত্ততা। প্রথমে টিনের চাল উড়তে থাকে। তারপর একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে লুটিয়ে যায়। নদীর পানি ফুলে উঠে বাঁধের গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মানুষ ঘরের ভেতরে বসে শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কয়রা কিংবা দাকোপের বহু মানুষ পরে জানিয়েছেন, সেদিন বাতাসের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়ছে।

 

কাঁচা ঘরগুলো যেন কাগজের তৈরি খেলনার মতো উড়ে যাচ্ছিল। অনেক পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘরের চাল ধরে বসে ছিল। কেউ সন্তানকে বুকে চেপে রেখেছিল, কেউ বৃদ্ধ মাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল। জলোচ্ছ্বাসের পানি যখন ঘরে ঢুকতে শুরু করল, তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে মানুষ বুঝতেই পারছিল না কোথায় রাস্তা, কোথায় নদী। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই গ্রাম পরিণত হয় নদীতে। কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, কেউ স্কুলের ছাদে উঠে প্রাণ বাঁচায়।

 

আম্পানের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়েছিল ঝড় থেমে যাওয়ার পর। কারণ দুর্যোগের পর মানুষ দেখলÑতাদের চারপাশে শুধু লবণাক্ত পানি আর ধ্বংসস্তূপ। উপকূলের কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। মাছের ঘের ভেসে যায়। পুকুরের মিঠাপানি নষ্ট হয়ে যায়। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। একজন কৃষক বলেছিলেন, “ঘর ভাঙার কষ্ট একরকম, কিন্তু জমি মরে যাওয়ার কষ্ট আরও বড়। কারণ জমিই ছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।”

 

উপকূলের বহু পরিবার দিনমজুরি, কৃষিকাজ কিংবা মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। আম্পানের পর তারা একসঙ্গে সব হারায়। কাজ নেই, ঘর নেই, খাবার নেই। অনেকে রাস্তার পাশে কিংবা বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতে বাধ্য হয়।সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নারীকে দূর থেকে পানি এনে রান্না করতে হয়েছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগেছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।দুর্যোগের পর মানুষ শুধু খাবারের জন্য নয়, নিরাপদ পানির জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে।

 

উপকূলের মানুষের কাছে তখন এক বোতল মিঠাপানি ছিল সোনার চেয়েও মূল্যবান। প্রতিটি দুর্যোগের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑদারিদ্র্য মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসহায় করে তোলে। যাদের পাকা ঘর আছে, সঞ্চয় আছে কিংবা শহরে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা তুলনামূলক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবন দুর্যোগের পর আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একটি ঘূর্ণিঝড় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তে ধ্বংস করে দেয়। একজন জেলের নৌকা ভেঙে গেলে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একজন কৃষকের জমি লবণাক্ত হয়ে গেলে তার পরিবার বছরের পর বছর ক্ষতির মধ্যে থাকে।

 

আম্পানের পর বহু পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নেয়, কেউ মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। কিন্তু জীবিকা স্বাভাবিক না হওয়ায় সেই ঋণ শোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলের মানুষের জীবনে দুর্যোগ যেন এক চক্রের মতো। একটি ঝড় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি দুর্যোগ এসে আঘাত করে। ফলে তাদের জীবন থেকে স্থিতিশীলতা শব্দটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আম্পানের ভয়াবহতার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা ছিল সুন্দরবন।

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি আবারও প্রমাণ করেছে, প্রকৃতি কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন না থাকলে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বনাঞ্চলের ঘন গাছপালা ঝড়ের গতি কমিয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের শক্তি শোষণ করেছে এবং উপকূলের বহু এলাকা সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করেছে। উপকূলের মানুষও এই সত্য জানে। তারা বলে, “সুন্দরবন আছে বলেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।”কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি সেই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পেরেছি?

 

বছরের পর বছর বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ দখল, কয়লাভিত্তিক শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ততা বাড়ছে, নদী ভরাট হচ্ছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।যে বন আমাদের জীবন বাঁচায়, সেই বনকেই আমরা প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছি। এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়; এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এসে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবনে। একজন কৃষক, যিনি হয়তো জীবনে কোনোদিন গাড়িতে চড়েননি, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছেন। তার জমি লবণাক্ত হচ্ছে, ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সব দুর্বলতার মধ্যেও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।

 

আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের কারণে প্রাণহানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এখন তুলনামূলক কম প্রাণহানি হচ্ছে। এটি অবশ্যই বড় অর্জন। তবে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নেই। দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দীর্ঘ সময় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকে। উপকূলের মানুষ শুধু ত্রাণ চায় না; তারা টেকসই নিরাপত্তা চায়। তারা এমন ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে প্রতিটি ঝড়ে তাদের নতুন করে নিঃস্ব হতে হবে না। সব দুর্যোগের পরও উপকূলের মানুষ হার মানে না। এই মানুষগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাহসের প্রতীক।

 

ঝড়ের পরদিনই কেউ ভাঙা ঘর মেরামত শুরু করে। কেউ জাল সেলাই করে নদীতে নামে। কেউ লোনা জমিতে আবারও ফসল ফলানোর চেষ্টা করে।তাদের জীবন কষ্টে ভরা, কিন্তু সেই জীবনের ভেতরেই আছে বেঁচে থাকার অসাধারণ শক্তি। সাতক্ষীরার এক নারী বলেছিলেন, “আমরা কাঁদি, আবার ঘুরে দাঁড়াই। কারণ বাঁচতে তো হবেই।” এই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিই উপকূলকে টিকিয়ে রেখেছে। আম্পানের মতো দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হবে। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নি¤œমানের কাজ হয়। ফলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই বাঁধ ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। তৃতীয়ত, উপকূলের মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু কৃষি বা মাছের ঘেরের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

 

দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। যারা দূষণ করে, তাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আম্পান আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেÑপ্রকৃতিকে জয় করা যায় না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়নের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই বিপদ ডেকে আনে।নদী দখল, বন উজাড়, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্লাস্টিক দূষণÑসবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি। প্রকৃতি একসময় তার প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর সেই প্রতিক্রিয়াই হয়ে ওঠে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস।

 

সুন্দরবন, নদী ও পরিবেশকে রক্ষা করা এখন শুধু পরিবেশবাদীদের দাবি নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কারণ, উপকূল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে নাÑক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলের অনেক মানুষ এখনও সেই ক্ষত বহন করছে। কোথাও এখনও ভাঙা বাঁধের স্মৃতি, কোথাও লবণাক্ত জমির অভিশাপ, কোথাও হারিয়ে যাওয়া মানুষের কান্না। কিন্তু এই দুর্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

 

বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানই টিকে থাকার একমাত্র পথ। আজ যদি আমরা সুন্দরবনকে রক্ষা করি, উপকূলকে শক্তিশালী করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সচেতন হই, তাহলে ভবিষ্যতের প্রজন্ম হয়তো আরও নিরাপদ বাংলাদেশ পাবে।আর যদি আমরা এখনও উদাসীন থাকি, তাহলে আম্পান শুধু অতীতের একটি ঝড় হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আকস্মিক এ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে, আওয়ামী লীগৈর নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের স্থানটি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন নিউজ পোটাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, “শিশু হত্যা, খুন, ধর্ষণ, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ এর সংকট ও শিক্ষার অধিকার হরণের দায়ে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে” স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে মছিলটি সড়কের কিছু অংশ অতিক্রম করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এসব নিউজ পোটালের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
“মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে” এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোের্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের এমপি, মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. নূরুল আফসার মুর্তাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমানসহ উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ১২টি বিদ্যালয়ের “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপনকৃত মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে, সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে, গুনাকরকাটি শাহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদরের ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শহীদুল ইসলাম মুকুল।
এছাড়াও বিভিন্ন সেশনে বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন,জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা উসমান গনি, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি আলী আহসান আল মুজাহিদ প্রমুখ।