বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গুলিতে জেলের মৃত্যু, রেঞ্জ কার্যালয়সহ স্টেশন অফিসে হামলা: ২৪ ঘন্টা পরেও কোন ঘটনায় মামলা হয়নি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
গুলিতে জেলের মৃত্যু, রেঞ্জ কার্যালয়সহ স্টেশন অফিসে হামলা: ২৪ ঘন্টা পরেও কোন ঘটনায় মামলা হয়নি

শ্যামনগর প্রতিনিধি: কাঁকড়া শিকার করতে সুন্দরবনে যেয়ে বনরক্ষীদের গুলিতে নিহত শ্যামনগর উপজেলার ৯নং সোরা গ্রামের বনজীবী আমিনুর রহমানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের পর বিকাল চারটার দিকে তার মৃতদেহ উপজেলার ৯নং সোরা গ্রামের বাড়িতে পৌছায়। তবে আমিনুরের মৃত্যু ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর হামলা, ভাংচুরসহ লুটপাটের ঘটনায় গত ২৪ ঘন্টাতেও কোন মামলা হয়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নিহত বনজীবীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে সুন্দরবনে যাওয়া জেলেদের উপর বনরক্ষীদের গুলি বর্ষণ এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়সহ বুড়িগোয়াালীনি স্টেশন অফিস ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গুরুত্বপুর্ন তথ্য মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্র ঘেটে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলার আগে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উস্কানি দেয়া হয়। গাবুরা ইউনিয়ন যুববিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ফেসবুক লাইভে এসে সবাইকে বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসে জড়ো হওয়ার আহবান জানান। প্রায় সাত মিনিটের বক্তব্যে তিনি ঘোষনা দেন “আমিনুর হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বনবিভাগের অফিসের সামনে লাশ নিয়ে অবস্থান করবো’।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায় বেলা ১১টার দিকে ইয়াছিন আরাফাতের আহবানের পর থেকে লোকজন গাবুরার ডুমুরিয়া, দৃষ্টিনন্দন ও চাঁদনীমুখা পয়েন্টে জড়ো হতে শুরু করে। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ১০/১২টি ট্রলারযোগে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী আমিনুরের মৃতদেহ নিয়ে গাবুরা হতে নদী পার হয়ে নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌছায়। এসময় দাতিনাখালী এবং বুড়িগোয়ালীনি এলাকা হতে আগত আরও তিন/চারশ মানুষ ট্রলারে আসা গ্রামবাসীদের সাথে একত্রিত হয়ে রেঞ্জ অফিসের দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে রেঞ্জ অফিসের সামনের রাস্তায় লাশ রেখে তারা সেখানকার সীমানা প্রাচীর ভাংচুর ও সেখানে স্থাপনকৃত জিআই পাইপগুলো খুলে নিয়ে রেঞ্জ অফিসের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

নীলডুমুর গ্রামের আব্দুল মালেক ও ফয়সাল হোসেনসহ স্থানীয়রা জানায় রেঞ্জ অফিসে ঢুকে হামলাকারীরা জিআই পাইপ দিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে দেয়। এসময় তারা রেঞ্জ অফিসের নিচতলার ব্যালকনি ছাড়াও রেঞ্জ কার্যালয়ের গ্রিল, জানালা, গেট ভেঙে ফেলে। এসময় হামলাকারীরা নানা ধরনের শ্লোগান দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষনে দেখা যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হামলায় নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাবুরা ইউনিয়ন যুববিভাগের আহবায়ক ইয়াছিন আরাফাত ছাড়াও গাবুরা ইউয়িন জামাতের ৯নং সোরা এলাকার দায়িত্বশীল আবিয়ার রহমান, গাবুরা ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আ’লীগ নেতা মঞ্জু গাজী, জামায়াত কর্মী রবিউল ইসলাম জোয়ারদার, ইউনিয়ন যুবদল নেতা রিপন সরাসরি হামলায় অংশ নেয়। এসময় হামলাকারীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দিদারুল আলম, গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলমসহ তাদের কর্মী সমর্থকরা।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, হামলাকারীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে প্রবেশ করেই ব্যাপক ভাংচুর চালায়। কলাপসিপল গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে হাতে থাকা জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তারা সামনে যা কিছু পড়ে সব ভেঙে ফেলে। এসময় হামলার সাথে জড়িতরা রান্নাঘরে ঢুকে প্লেট পিরিচ গামলাসহ সর্বস্ব ভেঙে দিয়ে চাল, ডালসহ রান্নার বেশকিছু উপকরণ লুট করে নিয়ে যায়। ফ্রিজ ও অফিসের এসি পর্যন্ত ভেঙে গুড়িয়ে দেয় তারা। এসময় রেঞ্জ কার্যালয়ের সিঁড়ির পাশে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বনবিভাগের এ কর্মকর্তা আরও জানান বনরক্ষীর গুলিতে জেলের মৃত্যুর ঘটনা খুলনা রেঞ্জে ঘটেছে। অথচ হামলা, ভাংচুরসহ লুটপাট করা হলো সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয় ওপ পাশের স্টেশন অফিসে। ঘটনার পিছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে- দাবি করে তিনি আরও জানান হামলাকারীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে ঢুকে বনবিভাগের যাকে সামনে পেয়েছি তাকেই পিটিয়েছে। আহত তার পাঁচ স্ট্যাফের মধ্যে মেজা উদ্দীনের দুই হাত ভেঙে গেছে। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা ফয়জুর রহমানের মাথার হাঁড় ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা পাঠানো হয়েছে। রেঞ্জ কার্যালয়সহ স্টেশন অফিসে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যুববিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের বনরক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে বনজীবীদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। যে কারনে তার প্রতিবেশী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করায় তিনি আবেগ সামলাতে না পেরে ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি হামরায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
মাসুদুল আলম জানান, উত্তেজিত লোকজনকে ফিরিয়ে আনতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। নিজের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালান।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, বনবিভাগ মামলা করবে বলে জানালেও মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি। এছাড়া জেলে নিহতের ঘটনায় তার পরিবার খুলনা জেলার কয়রা থানায় মামলা করতে গেছে।

এদিকে বনরক্ষীর গুলিতে নিহত বনজীবী আমিনুর রহমানের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে ভিডিও কলে আমিনুরের স্ত্রী ছকিনা খাতুনের সাথে কথা বলেন তিনি।

 

এসময় প্রতিমন্ত্রী নিহত বনজীবীর পরিবারকে সবধরনের সহায়তার আশ্বাষ দেন। একইসাথে যথাযথ তদন্তপুর্বক দোষী বনকর্মীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক মাস্তি নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ড. মো. মনিরুজ্জামান স্ত্রীসহ পাঁচ সন্তান রেখে যাওয়া বনজীবী আমিনুরের পরিবারের জন্য বাসযোগ্য একটি বসতঘর নির্মান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডাকসু নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ, মাসুদুল আলম, সোলায়মান কবির, শেখ লিয়াকত আলী, গোলাম আলমগীর, শহীদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, আজিজুল সরদার প্রমুখ।

একইভাবে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল নিহত আমিনুরের পরিবারের পাশে দাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই ১৫/১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিহত আমিনুরের বাড়িতে পৌছাায়। এসময় পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারানো অসহায় মানুষগুলোর জন্য নগদ সহায়তা প্রদান করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আব্দুল হামিদ, পৌর জামায়াতের আমির হারুন-অর রশিদ সাচ্চুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগন উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে বীমার নামে ১শত ৮ জনের ২৫লক্ষ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তোভোগী পরিবার। এসময় ভুক্তোভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার ডাঙ্গা নলতা মাঝারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ডাঙ্গানলতা, জাতপুর, আটরাই, খানপুর, জেয়ালা ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী অংশগ্রহণ করেন। পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ২৫লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তরা হলেন, কতুব উদ্দীন মাহমুদ, নুর আলি শেখ, পীর আলি শেখ, কালাম মাহামুদ, আরিজুল মালি, জহিরুল ইসলাম, জিহাদ মালি, নীলিমা বেগম, সুফিয়া বেগম, পারভীন, সুফিয়া রশিদা, রিজিয়া,সোরাইয়া, মুক্তা প্রমুখ।
সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন তালা সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রোকন, পরলোভী, অর্থ আত্মসাতকারী সাহিদা বেগম পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে সদস্য করেন। পরে প্রায় ১০৮ জন সদস্যের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বীমার নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির বীমা প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। কিন্তু বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ থেকে ৯ বছর অতিবাহিত হলেও তারা তাদের জমাকৃত টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা ফেরত পাননি। বারবার টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, দিনমজুরির আয়, ভ্যান চালানোর উপার্জন, ডিম বিক্রির টাকা, ক্ষুদ্র ব্যবসার লাভ এবং প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থসহ কষ্টার্জিত সঞ্চয় ওই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অর্থ ফেরত না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাহিদা বেগম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমীর, উজেলা আমীর, ইউনিয়ন আমীরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহিদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমি খুলনা থেকে বাড়িতে আসছি। গাড়িতে থাকায় কিছু শোনা যাচ্ছেনা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ।

বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ আমাদের সবার দায়িত্ব। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক হোন, এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বৈশ্বিক নৈতিকতার দাবি।
আদিকাল থেকে নিপীড়ন থকে বাঁচতে অনেকে মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন। শরণার্থীর বেঁচে থাকার এবং নিরাপদে আশ্রয় খোঁজার মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা আমাদের নৈতিক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব। বলপ্রয়োগ, যুদ্ধ এবং সহিংসতার কারণে নিজের মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কর্তব্য।
২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়। ২০০০ সালের ডিসেম্বরের আগে দিবসটি আফ্রিকা শরণার্থী দিবস হিসেবে পালিত হতো। ১৯৫১ সালে শরণার্থীদের স্বীকৃতির বিষয়ে জাতিসংঘের সনদ গৃহীত হয়।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে আসা এই মানুষগুলোর জন্য খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের মতো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শরণার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে অন্যদের উৎসাহিত করা। বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় কাজ করে এমন বিশ্বস্ত সংস্থাগুলোকে সহায়তা বা অনুদান প্রদান করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক শরণার্থী। ক্রমবর্ধমান এই বাস্তুচ্যুতির বিপরীতে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শরণার্থী তীব্র খাদ্য সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখই শিশু। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হয়ে ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ সংঘাতের কারণে নিজ দেশের ভেতরেই গৃহহীন হয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় কেবল লেবাননেই ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও, ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আবারও মারাত্মক করে তুলেছে।
বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের প্রায় ৭৩ ভাগ নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করায় তারা খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার চরম সংকটে ভুগছেন। এর ওপর আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা তহবিল কাটছাঁট হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ৭০ শতাংশ শরণার্থীই ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে, যা শরণার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মূল চাবিকাঠি হলো শরণার্থীদের স্থানীয় কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন বর্তমানে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বিপন্ন শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুতির সামগ্রিক সংখ্যা সামান্য কমেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ সাত দেশের অধিবাসী। সে গুলো হলো- সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ফিলিস্তিন, সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া। যাদের প্রায় সবাই মুসলিম।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ কোটি ১২ লাখ, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে শিশু ৪০ শতাংশ (৪ কোটি ৪৯ লাখ) এবং শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লাখ। আর বিশ্বে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে থাকা মানুষের ৬৯ শতাংশের উৎস ৫ দেশ। এই ৫ দেশের মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে ৬২ লাখ, সিরিয়া থেকে ৬০ লাখ, আফগানিস্তান থেকে ৫৮ লাখ, ইউক্রেন থেকে ৫১ লাখ ও দক্ষিণ সুদান থেকে ২৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান বলছে, ৩৭ শতাংশ শরণার্থী অবস্থান করছে ৫টি দেশে। এর মধ্যে ইরানে রয়েছে ৩৫ লাখ, তুর্কিতে রয়েছে ৩৩ লাখ, কলম্বিয়াতে রয়েছে ২৮ লাখ, জার্মানিতে ২৭ লাখ ও উগান্ডায় রয়েছে ১৮ লাখ। প্রতি বছর শরণার্থী হিসেবে জন্ম নিচ্ছে ২৩ লাখ শিশু। মোট শরণার্থীর ৭৩ শতাংশের আশ্রয়দাতা নি¤œ ও মধ্যবিত্ত দেশ এবং ৬৭ শতাংশ শরণার্থীর আশ্রয়দাতা প্রতিবেশী দেশ।
শরণার্থী প্রসঙ্গে দুটি বিষয় কাজ করে। একটি অতিত বা পুরোনো, আরেকটি এখনও চলমান। ১৯৭১ সালে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়েছিল। আর স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয়। আরাকানে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের দলগত আগমন বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
শরণার্থী সংকট সমাধানে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ হলো নারী ও শিশু, যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সম্পাদকীয়/অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও নিয়মিত দুর্ভোগ: সমাধান কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও নিয়মিত দুর্ভোগ: সমাধান কোথায়?

গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরা জেলার জনজীবন বর্তমানে এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার কয়েক লাখ গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও বেশি শোচনীয়। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের এই বিশাল ঘাটতি কেবল যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলছে তা নয়, বরং স্থবির করে দিচ্ছে জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিকে।
বিদ্যুৎ সংকটের এই ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রচ- গরমে একদিকে যেমন রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশে যখন গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি কিংবা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হয়, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
কেবল গৃহস্থালি ভোগান্তিই নয়, এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের আঘাত হানছে। জেলার অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ভোমরা স্থলবন্দর ও কাস্টমস হাউস। বর্তমানের শতভাগ অনলাইননির্ভর দাপ্তরিক যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামা করায় সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ির ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকার কারণেই তারা এলাকাভিত্তিক ‘ফিডার’ ধরে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আমরা বুঝি, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু এই তীব্র গরমে দিনের পর দিন এভাবে একটি উৎপাদনশীল জেলাকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জেলায় বিদ্যুতের বরাদ্দ অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জাতীয় গ্রিড থেকে সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, লোডশেডিং যদি দিতেই হয়, তবে তা যেন সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত সূচি মেনে দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মানসিকভাবে এবং কর্মক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। আমরা আশা করি, বিদ্যুৎ বিভাগ স্রেফ ‘চেষ্টা চলছে’ আশ্বাসের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দ্রুততম সময়ে সাতক্ষীরাবাসীকে এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবে।