পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঘোজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানসহ পরিচালনা কমিটির তিনজন সদস্য এবং কয়েকজন অভিভাবক গত ১৮ অক্টোবর (রবিবার) এ অভিযোগ করেন। আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু মুছা সরদার সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদুল ইসলাম ঘোজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি ছাত্রীদের ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে আসছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, খেলাধুলার বরাদ্দ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্লিপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁকে অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠান। পরে শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি বর্তমান বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। এ ছাড়া ৩৮ নম্বর মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৯ নম্বর কাজলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৭ নম্বর কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৪ নম্বর নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৭২ নম্বর সেহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময়ও ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জুতোপেটা, ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছিল। ওই সব ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং তার ফটোকপি অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘোজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলি করা না হলে বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী অন্যত্র চলে যাবে। অক্টোবরের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা সদরের ফুলতলা মোড়ে ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করা হবে।
এ বিষয়ে ঘোজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা হলেও বর্তমান অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। পূর্বের অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে বদলি করানোর জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।