মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

তাজ ইসলাম
আজ থেকে ৩০/৩২ বছর আগে নিজের গ্রামেই কাটত পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে এখনকার মতো পান্তা ভাত, ইলিশ, বৈশাখী জামার স্মৃতি মনে পড়ে না। হালখাতার স্মৃতি মনে পড়ে। চার পাঁচ গ্রামে বৈশাখী মেলার কথাও মনে পড়ে না। জুগি নামে মদন গুনধরের একজন হিন্দু লোক ছিল। হাটবারে চুনের ব্যবসা করতেন। সম্ভবত আমরা চারআনা, আটআনার চুন কিনে আনতাম। গ্রামে কারও হাম, বসন্ত রোগ হলে এই জুগিকে নিয়ে আসা হত। ভাঙা সাইকেলে চড়ে তিনি বাড়িতে এসে ঝাড় ফুঁক দিয়ে যেতেন। হাম বসন্তে দু-তিন গ্রামে তার ফুঁক ছিল সবার পরিচিত। মুখে আদা চিবিয়ে নিজের মন্ত্র আওড়িয়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দিতেন। পহেলা বৈশাখে জুগি হালখাতা করতেন। ঝাড়ফুঁক দিলে যে যা দিতেম নিয়ে নিতেন। বৈশাখের আগে ঘরে ঘরে হালখাতার কার্ড পৌছে দিতেন। রোগীরা তার দাওয়াত কবুল করতেন। এমন এক বৈশাখে বাবার সাথে জুগি বাড়িতে হালখাতা খেতে গিয়েছিলাম। লাল চা আর টুস্ট বিস্কুট খেয়ে আসার স্মৃতি আছে। ঘোড়ার পিঠে শাড়ি পরা নারী মূর্তি তখনই প্রথম দেখা। তখনও বারুক বাজার ব্রীজ হয়নি। নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হত। বৈশাখে অবশ্য বারুক বাজার খাল শুকিয়ে পায়ে হাটার রাস্তা হয়ে থাকত। দু পাড় মনে হত পাহাড়ের মত খাড়া।বর্ষাকালে শুকনো খাল নদীর রূপ ধারণ করত। পারাপারের নির্ধারিত মাঝি থাকত। সারাবছর আশপাশের গ্রামের লোকদের বিনা পয়সায় তারা খাল পার করত। আমরা শৈশবে দেখেছি রতন খলিফার পরিবার ছিল এই দায়িত্বে।
মধ্য বৈশাখে প্রত্যেক ঘর থেকে তারা ধান নিয়ে আসত খাল পারাপারের পারিশ্রমিক হিসেবে।
বৈশাখে কয়েক গ্রামে মেলার কথা মনে পড়ে না। জয়কা, কান্দাইল, খোঁজারগাও, গুনধর, উরদিঘি, মদন, খয়রত এসব গ্রামে বৈশাখে বৈশাখী মেলা হওয়ার কোন স্মৃতি মনে পড়ে না। উল্লেখিত গ্রামগুলোতে তখন প্রচুর পরিমাণে মেলা বা বান্নি হত। এই মেলা/বান্নিগুলো মাঘ,ফালগুন,চৈত্রের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়ে যেত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে অল্প দূরে একটি বান্নি হত। আমরা সেসব বান্নিতে যেতাম। চৈত্র ও কার্তিক মাস ছিল কৃষি নির্ভর এলাকাগুলোতে আকালের সময়। কার্তিকের পরে অগ্রহায়ণ, চৈত্রের পরে বৈশাখে নতুন ধানে কৃষকের আকাল কমে যেত। কোন কোন সম্ভ্রান্ত কৃষকও এই সময় সংকটে পড়ে যেত। নতুন ফসলের আশায় সঞ্চিত ফসল বিক্রি করে এই সমস্যায় পড়ত। চৈত্র মাসের আকালে নাকাল হয়ে যেত অনেক পরিবার। কোন কোন কৃষক একটা জমিতে আগে কাটা যায় এমন ধান লাগাত। বগুড়া ধান নামে কালো এক জাতের ধান ছিল। এটি ফলন কম হলেও আগে আগে কাটা যেত। এক কৃষকের ধান কাটা হলে তিনি সে ধান ঘরে তুলতে পারতেন না। চাচাতো, জেঠাতো, পাড়াপড়শিরা ১০ সের,কুড়ি সের, একমণ করে হাওলাত নিয়ে যেত। সাত দিন, দশ দিনের মধ্যেই অন্যদের ধান কাটার উপযুক্ত হত। তখন ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যেত। নতুন ধানের পয়লা চালের ক্ষির বৈশাখের শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে পৌছে যেত। একদিনে কোন কোন শুক্রবারে আট দশ জনের ক্ষির পৌছত। লাল চিনির ক্ষির আমরা কলাপাতায় বাড়িতে নিয়ে আসতাম। ছোট ভাই বোনেরা শুক্রবারে ক্ষিরের অপেক্ষায় থাকত।
নতুন চালের প্রথম ভাত কলাপাতায় তিন রাস্তার মোড়ে, গোরস্থানে মা চাচীরা দিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই সংস্কৃতি আমাদের কৈশোর পাড় হতে হতেই উদাও হয়ে গেছে।
বিষু আরবিষু নামে একটা দিন ছিল।এটা বৈশাখে না চৈত্রের শেষ দিন মনে নাই। এই দিন মা চাচীরা নানারকম লতাপাতার রসের মিশ্রণ তৈরী করতেন। ছোটদের জোর করে খাওয়াতেন। সে কী তিতা! এখনো মুখে লেগে আছে যেন।
বৈশাখে স্পেশাল কোন খাবার তৈরী না হলেও রেওয়াজ ছিল বছরের পয়লা দিন। এই দিন ভাল মন্দ খেলে সারাবছর ভাল যাবে। আমার মনে আছে বৈশাখ মাস শুরু হওয়ার আগে আমার মা আম খেতেন না। প্রথম পুতের মা পয়লা বৈশাখ না আসলে মা কাচা আম খেতেন না।আমার স্ত্রীকেও খাওয়ানো যায় না। মায়েদের আশঙ্কা পয়লা বৈশাখের আগে আম প্রথম পুতের মা আম খেলে পুত্রের অমঙ্গল হয়। এই খানে কোন যুক্তি তর্ক বুদ্ধি জ্ঞান দিয়ে আগাতে পারবেন না। এটা মাতৃত্বের দরদ। শর্তহীন মমতা।
পয়লা বৈশাখে আমার মা এক টুকরো কাঁচা আম মুখে দিতেন। মায়ের সামনে কত আম আমি আমরা খেতাম। মা মুখে নিতেন না। পয়লা বৈশাখের এই বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। আমি চিচকাঁদোনে মানুষ বলেই কি না কে জানে মায়ের এমন ছোট বড় অনেক স্মৃতিতে আমি নীরবে কাঁদি। আহ মা! আর কত শত ত্যাগের বিনিময়ে বেড়ে ওঠা আমার জীবন। পয়লা বৈশাখের যাবতীয় স্মৃতি থেকে এই স্মৃতিটাই সবচেয়ে বড়, আমার কাছে। তখন টিভি, মোবাইল ছিল না। আজকের শহুরে সংস্কৃতি আস্তে আস্তে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মেলাও হয়তো হয়। মেলা না হলেও শহরের আরোপিত প্রায় সব বিষয়ই গ্রামে সংক্রমিত। বৈশাখী শাড়ি, বৈশাখী জামা, পান্তাভাত পালন না করলেও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর কিশোরী জানে। তারা উদযাপন করতেও চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক আয়োজনও বৃদ্ধি পেয়েছে। চৈত্রের শেষ দিন বৈশাখের শুরুর দিন উৎসবমুখর ছিল ফসলের আগমনে।নতুন ফসল আরও স্পষ্ট করে বলতে নতুন ধান উঠোনে আসার আনন্দে।
এরপর পুরো বৈশাখ ধান কাটা, মাড়াই করার রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, বর্ষার নতুন পানির সাথে দ্রুত গতীতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আনন্দ। জমি থেকে ধান উঠোনে, উঠোন থেকে গোলায় তোলার সংগ্রামমুখর আনন্দ। শহরের বৈশাখ আর গ্রামের বৈশাখে এখনও বহুত ফারাক। শহরে বৈশাখ আসে একদিন।গ্রামে বৈশাখ থাকে এক মাস। এই আনন্দ হালাল করে কৃষক, শ্রমিক, নারী, পুরুষ, শ্রমে ঘামে। তারা ধান গোলায় তুলে। শহরের মানুষ সারাবছর তা ভোগ করে। এই লেখাটা কেন লেখলাম? আমার অবস্থান থেকে আমার ফেলে আসা বৈশাখকে ২০২৬ এ হাজির করার উদ্দেশ্যে। ৩০/৩২ বছর আগে আমার মতো একজন অতিসাধারণ মানুষের অজপাড়া গাঁয়ে বৈশাখ ছিল ঠিক এমনই।
স্বাগতম বাংলা নববর্ষ।

Ads small one

নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগার এর সভাপতি মকবুল হোসেন এর নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, হাফিজুর রহমান হাফিজ সাংবাদিক আব্দুল মোমিন, মিহির সাধু মনা, উদায় ঘোস, মাহমুদুল হক লাল্টু, মোসফেক বিশ্বাস, আনিছুর জামান।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন খেলাধুলার দিকে মননিবাস করতে হবে। বর্তমান সমাজ থেকে মাদক দূর করতে হবে আর মাদক থেকে দুরে রাখার জন্য এবং শরীর ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলার বিকল্প কিছু নাই।

 

পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারটি অনেক পুরাতন এই ক্লাব থেকে অনেক খেলোয়ার একসময় তৈরি হয়েছে। ক্লাবটির সুনাম ধরে রাখতে হবে এবং এ ক্লাবের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভালো ভালো প্লেয়ার তৈরি করতে হবে। খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ভালো কাজের জন্য আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এর চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এর চিরবিদায়

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের ৬ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ (৮২) পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ৯ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর পিতা।

শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ ঐতিহ্যবাহী আর কে বি কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ও বাঁকা শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষকসহ উপজেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ ১ মেয়ে, ৪ ছেলেসহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলার সর্ব মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দখিনার শোক:
ঐতিহ্যবাহী খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সমন্বয়ে গঠিত অরাজনৈতিক জন ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন দখিনা এর আজীবন সদস্য, পাইকগাছা রাড়–লি ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার সকালে ষ্ট্রোকজনিত কারনে মৃত্যু বরণ করায় দখিনা’র পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন দখিনার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম বাবর আলী, দখিনার উপদেষ্টা যথাক্রমে আলহাজ¦ আব্দুলজব্বার মোল্লা, আলহাজ¦ শেখআব্দুল্লাহ, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসেন ও ডাঃ মুহাম্মাদ কাওসার আলী গাজী, দখিনার সভাপতি আলহাজ¦ ওহিদুজ্জামান খান পল্টু, সহ সভাপতি যথাক্রমে ড. মোঃ হারুনর রশিদ, মোঃ ইউনুস আলী গাজী, অধ্যক্ষ এ কে এম গোলাম আযম, প্রফেসর অশোক কুমার ঘোষ, প্রফেসর এসএম মাহবুবুর রহমান, আলহাজ¦ খুরশিদ আলম কাগজি, রোটাঃ এসএম মফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদ্বয় জি, এম, ইউনুস আলী, মোঃ শরিফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গনি, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম মইন উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাশেদ রানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুলহক খোকন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এমডি আশরাফ হোসেন, সহসমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, মহিলা সম্পাদিক এড. শারমিন মারিয়া মুক্তি, মানবাধিকার সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম মনি, ক্রীড়া সম্পাদক জি,এম রেজাউল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে আলহাজ¦ জাহিদ হাবিব, এড. মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ সেকেন্দার, মোঃ নুরুল ইসলাম কালু, জিএম নজরুল ইসলাম, মোঃ জহির হোসেন, জিএম আব্দুস সাত্তার, আবুবকর সিদ্দিক নান্না, হাসিবুর রহামন রকি, কাজী আমিনুল ইসলাম, শেখ মইনুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।

 

হাসান হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রধান আসামি মিন্টু আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
হাসান হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রধান আসামি মিন্টু আটক

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ নাজমুল হুদা মিন্টুকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আটক করেছে পুলিশের বিশেষ টিম।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে খুলনা নগরীর লবণচোরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মিন্টু হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। নিহত হাসানের পিতা মালেক বাদী হয়ে ৮ জুন সোমবার রাতে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোঃ নাজমুল হুদা মিন্টুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। থানার মামলা নং-৯।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন রবিবার বিকেলে উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাটে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় হাসান প্রতিবাদ করলে মিন্টুসহ তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় হসপিটালে নিয়ে আসার সময় হাসানের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, নিহতের পিতা বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হুদা মিন্টুকে আটকের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে এবং ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই খুলনার লবণচোরা এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।