মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ-শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখকে ঘিরে এত গভীর আবেগ, এত ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এত বহুমাত্রিক অর্থ-বাংলা নববর্ষকে তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতার গ-িতে আটকে রাখা যায় না। এটি একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আত্মসমালোচনা; একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক চলমান প্রক্রিয়া। পহেলা বৈশাখের শেকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ফসলি সন মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু হয়েছিল। কৃষকের ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়কে সমন্বয় করার প্রয়োজনে যে বর্ষপঞ্জির জন্ম, সেটিই আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়-বৈশাখের জন্ম অর্থনীতির ভেতর, কিন্তু তার বিকাশ সংস্কৃতির ভেতর। অর্থাৎ, জীবিকা ও জীবনবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনই পহেলা বৈশাখ। গ্রামবাংলায় বৈশাখ মানে নতুন ফসলের আনন্দ, হালখাতা, মেলা, আর মানুষের আন্তরিক মিলন। কৃষক বছরের হিসাব মেলান, ব্যবসায়ী নতুন খাতা খোলেন, আর সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন। পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ মেলা, লোকগান-এসব কেবল বিনোদন নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, অভ্যাস ও পরিচয়ের অংশ। এখানেই বৈশাখ সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত। শহরে এসে বৈশাখ অনেকটাই বদলে গেছে। এখানে উৎসবের জায়গা নিয়েছে আয়োজন। রঙিন পোশাক, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি-সব মিলিয়ে বৈশাখ এখন এক ধরনের “পাবলিক পারফরম্যান্স”। তবে এই রূপান্তরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা শহুরে বৈশাখকে নতুন অর্থ দিয়েছে। এটি কেবল আনন্দযাত্রা নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় দিক তার সর্বজনীনতা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বৈশাখ সবার। এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করে, বিভাজন ভুলিয়ে দেয়। আজকের বিশ্বে, যেখানে পরিচয়ের সংকট ও বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমাদের একটি অভিন্ন পরিচয় আছে, আমরা বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ ক্রমশ বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, রেস্তোরাঁ-সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে। এটি একদিকে অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে-উৎসবের মূল চেতনা কি হারিয়ে যাচ্ছে? বৈশাখ কি এখন শুধুই “ডিসকাউন্ট সিজন”? একসময় যে গ্রাম ছিল বৈশাখের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে উৎসবের জৌলুস কমে এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব-সব মিলিয়ে গ্রামীণ বৈশাখ অনেকটাই নিস্তেজ। অন্যদিকে শহরে আয়োজনের জাঁকজমক বাড়লেও অনেক সময় তা হয়ে উঠছে কৃত্রিম। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে- নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যচর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আশার জায়গা আছে। নতুন প্রজন্ম যদি সচেতন হয়, যদি তারা বৈশাখের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, তবে এই উৎসব তার স্বকীয়তা হারাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা বৈশাখকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গ্রামীণ মেলা পুনরুজ্জীবন, শিল্পীদের সহায়তা-এসব উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়-পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করতে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, নতুন করে শুরু করার সাহস-এসবই বৈশাখের মূল শিক্ষা। বৈশাখকে আমরা কীভাবে দেখব-সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটি কি কেবল একটি দিন, নাকি একটি চেতনা? যদি আমরা এর গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি। বৈশাখ তখনই সত্যিকার অর্থে ‘সবার উৎসব’ হয়ে উঠবে, যখন তা আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না; এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আবার ভবিষ্যতের পথও দেখায়। এই উৎসব আমাদের শেখায়-
পুরোনোকে ভুলে নয়, বরং তাকে ধারণ করেই নতুনকে গ্রহণ করতে হয়।নতুন বছরের সূর্য তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি দর্শন-পুনর্জন্মের, পুনর্গঠনের, পুনরুত্থানের। এসো, আমরা পহেলা বৈশাখকে কেবল উৎসব হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সংস্কৃতি রক্ষা, মানবিকতা চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি। শুভ নববর্ষ

Ads small one

আশাশুনির আনুলিযায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির আনুলিযায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে ওয়াইফাই সংযোগের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আশরাফুল হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আনুলিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত আশরাফুল হাওলাদার আশাশুনি উপজেলার বাগালি গ্রামের মৃত বাবর আলী হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে আশরাফুল আনুলিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামের গৌতম সরকারের ঘরের পেছনের একটি বৈদ্যুতিক খুটিতে উঠে ওয়াইফাই লাইনের কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎ বিদ্যুৎ লাইনের তারে স্পর্শ করায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পিলারের সাথে থাকা সেফটি বেল্টে ঝুলতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন পিলারে থাকা সেফটি বেল্ট কেটে আশরাফুলের মরদেহ নিচে নামিয়ে আনেন।

আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির উদ্যোগে বৈকারী সীমান্তের হতদরিদ্র ৫০টি পরিবারের মাঝে শুষ্ক খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, উপ-অধিনায়ক শাদমান শাকিব, উপ-পরিচালক মাসুম বেগ ও মিডিয়া কর্মকর্তা মিলন হোসেনসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।