মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস: জ্ঞানের আলোয় সুস্থ ত্বক ও সৌন্দর্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস: জ্ঞানের আলোয় সুস্থ ত্বক ও সৌন্দর্য

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক। এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; বরং জীবাণু, দূষণ, অতিবেগুনি রশ্মি ও প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষাব্যূহ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অনেক সমাজে ত্বকের স্বাস্থ্যকে চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বের পরিবর্তে কেবল রূপচর্চার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং ত্বকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ৮ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠন-ইন্টারন্যাশনাল লিগ অব ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটিজ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সংস্থা, যারা ১১৪টিরও বেশি দেশের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে সরাসরি কাজ করে; অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব ডার্মাটোলজি, বিশ্বব্যাপী ত্বকের চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রসারে কাজ করে। এই সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে ২০১৩ সালে দিবসটির সূচনা হয়। তবে ২০১৭ সালে তারা নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে, যা বিশ্বব্যাপী ত্বকের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা-সমতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়।

ত্বকের স্বাস্থ্যসেবায় সম্ভাবনাময় নতুন উদ্ভাবনের উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিশোর বিজ্ঞানী হেমান বেকেলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে এমন একটি বিশেষ সাবানের ধারণা উদ্ভাবন করেন, যা ভবিষ্যতে কিছু ধরনের ত্বকের ক্যানসারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এতে ইমিকুইমোড নামের অনুমোদিত ওষুধকে ন্যানোপার্টিকেলের মাধ্যমে ত্বকে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্ভাবনটি বর্তমানে গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো সাধারণ চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত নয়। এই প্রকল্পের জন্য তিনি ২০২৩ সালে 3M Young Scientist Challenge-এ বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালে TIME ম্যাগাজিনের Kid of the Year নির্বাচিত হন।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো চর্মরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্বেতী, সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করা। এ দিবস মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ত্বকের স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকারেরই একটি অংশ।

‘উন্নত ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উন্নত জ্ঞান’-এই প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো সঠিক জ্ঞানই সুস্থ ত্বকের ভিত্তি। নির্ভরযোগ্য তথ্য মানুষকে রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে, নিরাপদ পরিচর্যা গ্রহণ করতে এবং বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার প্রতি আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান চর্চা ও বিনিময় চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলে।

ত্বকের স্বাস্থ্য ও জলবায়ুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা, শুষ্কতা, বায়ুদূষণ ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্বকের যতœ নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বজুড়ে এই দিবস উপলক্ষে বিনামূল্যে ত্বক পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ক্যাম্প, সেমিনার, র‌্যালি ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হয়। কারাগার, পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের অংশ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #WSHD প্রচারণা ত্বকের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও সহমর্মিতার একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

আন্তর্জাতিক ত্বক স্বাস্থ্য দিবস আমাদের শেখায় যে সুস্থ ত্বক মানে শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং সুস্থ জীবন। তাই কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন জ্ঞান; অবহেলা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। ত্বকের প্রতি যতœশীল হওয়া মানে নিজের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও জীবনমানের প্রতিই দায়িত্বশীল হওয়া। জ্ঞানের আলোয় গড়ে উঠুক ত্বক-সচেতন, সুস্থ ও মানবিক বিশ্ব।

Ads small one

‎ভোমরা কাস্টম হাউসে বড় রাজস্ব ঘাটতি: লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৫০ কোটি টাকা কম আদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
‎ভোমরা কাস্টম হাউসে বড় রাজস্ব ঘাটতি: লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৫০ কোটি টাকা কম আদায়

এম শফিকুল ইসলাম: সদ্য সমাপ্ত ২০২২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসে বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ২০৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের জনপ্রশাসন দপ্তর থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনে আমদানি হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অবশ্য কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও উন্নত পরিকল্পনার কারণে সম্ভাব্য আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য খাত। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, এলসি (ঋণপত্র) খোলায় জটিলতা এবং ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাটছে না। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বহুমুখী সমস্যায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় রাজস্ব খাতে এই বড় ধাক্কা লেগেছে। ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এখন সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার জানিয়েছেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন বাজেটের আওতায় ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

 

জাহাজমারী খালপাড়ে ইউএনও আরিফুল ইসলামের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
জাহাজমারী খালপাড়ে ইউএনও আরিফুল ইসলামের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পত্রদূত রিপোর্ট: পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং খালপাড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জাহাজমারী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৫০টি কদবেল ও ৫০টি জামের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার জন্য ২০০টি বাঁশের চটা, ১৬০ কেজি জৈব সার এবং ব্লু নেট বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের জাহাজমারী খালপাড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া এবং এর সহযোগী সংস্থা উত্তরণ জাহাজমারী খালের পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। খালটির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের নিয়ে গঠন করা হয়েছে জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। সেই ধারাবাহিকতায় কলারোয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের হাতে কদবেল ও জামের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। পরে তিনি নিজ হাতে খালপাড়ে একটি কদবেল গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, একটি খালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু খননই নয়, এর চারপাশের পরিবেশ সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণে খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন ও মো. বিল্লাল হোসেন, জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, ক্যাশিয়ার, সাধারণ সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মশিউর রহমান, উত্তরণের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম, ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আয়োজকরা জানান, জাহাজমারী খাল পুনরুদ্ধারের পর এর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, খালপাড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে খাল সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাদের আশা, রোপণ করা কদবেল ও জামের গাছ ভবিষ্যতে খালপাড়কে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে এবং জলবায়ু সহনশীল একটি টেকসই জনপদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

কলারোয়ায় ছোটো ভাইয়ের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা বড়ো ভাইয়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ছোটো ভাইয়ের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা বড়ো ভাইয়ের

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ছোটো ভাইয়ের বসতবাড়ি দখল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বড়ো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত ৯টার দিকে কলারোয়া পৌর সদরের মুরারিকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছোট ভাই সুভাষ পোদ্দার বাদী হয়ে বড় ভাই গোপাল পোদ্দারের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া পৌর সদরের ৭ নং ওয়ার্ডের মুরারিকাটি গ্রামের হরিপদ পোদ্দারের বড়ো ছেলে গোপাল পোদ্দার পিতার ভিটাবাড়ির পৈত্রিক সম্পত্তি ছোটো ভাই সুভাষ পোদ্দারের নিকট ২০০৭ সালে বিক্রি করে পার্শ্ববর্তীতে ৬নং ওয়ার্ডে বসবাস করে। সম্প্রতি আরও দুই শতক জমি দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশি বৈঠকে গোপাল পদ্মার কোনো জমি পাবে না বলে শালিসদাররা জানিয়ে দেন এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিনামা হয়।

 

এরপরও গত ৬ জুলাই রাত ৯ টার দিকে গোপাল পোদ্দার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে ছোটো ভাইয়ের বসত বাড়িতে গিয়ে মারপিট ও ভাঙচুর শুরু করে এবং বসতবাড়ি দখল করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ছোটো ভাই সুভাষ পোদ্দারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাদের রক্ষা করে। পরবর্তীতে থানা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

 

বড়ো ভাই গোপাল পোদ্দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, শালিসের বৈঠকে তার নিকট থেকে জোরপূর্বক সই করে নিয়েছিল। আমি ছোটো ভাই সুভাষ পোদ্দারের নিকট দুই শতক জমি পাবো। কিন্তু দেয় না। তাই ওই দিন রাতে দখল নিতে গিয়েছিলাম।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।