মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রামীণ মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাংলার মেলা আর মৃৎশিল্প যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল। মেলার সঙ্গে মৃৎশিল্পের এই গভীর সম্পর্ক। মৃৎশিল্প বাংলার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মাটি ও কুমোরদের শৈল্পিক দক্ষতায় ফুটে ওঠে। পোড়ামাটির ফলক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল ও শখের হাঁড়ি এই শিল্পের প্রধান নিদর্শন। মেলা মানেই যেখানে মাটির গন্ধে ম ম করা এক শৈল্পিক জগত। যা উৎসবের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
গ্রামীণ মেলায় মৃৎশিল্পের উজ্জ্বল উপস্থিতি। কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্র লাল, নীল ও হলুদ রঙের আলপনায় সজ্জিত হয়ে মেলার পরিবেশকে রঙ্গিন ও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই শিল্পে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, সরা ও শখের হাঁড়ি মানুষের হাসি-কান্নার গল্প ফুটিয়ে তোলে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। গ্রামবাংলার বৈশাখী মেলা, রথ মেলা কিংবা পৌষ মেলায় মাটির তৈরি জিনিসের পসরাই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। বাহারি রঙের শখের হাঁড়ি, মাটির পুতুল, ঘোড়া, হাতি এবং ছোটদের খেলনা ছাড়া মেলার পূর্ণতা আসে না।
চৈত্র সংক্রান্তি হলো বাংলা সনের শেষ দিন। পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি হিসেবে উৎসব ও মেলার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিন পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলেও গ্রামীণ জনপদে তা অসাম্প্রদায়িক রূপ পায়। সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণ চড়কপূজা, গাজন মেলা ও নানা লোকজ আয়োজন। চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের ধারক।
বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক মেলা, যেখানে মেলার সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির যোগাযোগ নিবিড়। বাংলার এই সংস্কৃতিতে থাকে সব ধর্মের মানুষের সংস্কৃতির সমন্বয়। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায় বা কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় মেলার। মেলাকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। গ্রামের মেলায় যাত্রা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, জারি-সারি, রামায়ণ, গম্ভীরা কীর্তন, পালার আসর, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, লাঠি খেলা, হাডুডু খেলা মুগ্ধ করে আগত দর্শনার্থীদের। এখনও নাগরদোলা সব বয়সীদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। মেলায় আবার বিভিন্ন নাটক বা যাত্রাপালারও আয়োজন করা হয়।
মৃৎশিল্প বা মাটির কাজ বাঙালির হাজার বছরের পুরনো এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এটি কেবল একটি পেশা নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যা বংশপরম্পরায় কুমোররা বা পাল সম্প্রদায় টিকিয়ে রেখেছেন। এই শিল্পের মূল উপাদান হলো এঁটেল মাটি, তবে দোআঁশ বা কাদামাটিও ব্যবহৃত হয়। চাকা ঘুরিয়ে বা হাতে ছাঁচ তৈরি করে মাটি দিয়ে পাত্র বা মূর্তি বানানো হয়। এরপর সেগুলোকে কড়া রোদে শুকিয়ে চুল্লিতে (পন) উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয় যাতে সেগুলো টেকসই ও মজবুত হয়। মাটির তৈরি এই সামগ্রীগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
মৃৎশিল্প মাটি আর রঙের খেলা, মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প। এই কথাটি সার্থক হয় যখন কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্রে উজ্জ্বল লাল, নীল, হলুদ ও সাদা রঙের আলপনা ফুটে ওঠে। মাটির সামগ্রীতে মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুখের অনুভূতি, প্রেম-বিরহের নানা দৃশ্যপট, মনোমুগ্ধকর ছবি হাতের স্পর্শে ফুটিয়ে তুলতেন শিল্পীরা। বিশেষ করে মাটির সরা এবং হাঁড়িতে আঁকা লোকজ মোটিফগুলো মেলাকে এক অনন্য রূপ দেয়।
অনেক মৃৎশিল্পী সারা বছর মেলা বা পার্বণের অপেক্ষায় থাকেন। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটে এই শিল্প সংকটে পড়লেও মেলাগুলোতে এখনও মাটির নান্দনিক পণ্যের ভালো চাহিদা থাকে, যা এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এই পরিবেশবান্ধব শিল্প প্লাস্টিক দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে আধুনিক উপকরণের দাপটে এটি বর্তমানে সংকটের পথ থেকে বেরুতে পারেনি।
গ্রামীণ মেলা আর মৃৎশিল্প যেন একই সুতায় গাঁথা। মেলা মানেই মাটির তৈজসপত্র আর খেলনার এক রঙিন দুনিয়া। গ্রামবাংলার চৈত্র সংক্রান্তি, বৈশাখী, বারুণী মেলা বা যে কোনো মেলা হোক, মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের কাজ ছাড়া মেলার পূর্ণতা আসে না। মাটির শিল্প আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির বাহক। ময়নামতির শালবন বিহার বা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা আমাদের সেই প্রাচীন গৌরবের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আজও মেলার মাধ্যমে বেঁচে আছে।
বর্তমানে প্লাস্টিক ও টিন-লোহার ব্যবহারের ফলে মৃৎশিল্পের চাহিদা কমছে। অনেক কারিগরকে আর্থিক সংকটের মুখে ফেলছে। শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় কুমোররা এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। মেলা মানেই তাদের তৈরি পসরা বিক্রির প্রধান সুযোগ। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সহজলভ্যতার কারণে এই শিল্পটি অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবুও বাংলার মেলাগুলো এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে এখনও তার স্বমহিমায় টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
বর্তমান সময়ে আধুনিক সরঞ্জামের ভিড়ে মাটির জিনিসের চাহিদা কমলেও শৌখিন জিনিস হিসেবে মৃৎশিল্পের কদর রয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখে মাটির সানকিতে পান্তা খাওয়া বা ঘর সাজাতে মাটির ফুলদানি ব্যবহারের রীতি একে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে। পরিবেশ সচেতনতা বাড়ায় আধুনিক সময়ে ঘরের অন্দরসজ্জায় মাটির জিনিসের পুনরুত্থান ঘটছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাটির পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।