সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রামীণ মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাংলার মেলা আর মৃৎশিল্প যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল। মেলার সঙ্গে মৃৎশিল্পের এই গভীর সম্পর্ক। মৃৎশিল্প বাংলার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মাটি ও কুমোরদের শৈল্পিক দক্ষতায় ফুটে ওঠে। পোড়ামাটির ফলক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল ও শখের হাঁড়ি এই শিল্পের প্রধান নিদর্শন। মেলা মানেই যেখানে মাটির গন্ধে ম ম করা এক শৈল্পিক জগত। যা উৎসবের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
গ্রামীণ মেলায় মৃৎশিল্পের উজ্জ্বল উপস্থিতি। কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্র লাল, নীল ও হলুদ রঙের আলপনায় সজ্জিত হয়ে মেলার পরিবেশকে রঙ্গিন ও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই শিল্পে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, সরা ও শখের হাঁড়ি মানুষের হাসি-কান্নার গল্প ফুটিয়ে তোলে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। গ্রামবাংলার বৈশাখী মেলা, রথ মেলা কিংবা পৌষ মেলায় মাটির তৈরি জিনিসের পসরাই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। বাহারি রঙের শখের হাঁড়ি, মাটির পুতুল, ঘোড়া, হাতি এবং ছোটদের খেলনা ছাড়া মেলার পূর্ণতা আসে না।
চৈত্র সংক্রান্তি হলো বাংলা সনের শেষ দিন। পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি হিসেবে উৎসব ও মেলার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিন পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলেও গ্রামীণ জনপদে তা অসাম্প্রদায়িক রূপ পায়। সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণ চড়কপূজা, গাজন মেলা ও নানা লোকজ আয়োজন। চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের ধারক।
বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক মেলা, যেখানে মেলার সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির যোগাযোগ নিবিড়। বাংলার এই সংস্কৃতিতে থাকে সব ধর্মের মানুষের সংস্কৃতির সমন্বয়। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায় বা কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় মেলার। মেলাকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। গ্রামের মেলায় যাত্রা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, জারি-সারি, রামায়ণ, গম্ভীরা কীর্তন, পালার আসর, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, লাঠি খেলা, হাডুডু খেলা মুগ্ধ করে আগত দর্শনার্থীদের। এখনও নাগরদোলা সব বয়সীদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। মেলায় আবার বিভিন্ন নাটক বা যাত্রাপালারও আয়োজন করা হয়।
মৃৎশিল্প বা মাটির কাজ বাঙালির হাজার বছরের পুরনো এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এটি কেবল একটি পেশা নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যা বংশপরম্পরায় কুমোররা বা পাল সম্প্রদায় টিকিয়ে রেখেছেন। এই শিল্পের মূল উপাদান হলো এঁটেল মাটি, তবে দোআঁশ বা কাদামাটিও ব্যবহৃত হয়। চাকা ঘুরিয়ে বা হাতে ছাঁচ তৈরি করে মাটি দিয়ে পাত্র বা মূর্তি বানানো হয়। এরপর সেগুলোকে কড়া রোদে শুকিয়ে চুল্লিতে (পন) উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয় যাতে সেগুলো টেকসই ও মজবুত হয়। মাটির তৈরি এই সামগ্রীগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
মৃৎশিল্প মাটি আর রঙের খেলা, মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প। এই কথাটি সার্থক হয় যখন কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্রে উজ্জ্বল লাল, নীল, হলুদ ও সাদা রঙের আলপনা ফুটে ওঠে। মাটির সামগ্রীতে মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুখের অনুভূতি, প্রেম-বিরহের নানা দৃশ্যপট, মনোমুগ্ধকর ছবি হাতের স্পর্শে ফুটিয়ে তুলতেন শিল্পীরা। বিশেষ করে মাটির সরা এবং হাঁড়িতে আঁকা লোকজ মোটিফগুলো মেলাকে এক অনন্য রূপ দেয়।
অনেক মৃৎশিল্পী সারা বছর মেলা বা পার্বণের অপেক্ষায় থাকেন। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটে এই শিল্প সংকটে পড়লেও মেলাগুলোতে এখনও মাটির নান্দনিক পণ্যের ভালো চাহিদা থাকে, যা এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এই পরিবেশবান্ধব শিল্প প্লাস্টিক দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে আধুনিক উপকরণের দাপটে এটি বর্তমানে সংকটের পথ থেকে বেরুতে পারেনি।
গ্রামীণ মেলা আর মৃৎশিল্প যেন একই সুতায় গাঁথা। মেলা মানেই মাটির তৈজসপত্র আর খেলনার এক রঙিন দুনিয়া। গ্রামবাংলার চৈত্র সংক্রান্তি, বৈশাখী, বারুণী মেলা বা যে কোনো মেলা হোক, মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের কাজ ছাড়া মেলার পূর্ণতা আসে না। মাটির শিল্প আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির বাহক। ময়নামতির শালবন বিহার বা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা আমাদের সেই প্রাচীন গৌরবের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আজও মেলার মাধ্যমে বেঁচে আছে।
বর্তমানে প্লাস্টিক ও টিন-লোহার ব্যবহারের ফলে মৃৎশিল্পের চাহিদা কমছে। অনেক কারিগরকে আর্থিক সংকটের মুখে ফেলছে। শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় কুমোররা এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। মেলা মানেই তাদের তৈরি পসরা বিক্রির প্রধান সুযোগ। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সহজলভ্যতার কারণে এই শিল্পটি অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবুও বাংলার মেলাগুলো এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে এখনও তার স্বমহিমায় টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
বর্তমান সময়ে আধুনিক সরঞ্জামের ভিড়ে মাটির জিনিসের চাহিদা কমলেও শৌখিন জিনিস হিসেবে মৃৎশিল্পের কদর রয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখে মাটির সানকিতে পান্তা খাওয়া বা ঘর সাজাতে মাটির ফুলদানি ব্যবহারের রীতি একে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে। পরিবেশ সচেতনতা বাড়ায় আধুনিক সময়ে ঘরের অন্দরসজ্জায় মাটির জিনিসের পুনরুত্থান ঘটছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাটির পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।