শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক: আজ ৬ নভেম্বর, বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। রাগ, ক্ষোভ কিংবা মতবিরোধের সময় চিৎকার না করে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, জনসমক্ষে কিংবা অনলাইনে—সব জায়গায় শান্ত ও সংযতভাবে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরে দিবসটি। অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, ধৈর্যের সঙ্গে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করা এবং কথোপকথনে সৌজন্য বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

উঁচু স্বরে কথা বললে কেউ আতঙ্কিত হতে পারেন, আবার কেউ নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের মনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু কথার বিষয়বস্তু নয়, কীভাবে কথা বলা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবসের ইতিহাস

২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে দিবসটির সূচনা হয়। ‘লেটস স্টপ শাউটিং কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ নামের একটি সংগঠন মানুষের কথা বলার ধরন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়। সংগঠনটির মতে, চিৎকার সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে, মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই শান্ত ও ভেবেচিন্তে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ব্রিটিশ কাউন্সেলর ইয়াসমিন শাহিন-জাফর এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা ও কথা বলার ভঙ্গি অন্যের নিরাপত্তাবোধ এবং গুরুত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। ধীরে ধীরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারেও এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪ সালে এ উদ্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপের সময় চিৎকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে সহানুভূতিশীল আচরণ ও শান্তভাবে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রতি বছর ৬ নভেম্বর বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে স্কুল, অফিস ও পরিবারে নিজেদের কথাবার্তার ধরন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন অনেকে। দিবসটির বার্তা হলো—শান্ত স্বর সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়। কথা বলার ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তনও অনেক সময় বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কীভাবে পালন করবেন?

দিবসটি পালনে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন কথাবার্তায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এর চর্চা শুরু করা যায়। প্রথমেই স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচু স্বরে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে অন্যরাও শান্তভাবে উত্তর দিতে উৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংযত স্বর বজায় রাখা জরুরি।

কেউ কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা না দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনার অভ্যাস ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে মাথা নেড়ে বা হাসিমুখে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।

বাড়িতে এমন একটি জায়গা তৈরি করতে পারেন, যেখানে টেলিভিশন, মুঠোফোন বা অন্য কোনো যন্ত্রের উচ্চ শব্দ থাকবে না। সেখানে বই পড়া, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকা যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সংযত ভাষা ব্যবহার করুন। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে সবার সামনে তর্কে না জড়িয়ে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন।

এ ছাড়া এক দিনের জন্য টেলিভিশন, মুঠোফোন ও অন্যান্য যন্ত্রের শব্দ কমিয়ে রাখতে পারেন। অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি রয়েছে—এমন অনুষ্ঠান এড়িয়ে শান্ত গান বা পডকাস্ট শুনতে পারেন। এতে বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ আরও শান্ত ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

Ads small one

যশোরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী অভিযুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
যশোরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী অভিযুক্ত

পত্রদূত ডেস্ক: যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় শাহানারা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহ ও স্বামীর মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহত শাহানারা খাতুন শানতলা এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতিয়ার রহমান মাদকাসক্ত। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ভোরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহানারাকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

দিনেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, ডেঙ্গুর আশঙ্কায় রাজারবাগানবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দিনেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, ডেঙ্গুর আশঙ্কায় রাজারবাগানবাসী

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পেছনে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারবাগান উত্তরপাড়া এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ড্রেনের জমে থাকা নোংরা পানিতে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং মশা নিধনের ওষুধ না ছিটানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার বিভিন্ন গলির ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে জমে রয়েছে পচা পানি। এসব স্থানে মশার লার্ভা দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মশার উপদ্রবে দিনের বেলাতেও ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেককে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন বলেন, ড্রেনে মশার পরিমাণ এত বেশি যে দিনের বেলাতেও ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা থেকে মশার ওষুধ ছিটানো বা স্প্রে করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে এলাকার মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, মশার কামড়ে শিশুদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম চলছে। রাজারবাগান এলাকায় দ্রুত ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রে পাঠানোর জন্য পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার এবং মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা চেতনানাশকের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় গৃহকর্তা সবুজ সরদার ও তাঁর বাবা মতলেব সরদারকে সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সবুজ সরদারের বাড়িতে খাবারের সঙ্গে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে বাড়ির লোকজনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে তাঁদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।