শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ-শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখকে ঘিরে এত গভীর আবেগ, এত ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এত বহুমাত্রিক অর্থ-বাংলা নববর্ষকে তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতার গ-িতে আটকে রাখা যায় না। এটি একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আত্মসমালোচনা; একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক চলমান প্রক্রিয়া। পহেলা বৈশাখের শেকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ফসলি সন মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু হয়েছিল। কৃষকের ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়কে সমন্বয় করার প্রয়োজনে যে বর্ষপঞ্জির জন্ম, সেটিই আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়-বৈশাখের জন্ম অর্থনীতির ভেতর, কিন্তু তার বিকাশ সংস্কৃতির ভেতর। অর্থাৎ, জীবিকা ও জীবনবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনই পহেলা বৈশাখ। গ্রামবাংলায় বৈশাখ মানে নতুন ফসলের আনন্দ, হালখাতা, মেলা, আর মানুষের আন্তরিক মিলন। কৃষক বছরের হিসাব মেলান, ব্যবসায়ী নতুন খাতা খোলেন, আর সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন। পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ মেলা, লোকগান-এসব কেবল বিনোদন নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, অভ্যাস ও পরিচয়ের অংশ। এখানেই বৈশাখ সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত। শহরে এসে বৈশাখ অনেকটাই বদলে গেছে। এখানে উৎসবের জায়গা নিয়েছে আয়োজন। রঙিন পোশাক, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি-সব মিলিয়ে বৈশাখ এখন এক ধরনের “পাবলিক পারফরম্যান্স”। তবে এই রূপান্তরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা শহুরে বৈশাখকে নতুন অর্থ দিয়েছে। এটি কেবল আনন্দযাত্রা নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় দিক তার সর্বজনীনতা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বৈশাখ সবার। এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করে, বিভাজন ভুলিয়ে দেয়। আজকের বিশ্বে, যেখানে পরিচয়ের সংকট ও বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমাদের একটি অভিন্ন পরিচয় আছে, আমরা বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ ক্রমশ বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, রেস্তোরাঁ-সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে। এটি একদিকে অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে-উৎসবের মূল চেতনা কি হারিয়ে যাচ্ছে? বৈশাখ কি এখন শুধুই “ডিসকাউন্ট সিজন”? একসময় যে গ্রাম ছিল বৈশাখের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে উৎসবের জৌলুস কমে এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব-সব মিলিয়ে গ্রামীণ বৈশাখ অনেকটাই নিস্তেজ। অন্যদিকে শহরে আয়োজনের জাঁকজমক বাড়লেও অনেক সময় তা হয়ে উঠছে কৃত্রিম। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে- নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যচর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আশার জায়গা আছে। নতুন প্রজন্ম যদি সচেতন হয়, যদি তারা বৈশাখের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, তবে এই উৎসব তার স্বকীয়তা হারাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা বৈশাখকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গ্রামীণ মেলা পুনরুজ্জীবন, শিল্পীদের সহায়তা-এসব উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়-পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করতে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, নতুন করে শুরু করার সাহস-এসবই বৈশাখের মূল শিক্ষা। বৈশাখকে আমরা কীভাবে দেখব-সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটি কি কেবল একটি দিন, নাকি একটি চেতনা? যদি আমরা এর গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি। বৈশাখ তখনই সত্যিকার অর্থে ‘সবার উৎসব’ হয়ে উঠবে, যখন তা আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না; এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আবার ভবিষ্যতের পথও দেখায়। এই উৎসব আমাদের শেখায়-
পুরোনোকে ভুলে নয়, বরং তাকে ধারণ করেই নতুনকে গ্রহণ করতে হয়।নতুন বছরের সূর্য তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি দর্শন-পুনর্জন্মের, পুনর্গঠনের, পুনরুত্থানের। এসো, আমরা পহেলা বৈশাখকে কেবল উৎসব হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সংস্কৃতি রক্ষা, মানবিকতা চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি। শুভ নববর্ষ

Ads small one

শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা রবি চৌধুরী ও শাবনূর। একজন গায়ক, অন্যজন অভিনেত্রী। তবে দুজনের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেই বন্ধুত্বের দৃশ্য আবারও দেখা গেল। ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিডনির রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন অভিনেত্রী, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন গায়ক। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান।

শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। এদিকে সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে সেখানে গেছেন রবি চৌধুরী। তার আসার খবরে শাবনূর আগেই থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবিকে ঘুরিয়ে দেখালেন তিনি।

এ সময় শাবনূরের অনুরোধে তার খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছেন তারা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।

সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা।

প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি