শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

২০২০ সালের মে মাস। পৃথিবী তখন এক অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দী, শহর থমথমে, হাসপাতালগুলো উদ্বেগে ভারী। ঠিক সেই সময় বঙ্গোপসাগরের গভীরে জন্ম নেয় আরেক আতঙ্কÑঘূর্ণিঝড় আম্পান। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এটি পরিণত হয় এক সুপার সাইক্লোনে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছিলেন, উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি সামনে কতটা ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

 

২০২০ সালের ২০ মে সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবন ঘেঁষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে আম্পান। ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া, প্রবল জলোচ্ছ্বাস আর মুষলধারে বৃষ্টি মিলে মুহূর্তেই পুরো উপকূলকে এক অচেনা ভূখ-ে পরিণত করে। কয়েক ঘণ্টার সেই তা-ব কেড়ে নেয় বহু মানুষের জীবন, ধ্বংস করে লাখো মানুষের স্বপ্ন, আর রেখে যায় লবণাক্ত পানির দীর্ঘশ্বাস। আজও সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট কিংবা শ্যামনগরের অনেক মানুষ আম্পানের কথা বলতে গিয়ে থেমে যান।

 

কারও চোখে জল আসে, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ, আম্পান শুধু একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল না; এটি ছিল উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক নির্মম অধ্যায়। উপকূলের মানুষ ঝড়ের ভাষা বুঝতে শেখে ছোটবেলা থেকেই। আকাশের রঙ বদলে গেলে, বাতাসের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে কিংবা নদীর পানি ফুলে উঠলে তারা আঁচ করতে পারেÑবিপদ আসছে। আম্পানের আগেও তেমন লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তা।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি, আবার ঘরে থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক বৃদ্ধ জেলে পরে বলেছিলেন, “করোনার ভয় ছিল, কিন্তু ঝড়ের ভয় তার চেয়েও বড় ছিল। কারণ করোনা ধীরে মারে, ঝড় এক রাতেই সব নিয়ে যায়। ”সরকারি উদ্যোগে লাখো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপকূলের অনেক মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ছাড়তে চাননি। কারণ তাদের ভয় ছিল অন্য জায়গায়Ñঘর ফেলে গেলে যদি সব চুরি হয়ে যায়? গবাদিপশু কে দেখবে? মাছের ঘের ভেসে গেলে কী হবে? এই দ্বিধা উপকূলের মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা। ২০ মে বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়া ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

 

আকাশ কালো হয়ে যায়, বাতাসের শব্দ ধীরে ধীরে গর্জনে রূপ নেয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রকৃতির উন্মত্ততা। প্রথমে টিনের চাল উড়তে থাকে। তারপর একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে লুটিয়ে যায়। নদীর পানি ফুলে উঠে বাঁধের গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মানুষ ঘরের ভেতরে বসে শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কয়রা কিংবা দাকোপের বহু মানুষ পরে জানিয়েছেন, সেদিন বাতাসের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়ছে।

 

কাঁচা ঘরগুলো যেন কাগজের তৈরি খেলনার মতো উড়ে যাচ্ছিল। অনেক পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘরের চাল ধরে বসে ছিল। কেউ সন্তানকে বুকে চেপে রেখেছিল, কেউ বৃদ্ধ মাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল। জলোচ্ছ্বাসের পানি যখন ঘরে ঢুকতে শুরু করল, তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে মানুষ বুঝতেই পারছিল না কোথায় রাস্তা, কোথায় নদী। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই গ্রাম পরিণত হয় নদীতে। কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, কেউ স্কুলের ছাদে উঠে প্রাণ বাঁচায়।

 

আম্পানের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়েছিল ঝড় থেমে যাওয়ার পর। কারণ দুর্যোগের পর মানুষ দেখলÑতাদের চারপাশে শুধু লবণাক্ত পানি আর ধ্বংসস্তূপ। উপকূলের কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। মাছের ঘের ভেসে যায়। পুকুরের মিঠাপানি নষ্ট হয়ে যায়। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। একজন কৃষক বলেছিলেন, “ঘর ভাঙার কষ্ট একরকম, কিন্তু জমি মরে যাওয়ার কষ্ট আরও বড়। কারণ জমিই ছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।”

 

উপকূলের বহু পরিবার দিনমজুরি, কৃষিকাজ কিংবা মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। আম্পানের পর তারা একসঙ্গে সব হারায়। কাজ নেই, ঘর নেই, খাবার নেই। অনেকে রাস্তার পাশে কিংবা বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতে বাধ্য হয়।সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নারীকে দূর থেকে পানি এনে রান্না করতে হয়েছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগেছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।দুর্যোগের পর মানুষ শুধু খাবারের জন্য নয়, নিরাপদ পানির জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে।

 

উপকূলের মানুষের কাছে তখন এক বোতল মিঠাপানি ছিল সোনার চেয়েও মূল্যবান। প্রতিটি দুর্যোগের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑদারিদ্র্য মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসহায় করে তোলে। যাদের পাকা ঘর আছে, সঞ্চয় আছে কিংবা শহরে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা তুলনামূলক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবন দুর্যোগের পর আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একটি ঘূর্ণিঝড় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তে ধ্বংস করে দেয়। একজন জেলের নৌকা ভেঙে গেলে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একজন কৃষকের জমি লবণাক্ত হয়ে গেলে তার পরিবার বছরের পর বছর ক্ষতির মধ্যে থাকে।

 

আম্পানের পর বহু পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নেয়, কেউ মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। কিন্তু জীবিকা স্বাভাবিক না হওয়ায় সেই ঋণ শোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলের মানুষের জীবনে দুর্যোগ যেন এক চক্রের মতো। একটি ঝড় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি দুর্যোগ এসে আঘাত করে। ফলে তাদের জীবন থেকে স্থিতিশীলতা শব্দটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আম্পানের ভয়াবহতার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা ছিল সুন্দরবন।

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি আবারও প্রমাণ করেছে, প্রকৃতি কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন না থাকলে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বনাঞ্চলের ঘন গাছপালা ঝড়ের গতি কমিয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের শক্তি শোষণ করেছে এবং উপকূলের বহু এলাকা সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করেছে। উপকূলের মানুষও এই সত্য জানে। তারা বলে, “সুন্দরবন আছে বলেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।”কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি সেই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পেরেছি?

 

বছরের পর বছর বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ দখল, কয়লাভিত্তিক শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ততা বাড়ছে, নদী ভরাট হচ্ছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।যে বন আমাদের জীবন বাঁচায়, সেই বনকেই আমরা প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছি। এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়; এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এসে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবনে। একজন কৃষক, যিনি হয়তো জীবনে কোনোদিন গাড়িতে চড়েননি, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছেন। তার জমি লবণাক্ত হচ্ছে, ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সব দুর্বলতার মধ্যেও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।

 

আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের কারণে প্রাণহানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এখন তুলনামূলক কম প্রাণহানি হচ্ছে। এটি অবশ্যই বড় অর্জন। তবে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নেই। দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দীর্ঘ সময় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকে। উপকূলের মানুষ শুধু ত্রাণ চায় না; তারা টেকসই নিরাপত্তা চায়। তারা এমন ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে প্রতিটি ঝড়ে তাদের নতুন করে নিঃস্ব হতে হবে না। সব দুর্যোগের পরও উপকূলের মানুষ হার মানে না। এই মানুষগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাহসের প্রতীক।

 

ঝড়ের পরদিনই কেউ ভাঙা ঘর মেরামত শুরু করে। কেউ জাল সেলাই করে নদীতে নামে। কেউ লোনা জমিতে আবারও ফসল ফলানোর চেষ্টা করে।তাদের জীবন কষ্টে ভরা, কিন্তু সেই জীবনের ভেতরেই আছে বেঁচে থাকার অসাধারণ শক্তি। সাতক্ষীরার এক নারী বলেছিলেন, “আমরা কাঁদি, আবার ঘুরে দাঁড়াই। কারণ বাঁচতে তো হবেই।” এই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিই উপকূলকে টিকিয়ে রেখেছে। আম্পানের মতো দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হবে। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নি¤œমানের কাজ হয়। ফলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই বাঁধ ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। তৃতীয়ত, উপকূলের মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু কৃষি বা মাছের ঘেরের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

 

দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। যারা দূষণ করে, তাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আম্পান আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেÑপ্রকৃতিকে জয় করা যায় না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়নের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই বিপদ ডেকে আনে।নদী দখল, বন উজাড়, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্লাস্টিক দূষণÑসবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি। প্রকৃতি একসময় তার প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর সেই প্রতিক্রিয়াই হয়ে ওঠে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস।

 

সুন্দরবন, নদী ও পরিবেশকে রক্ষা করা এখন শুধু পরিবেশবাদীদের দাবি নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কারণ, উপকূল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে নাÑক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলের অনেক মানুষ এখনও সেই ক্ষত বহন করছে। কোথাও এখনও ভাঙা বাঁধের স্মৃতি, কোথাও লবণাক্ত জমির অভিশাপ, কোথাও হারিয়ে যাওয়া মানুষের কান্না। কিন্তু এই দুর্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

 

বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানই টিকে থাকার একমাত্র পথ। আজ যদি আমরা সুন্দরবনকে রক্ষা করি, উপকূলকে শক্তিশালী করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সচেতন হই, তাহলে ভবিষ্যতের প্রজন্ম হয়তো আরও নিরাপদ বাংলাদেশ পাবে।আর যদি আমরা এখনও উদাসীন থাকি, তাহলে আম্পান শুধু অতীতের একটি ঝড় হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। দলীয় কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০টা থেকে শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর বাজারসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে এই প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন পৌর জামায়াতের আমির হারুন-অর রশীদ সাচ্চু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মঈনুদ্দীন, গোলাম মোস্তফা, যুব বিভাগের সাঈদী হাসান বুলবুল এবং ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে জামায়াতের একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
কর্মসূচিপালনের সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে হলে নিজের আঙিনাসহ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু লক্ষণে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরমর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সেবন ও মানসিক শক্তি ধরে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

 

পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়: পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়: পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের সরুলিয়া বাজার থেকে মুরারিকাটি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশ দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। এতে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ডাকাতি, মাদকসেবন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই রুটে চলাচলকারী যানবাহনচালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তালা ও কলারোয়াÑএই দুই উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ের কারণে বেশ কিছু স্থান দিনের বেলাতেও নির্জন ও আড়ালযুক্ত হয়ে থাকে। ফলে সেখানে অপরাধীরা সহজেই লুকিয়ে থাকে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মাহমুদুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা এই জঙ্গলের আড়ালকে অপরাধের কাজে ব্যবহার করছে। ধানদিয়া চৌরাস্তা মোড়ের মুদি দোকানদার ফরিদুল ইসলাম জানান, বাইরের পথচারীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন। সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়, কারণ অপরাধীরা লুটপাট করে দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের দুই পাশের আগাছা ও জঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের আতঙ্ক কাটাতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে এলজিআরডির এক কর্মকর্তা জানান, খুব দ্রুতই সড়কটির দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হবে। তবে বর্ষাকাল হওয়ায় জঙ্গল দ্রুত বেড়ে ওঠে। পাটকেলঘাটা থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার দুই পাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে নিয়মিত পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে এবং আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই টহল আরও জোরদার করা হবে।

কেশবপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে প্রায় ১১ মাস আগে সংঘটিত তোতা সরদারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফারুক হোসেন, আব্দুস সালাম ও বিল্লাল হোসেনের পক্ষ থেকে বাদীপক্ষকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। গত ৭ অক্টোবর এই মামলাকে কেন্দ্র করে তোতা সরদারের মেয়ে ও মামলার বাদী আসমা খাতুন এবং তাঁর চাচাতো বোন জেসমিন আক্তারকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে একই দিনে চিংড়া বাজার ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন দাবি করেন, তাঁরা কাউকে কোনো ধরনের হুমকি বা মারধর করেননি এবং এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের ক্ষোভ, হত্যা মামলার দীর্ঘ ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। এ বিষয়ে চিংড়া বাজার ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ শামীম হোসাইন জানান, মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।