বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
নাগাসাকি দিবস: ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো শুধু একটি জাতি বা একটি দেশের স্মৃতি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে। ৯ আগস্ট তেমনই একটি দিন। প্রতি বছর এই দিনে পালিত হয় নাগাসাকি দিবস—একটি দিন, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা এবং শান্তির অপরিহার্যতা।

১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে জাপানের নাগাসাকি শহরের আকাশে বিস্ফোরিত হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র। মাত্র তিন দিন আগে, ৬ আগস্ট, হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল “লিটল বয়” নামের প্রথম পারমাণবিক বোমা। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান বক্সকার থেকে নিক্ষেপ করা হয় প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা “ফ্যাট ম্যান”। মুহূর্তের মধ্যে আগুন, তাপ ও বিস্ফোরণের অভিঘাতে নাগাসাকির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক দশ হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং বছরের শেষ নাগাদ মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। নাগাসাকি সিটি কর্তৃপক্ষের এক হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৩,৮৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রায় ২ হাজার কোরিয়ান শ্রমিকও ছিলেন। তবে এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ছিল মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপ্তিÑহাজারো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, অসংখ্য মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয় এবং একটি সমৃদ্ধ নগরী মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।

নাগাসাকির ইতিহাসও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৫৪৩ সালে পর্তুগিজদের আগমনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৫৯ সালে উন্মুক্ত বন্দর ঘোষণার পর শহরটি দ্রুত শিল্প, বাণিজ্য ও জাহাজ নির্মাণের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর কৌশলগত গুরুত্বই শেষ পর্যন্ত শহরটিকে পারমাণবিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

বোমা বিস্ফোরণের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিস্ফোরণের তীব্র তাপ, শকওয়েভ এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানুষের শরীর ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল। তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা ও ছাই মিশ্রিত তথাকথিত ‘কালো বৃষ্টি’ আক্রান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যারা এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যান, তাদের জাপানি ভাষায় বলা হয় হিবাকুশা। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী জীবনে ক্যানসার, লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হন। পাশাপাশি মানসিক আঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

তবে নাগাসাকির গল্প কেবল ধ্বংসের গল্প নয়; এটি পুনর্জাগরণ ও মানবিক স্থিতিস্থাপকতারও গল্প। যুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক দশকে ব্যাপক পুনর্গঠন, চিকিৎসা গবেষণা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে শহরটি আবার প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, বেঁচে যাওয়া মানুষের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জিনগত ত্রুটির আশঙ্কা ব্যাপকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়নি। বর্তমানে নাগাসাকি একটি নিরাপদ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরী, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা জাপানের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই স্বাভাবিক।

নাগাসাকি আজ কেবল আধুনিক অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর ও পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক মনোরম আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্যই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তির প্রতীক, যেখানে প্রতি বছর ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটেÑঠিক পারমাণবিক বিস্ফোরণের সেই নির্মম মুহূর্তে—এক মিনিট নীরবতা পালন, নাগাসাকি পিস পার্ক ও অ্যাটমিক বোমা মিউজিয়ামে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশ্বশান্তির জোরালো আহ্বানের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সেই ভয়াবহ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদে বিশ্ববাসী একত্রিত হয়।

বর্তমান বিশ্বেও পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ৯টি দেশের কাছে এখনও ১২ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। এই বাস্তবতা নাগাসাকির শিক্ষাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। কারণ ইতিহাস প্রমাণ করেছে, পারমাণবিক যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই; এর পরিণতি কেবল মৃত্যু, ধ্বংস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি, ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি বিশ্বকে আরও নিরাপদ করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নাগাসাকি দিবস আমাদের শুধু অতীতের এক ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না; এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। ধ্বংসের মধ্য থেকেও পুনর্গঠন সম্ভব, ঘৃণার মধ্য থেকেও সহমর্মিতা জন্ম নিতে পারে, এবং যুদ্ধের স্মৃতি থেকেও শান্তির আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। নাগাসাকির ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এই শিক্ষা আজও সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান প্রাসঙ্গিক।

নাগাসাকি তাই কেবল একটি শহরের নাম নয়; এটি মানবতার কাছে এক সতর্কবার্তা, এক শিক্ষা এবং একই সঙ্গে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ইতিহাসের সেই অগ্নিঝরা দিনের স্মৃতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি ধ্বংসের ক্ষমতায় নয়, বরং শান্তি, সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।

Ads small one

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাকে বড় ধাক্কা, রফতানি কমলো ১৪%

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
ইইউতে বাংলাদেশের পোশাকে বড় ধাক্কা, রফতানি কমলো ১৪%

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানির বাজারে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সামগ্রিকভাবে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে এই পতনের চেয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ইইউতে কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অর্থাৎ ইইউর বাজারে চাহিদা কমার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়লেও বাংলাদেশ শুধু বাজার সংকোচনের কারণে কমেনি; বরং সামগ্রিক বাজারের তুলনায় আরও বেশি হারে বাজার হারিয়েছে।

ইইউর আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৫৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে ৫১ হাজার ৬১৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ২ হাজার ৭৭৫ মিলিয়ন ইউরো।

শুধু মূল্য নয়, আমদানির পরিমাণও কমেছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউ ২ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন কেজি পোশাক আমদানি করেছিল। এ বছর তা কমে হয়েছে ২ হাজার ৬০১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন কেজি—পতন ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সুগন্ধি চাল নিয়ে কী ঘটেছিল? দাম চড়তেই অর্ধেক হলো রফতানি কোটা
অর্থাৎ ইইউর পোশাক বাজারে ক্রেতারা এ বছর আগের তুলনায় কম পোশাক কিনছেন। একই সঙ্গে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যও কমেছে। সব উৎস মিলিয়ে গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ১৯ দশমিক ৮৪ ইউরো হয়েছে।

বাংলাদেশের পতন বাজারের চেয়েও বেশি

এই সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেই বাংলাদেশের চিত্র আরও চ্যালেঞ্জিং। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে রফতানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

অর্থাৎ পরিমাণের তুলনায় মূল্যের পতন অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের পোশাকের গড় রফতানি মূল্য কমে যাওয়া।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তুলনায় এটি ইইউর প্রধান পোশাক সরবরাহকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন গড় মূল্য।

ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে দুটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—রফতানির পরিমাণ কমছে এবং প্রতি কেজি পোশাকের দামও কমছে। এর ফলে মোট রফতানি আয়ের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

অপরদিকে, ইইউর বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের কয়েকজন ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে।

চীনের পোশাক আমদানি মূল্য ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ যখন ইইউর মোট পোশাক আমদানি মূল্য ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, তখন এই দুই দেশ বাজারে তাদের সরবরাহ বাড়াতে পেরেছে।

এখানে ভিয়েতনামের গড় ইউনিট মূল্যও বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কম্বোডিয়ার গড় মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ এসব দেশের ক্ষেত্রে বাজারের অংশ ধরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামে পোশাক বিক্রির প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি এর বিপরীত। বাংলাদেশ কম দামে পোশাক সরবরাহ করেও বাজারের অংশ ধরে রাখতে পারেনি। ফলে ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তবে জুন-জুলাইয়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সামগ্রিক জানুয়ারি-জুলাই হিসাব এখনো বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক। কিন্তু মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই—টানা দুই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে।

জুনে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ২০২৫ সালের ১ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে রফতানি ছিল ১ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ইউরো। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭২৯ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ইউরো—প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

জুন থেকে জুলাইয়ের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। এক মাসে বাংলাদেশের রফতানি মূল্য বেড়েছে ৩৬২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশের মাসিক বৃদ্ধি।

এই দুই মাসের প্রবৃদ্ধির কারণে জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাক রফতানির যে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন ছিল, জানুয়ারি-জুলাই শেষে তা কমে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ ক্রমপুঞ্জীভূত পতন ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

এখনই পুনরুদ্ধার বলা যাচ্ছে না

তবে এই পরিবর্তনকে এখনই বাজার পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সাত মাসের হিসাবে বাংলাদেশের রফতানি এখনো দ্বিগুণ অঙ্কে কম। একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে।

বরং জুন ও জুলাইয়ের তথ্যকে আপাতত পতনের গতি কমে আসার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী দুই মাসে তার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আগামী মাসগুলোতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে কি না। যদি জুন-জুলাইয়ের মতো প্রবৃদ্ধি পরবর্তী মাসগুলোতেও ধরে রাখা যায়, তাহলে বছরের শুরুতে তৈরি হওয়া বড় ঘাটতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আবার প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হলে সাত মাসের এই সাময়িক উন্নতির প্রভাবও দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে।

কম দাম কি বাংলাদেশের জন্য সুবিধা, নাকি চাপ?

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পোশাকের ইউনিট মূল্য। ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কেজিপ্রতি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন। অথচ এই কম দাম বাংলাদেশের বাজার অংশ ধরে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বাস্তবতা সামনে আসে—শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সময়ে প্রতিযোগী কিছু দেশ তুলনামূলক বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেও বাজার বাড়াতে পারছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জানুয়ারি-জুলাইয়ের সামগ্রিক চিত্র এখন নেতিবাচক হলেও জুন ও জুলাইয়ে টানা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর ফলে জানুয়ারি-জুনের ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন সাত মাসে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার বলা ঠিক হবে না; বরং পতনের গতি কমে আসার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়।

ইইউ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই এই বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়া, প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার প্রবণতা—তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে

জুন-জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা গেলে পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বেশি মূল্য সংযোজনের পোশাক, পণ্যের বৈচিত্র্য, মান, সরবরাহ সক্ষমতা এবং ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কারণ সাত মাসের তথ্য আপাতত একটি দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—ইইউর বাজার সংকুচিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সংকোচনের মধ্যে সব সরবরাহকারী সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাংলাদেশ যেখানে কম দামে পোশাক বিক্রি করেও বাজার হারিয়েছে, সেখানে চীন ও ভিয়েতনাম বাজার বাড়িয়েছে। আবার জুন ও জুলাইয়ের টানা প্রবৃদ্ধি বলছে, বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি একমুখী নেতিবাচকও নয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন।

ঘরেই উৎপাদন করা যাবে বিদ্যুৎ, বিক্রি করতে পারবেন সরকারের কাছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
ঘরেই উৎপাদন করা যাবে বিদ্যুৎ, বিক্রি করতে পারবেন সরকারের কাছে

অনলাইন ডেস্ক: ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহী করছে বাংলাদেশ সরকার। নিজের ঘরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে টাকাও আয় করা যাবে। জাতীয় গ্রিডে দেওয়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সরকার ১০.৫০ টাকা করে দেবে। এতে শুধু নিজের বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, অর্থ উপার্জনের পথও খুলছে।

এ বিষয়ে সরকারি এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সোলার দিয়ে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই উৎপাদন করুন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করুন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সরকার ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে দেবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে সোলার সিস্টেম চালু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে এই পরিমাণ প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সোলার বাছাইয়ের বিষয়ে সরকারি এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে দেখুন আপনার ছাদে কতটা সোলার বসানো যাবে। সোলার ক্যালকুটের ব্যবহার করে সহজেই হিসাব করুন। তালিকাভুক্ত সোলার কোম্পানি বেছে নিন। সোলার ও ব্যাটারি বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে। সময়ের মধ্যে সোলার চালু করুন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করুন।