রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো শুধু একটি জাতি বা একটি দেশের স্মৃতি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে। ৯ আগস্ট তেমনই একটি দিন। প্রতি বছর এই দিনে পালিত হয় নাগাসাকি দিবস—একটি দিন, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা এবং শান্তির অপরিহার্যতা।

১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে জাপানের নাগাসাকি শহরের আকাশে বিস্ফোরিত হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র। মাত্র তিন দিন আগে, ৬ আগস্ট, হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল “লিটল বয়” নামের প্রথম পারমাণবিক বোমা। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান বক্সকার থেকে নিক্ষেপ করা হয় প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা “ফ্যাট ম্যান”। মুহূর্তের মধ্যে আগুন, তাপ ও বিস্ফোরণের অভিঘাতে নাগাসাকির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক দশ হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং বছরের শেষ নাগাদ মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। নাগাসাকি সিটি কর্তৃপক্ষের এক হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৩,৮৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রায় ২ হাজার কোরিয়ান শ্রমিকও ছিলেন। তবে এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ছিল মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপ্তিÑহাজারো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, অসংখ্য মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয় এবং একটি সমৃদ্ধ নগরী মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।

নাগাসাকির ইতিহাসও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৫৪৩ সালে পর্তুগিজদের আগমনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৫৯ সালে উন্মুক্ত বন্দর ঘোষণার পর শহরটি দ্রুত শিল্প, বাণিজ্য ও জাহাজ নির্মাণের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর কৌশলগত গুরুত্বই শেষ পর্যন্ত শহরটিকে পারমাণবিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

বোমা বিস্ফোরণের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিস্ফোরণের তীব্র তাপ, শকওয়েভ এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানুষের শরীর ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল। তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা ও ছাই মিশ্রিত তথাকথিত ‘কালো বৃষ্টি’ আক্রান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যারা এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যান, তাদের জাপানি ভাষায় বলা হয় হিবাকুশা। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী জীবনে ক্যানসার, লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হন। পাশাপাশি মানসিক আঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

তবে নাগাসাকির গল্প কেবল ধ্বংসের গল্প নয়; এটি পুনর্জাগরণ ও মানবিক স্থিতিস্থাপকতারও গল্প। যুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক দশকে ব্যাপক পুনর্গঠন, চিকিৎসা গবেষণা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে শহরটি আবার প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, বেঁচে যাওয়া মানুষের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জিনগত ত্রুটির আশঙ্কা ব্যাপকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়নি। বর্তমানে নাগাসাকি একটি নিরাপদ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরী, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা জাপানের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই স্বাভাবিক।

নাগাসাকি আজ কেবল আধুনিক অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর ও পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক মনোরম আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্যই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তির প্রতীক, যেখানে প্রতি বছর ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটেÑঠিক পারমাণবিক বিস্ফোরণের সেই নির্মম মুহূর্তে—এক মিনিট নীরবতা পালন, নাগাসাকি পিস পার্ক ও অ্যাটমিক বোমা মিউজিয়ামে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশ্বশান্তির জোরালো আহ্বানের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সেই ভয়াবহ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদে বিশ্ববাসী একত্রিত হয়।

বর্তমান বিশ্বেও পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ৯টি দেশের কাছে এখনও ১২ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। এই বাস্তবতা নাগাসাকির শিক্ষাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। কারণ ইতিহাস প্রমাণ করেছে, পারমাণবিক যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই; এর পরিণতি কেবল মৃত্যু, ধ্বংস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি, ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি বিশ্বকে আরও নিরাপদ করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নাগাসাকি দিবস আমাদের শুধু অতীতের এক ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না; এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। ধ্বংসের মধ্য থেকেও পুনর্গঠন সম্ভব, ঘৃণার মধ্য থেকেও সহমর্মিতা জন্ম নিতে পারে, এবং যুদ্ধের স্মৃতি থেকেও শান্তির আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। নাগাসাকির ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এই শিক্ষা আজও সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান প্রাসঙ্গিক।

নাগাসাকি তাই কেবল একটি শহরের নাম নয়; এটি মানবতার কাছে এক সতর্কবার্তা, এক শিক্ষা এবং একই সঙ্গে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ইতিহাসের সেই অগ্নিঝরা দিনের স্মৃতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি ধ্বংসের ক্ষমতায় নয়, বরং শান্তি, সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।

Ads small one

শ্যামনগরে সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিতে হাইকোর্টের রুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিতে হাইকোর্টের রুল

 

পত্রদূত রিপোর্ট: শ্যামনগর উপজেলার অধিবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী কাওছার, মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। এর আগে মানবাধিক সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, শ্যামনগরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং তীব্র লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। ধুমঘাট এলাকার বাসিন্দা শেফালি রানী ম-লের মতো অনেক নারী-পুরুষকে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ও নদী পার হয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। সংবিধানে স্বীকৃত জীবনের অধিকারের আওতায় সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

 

আহত ছাত্রদল নেতা বাপ্পিকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন আইনজীবী ফোরামের নেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আহত ছাত্রদল নেতা বাপ্পিকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন আইনজীবী ফোরামের নেতারা

সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পি, তাঁর বাবা ও অন্য আহত নেতাকর্মীদের দেখতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ। রোববার দুপুরে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক আকবর আলী আহতদের চিকিৎসার তদারকি করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিউকিটর (এপিপি) শেখ শাহরিয়ার হাসীব ও সুনীল কুমার ঘোষ। আইনজীবীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত নেতাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

ফকিরহাটে মৎস্য ঘের থেকে কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে মৎস্য ঘের থেকে কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার

সংবাদদাতা: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর এলাকার একটি মৎস্য ঘের থেকে আইয়ুব আলী খান (৬১) নামের এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আইয়ুব আলী খান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডাকুয়া এলাকার মৃত মোবারক আলী খানের ছেলে। তিনি মূলঘর গ্রামের এক বাসিন্দার মৎস্য ঘেরে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।