সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত এমন একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের আবরণ যা সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রকৃতি, মানবজাতি ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের একটি প্রাকৃতিক বর্ম। বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা এই ওজোন গ্যাস সূর্যের প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, যার ফলে পৃথিবীতে জীবন ধারণ সম্ভব হয়েছে। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। ওজোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব খুবই কম হলেও জীবনের জন্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে প্রধানত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত। সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি এটি শোষণ করে নেয়। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর মধ্যম মাত্রার শতকরা ৯৭-৯৯ অংশই শোষণ করে নেয়, যা কিনা ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থানরত উদ্ভাসিত জীবনসমূহের সমূহ ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। এই ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর জীবজগতের সকল প্রাণের প্রতি তীব্র হুমকি স্বরূপ। বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়তই এই মারাতœক ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্নিগুলোকে প্রতিহত করে পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করছে।

ফরাসী পদার্থবিদ চার্লস ফ্যব্রি এবং হেনরি বুইসন ১৯১৩ সালে ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ জি এম বি ডবসন ওজোনস্তর নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে তিনি ওজোন পর্যবেক্ষণ স্টেশনসমূহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

ওজোন স্তর ক্ষয় ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালন করা হয়। ওজোন স্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওজোন লেয়ার সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনীত করেছে। ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়া দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সামিত করার লক্ষ্যে ভিয়েনা কনভেশনের আওতায় ওজোন স্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়।

প্রকৃতি ও মানবজাতি সুরক্ষায় ওজোন স্তরের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার এবং হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ওজোন স্তর এই রশ্মি আটকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে। অতিরিক্ত মাত্রায় ইউভি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে মানুষের চোখে ছানি পড়াসহ নানাবিধ চোখের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মানুষের ডিএনএ ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখে।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাবাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওজোন স্তর ক্ষয় হলে তীব্র তাপের কারণে স্থল ও জলভাগের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং বনায়ন হুমকির মুখে পড়ে। সমুদ্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ধ্বংস হতে পারে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তোলে।

মানুষের তৈরি বিভিন্ন রাসায়নিক গ্যাস, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড এবং মিথাইল ব্রোমাইড ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত দায়ী। এগুলো মূলত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত হয়। যা ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণ ও ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে। ওজোন স্তর রক্ষায় আমাদের করণীয়।

 

ওজোন স্তর রক্ষার্থে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন স্তর রক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি বা মন্ট্রিয়ল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ক্ষতিকর গ্যাস নিষিদ্ধকরণে সফল ভূমিকা রাখছে। এটি সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের উচিত পরিবেশবান্ধব ও সিএফসি-মুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তর রক্ষায় সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

ভরতনাট্যম কর্মশালা সম্পন্ন: শায়নীকে জেলা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
ভরতনাট্যম কর্মশালা সম্পন্ন: শায়নীকে জেলা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী শাস্ত্রীয় ভরতনাট্যম কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন সাতক্ষীরার নৃত্যশিল্পী তনয়া মেধা শায়নী। তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সম্পাদকম-লীর সদস্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সারা দেশের ৪০ জন প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। এতে সাতক্ষীরা জেলা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন শায়নী। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট নৃত্য প্রশিক্ষক অন্তরা আক্তার।

প্রশিক্ষণে ভরতনাট্যমের মৌলিক ধাপ, মুদ্রা ও কারিগরি কৌশল শেখানো হয়। শায়নী তাঁর এ অর্জনের জন্য স্থানীয় গুরু নাহিদা পান্না ও সুজন কুন্ডুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

শায়নীর এ সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নয়ণ ভট্টাচার্য্যসহ জেলা কমিটির অন্য নেতারা।

 

ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন এডহক কমিটিকে সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন এডহক কমিটিকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন কমিটিকে বরণ করে নেওয়া হয়। নবমনোনীত এডহক কমিটির সভাপতি মো. তাকদীর আহসান রুবেল, অভিভাবক সদস্য আবু শামীম মো. অহিদুজ্জামান এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কমিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কমিটির সদস্যরাও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

কপিলমুনির সাংবাদিক এসকে আলীমের পরলোকগমন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
কপিলমুনির সাংবাদিক এসকে আলীমের পরলোকগমন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের কালান্তরের প্রতিনিধি এস কে আলীম (৫৫) আর নেই। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর একটার দিকে কপিলমুনিস্থ নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যাসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাংবাদিক এস কে আলীমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি এম আজাদ হোসেন, কার্যকরী সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি জি এম এমদাদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ কর্মকার, কোষাধ্যক্ষ জগদীশ দে, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মজুমদার, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান, প্রচার সম্পাদক জয় খান, এবং নির্বাহী সদস্য অসীম রায়, আসাদুল মালী, জি এম রফিকুল ইসলাম, এম আজিজুর রহমান ও আ. মজিদ গাজী। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।