বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ: উৎসবের আড়ালে বাঙালির আত্মপরিচয়

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ-শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখকে ঘিরে এত গভীর আবেগ, এত ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এত বহুমাত্রিক অর্থ-বাংলা নববর্ষকে তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতার গ-িতে আটকে রাখা যায় না। এটি একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আত্মসমালোচনা; একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক চলমান প্রক্রিয়া। পহেলা বৈশাখের শেকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ফসলি সন মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু হয়েছিল। কৃষকের ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়কে সমন্বয় করার প্রয়োজনে যে বর্ষপঞ্জির জন্ম, সেটিই আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়-বৈশাখের জন্ম অর্থনীতির ভেতর, কিন্তু তার বিকাশ সংস্কৃতির ভেতর। অর্থাৎ, জীবিকা ও জীবনবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনই পহেলা বৈশাখ। গ্রামবাংলায় বৈশাখ মানে নতুন ফসলের আনন্দ, হালখাতা, মেলা, আর মানুষের আন্তরিক মিলন। কৃষক বছরের হিসাব মেলান, ব্যবসায়ী নতুন খাতা খোলেন, আর সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন। পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ মেলা, লোকগান-এসব কেবল বিনোদন নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, অভ্যাস ও পরিচয়ের অংশ। এখানেই বৈশাখ সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত। শহরে এসে বৈশাখ অনেকটাই বদলে গেছে। এখানে উৎসবের জায়গা নিয়েছে আয়োজন। রঙিন পোশাক, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি-সব মিলিয়ে বৈশাখ এখন এক ধরনের “পাবলিক পারফরম্যান্স”। তবে এই রূপান্তরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা শহুরে বৈশাখকে নতুন অর্থ দিয়েছে। এটি কেবল আনন্দযাত্রা নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় দিক তার সর্বজনীনতা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বৈশাখ সবার। এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করে, বিভাজন ভুলিয়ে দেয়। আজকের বিশ্বে, যেখানে পরিচয়ের সংকট ও বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমাদের একটি অভিন্ন পরিচয় আছে, আমরা বাঙালি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ ক্রমশ বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, রেস্তোরাঁ-সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে। এটি একদিকে অর্থনীতির জন্য ভালো, কিন্তু অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে-উৎসবের মূল চেতনা কি হারিয়ে যাচ্ছে? বৈশাখ কি এখন শুধুই “ডিসকাউন্ট সিজন”? একসময় যে গ্রাম ছিল বৈশাখের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে উৎসবের জৌলুস কমে এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব-সব মিলিয়ে গ্রামীণ বৈশাখ অনেকটাই নিস্তেজ। অন্যদিকে শহরে আয়োজনের জাঁকজমক বাড়লেও অনেক সময় তা হয়ে উঠছে কৃত্রিম। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে- নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যচর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আশার জায়গা আছে। নতুন প্রজন্ম যদি সচেতন হয়, যদি তারা বৈশাখের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, তবে এই উৎসব তার স্বকীয়তা হারাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা বৈশাখকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গ্রামীণ মেলা পুনরুজ্জীবন, শিল্পীদের সহায়তা-এসব উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়-পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করতে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, নতুন করে শুরু করার সাহস-এসবই বৈশাখের মূল শিক্ষা। বৈশাখকে আমরা কীভাবে দেখব-সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটি কি কেবল একটি দিন, নাকি একটি চেতনা? যদি আমরা এর গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি। বৈশাখ তখনই সত্যিকার অর্থে ‘সবার উৎসব’ হয়ে উঠবে, যখন তা আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না; এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আবার ভবিষ্যতের পথও দেখায়। এই উৎসব আমাদের শেখায়-
পুরোনোকে ভুলে নয়, বরং তাকে ধারণ করেই নতুনকে গ্রহণ করতে হয়।নতুন বছরের সূর্য তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি দর্শন-পুনর্জন্মের, পুনর্গঠনের, পুনরুত্থানের। এসো, আমরা পহেলা বৈশাখকে কেবল উৎসব হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সংস্কৃতি রক্ষা, মানবিকতা চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি। শুভ নববর্ষ

Ads small one

পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গুরুত্বপূর্ণ এ সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ একরামুল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামুল হক, পৌর সভাপতি আসলাম পারভেজ সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, তুষার কান্তি মন্ডল, জামায়েত ইসলামীর উপজেলা সভাপতি ডা. সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, মোর্তজা জামান আলমগীর, অধ্যক্ষ মোঃ আজহার আলী, সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার ঘোষ, প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব ও দেবাশীষ সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস ছালাম, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান, পীযূষ কান্তি মন্ডল, আজিজুল ইসলাম লাভলু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রহিমা আখতার শম্পা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লালু সরদার, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমূখ।

সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতিকার, আসন্ন দুর্গাপূজা, লোডশেডিং, যানজট, মোবাইল জুয়া, বাল্যবিবাহ, গভীর রাতে পর্যন্ত চায়ের দোকান খোলা রাখা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাতক্ষীরায় প্রাথমিকের ১৯৯ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র প্রদান, বাদ পড়লেন ৪ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিকের ১৯৯ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র প্রদান, বাদ পড়লেন ৪ জন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক পদে ১৯৯ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯৫ জনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি থাকায় চারজনকে এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক নির্বাচন কমিটি সাতক্ষীরা জেলার জন্য প্রার্থীদের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেতনক্রমে (গ্রেড-১৩) অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর তাঁদের শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। কর্মদক্ষতা, আচরণ ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নিয়োগপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালে কোনো ধরনের বদলির আবেদন করা যাবে না। শিশুদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। নিয়োগের সময় দেওয়া কোনো তথ্য বা সনদ পরবর্তী সময়ে মিথ্যা, ভুয়া বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যাচাই-বাছাই ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অফিস চলাকালীন সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চাকরিতে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তাঁরা চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে বিবেচিত হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের পর সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হলে বা অনুত্তীর্ণ হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে না বলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নিয়োগপত্রে এসব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

পত্রদূত ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সে দিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলো। এ মামলার আরেক আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।

তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান। একটি চিরকুটে লেখা আছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই-তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই। আরেকটিতে লেখা, আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

আরও লেখেন, আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর!!! আর আমি ছিলাম বোকা!!!অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ!!!

অপর লেখায় আছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়ৃভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!
রবিবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।