মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং সহজলভ্যতা রোধের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর কুফল থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।

২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। মাদকের অপব্যবহার রোধ, অবৈধ পাচার দমন এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা। ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৬ জুনকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়ে আসছে।

সারা পৃথিবীতে তরুন প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলোর মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। অসংখ্য কারণে একজন মানুষ মাদকের প্রতি আসক্ত হতে পারে। মাদক সেবনের ফলে মানুষের মাঝে এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। ডিপ্রেশন, মানসিক চাপ, বিষণœতা কমাতে মাদক গ্রহণ করে। মাদকাসক্তের বড় অংশ মানসিক চাপে পড়ে মাদক গ্রহণ শুরু করে। আমাদের দেশে সিগারেট, গাঁজা, হেরোইন, মদ, ফেন্সিডিলের মতো মাদকগুলো খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের চারপাশে অনেকটা হাতের নাগালে মাদক পাওয়া যায়। যার কারণে শিক্ষার্থীরাও এগুলোর প্রতি সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক সময় নিছক আনন্দ ও কৌতুহলবসত মাদক গ্রহণ করে। আবার অনেকে নিজের স্মার্টনেশ দেখাতে মাদক ব্যবহার করে। আর এভাবে কিশোর কিশোরীসহ নানা বয়সের মানুষ মাদকের দূর্ভেদ্য জালে আটকে পড়ে। পরে আর মাদক থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।

পরিবার হলো যেকোনো নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। সন্তানদের মাদকমুক্ত রাখতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে এবং তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। সন্তানের দেরিতে বাড়ি ফেরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বা হঠাৎ অতিরিক্ত টাকার চাহিদা বাড়ার মতো লক্ষণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এড়িয়ে চলুন, কারণ পারিবারিক অশান্তি অনেক সময় তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে তারা কোনো মানসিক চাপে থাকলে বা হতাশায় ভুগলে তা পরিবারের সাথে শেয়ার করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া।

তরুণদের একটি বড় অংশ দিনের বেশী সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটায়, তাই শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অপরিসীম। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সেমিনার ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া। তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রাখা।

কোনো ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে অপরাধী না ভেবে একজন রোগী হিসেবে বিবেচনা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এবং ভালো কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া।

মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে এর অপব্যবহার রোধ করা অসম্ভব। মাদক চোরাচালান ও উৎপাদন কঠোরভাবে দমন করা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট এলাকার আশেপাশে মাদকের দোকান ও সহজলভ্যতা কঠোর হাতে বন্ধ করা। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদকের কেনাবেচা রুখে দেওয়া। মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সাথে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

মাদকাসক্তি নিরাময় করতে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেন আসক্ত ব্যক্তিরা সহজে চিকিৎসা পেতে পারে। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত তথ্যচিত্র ও শিক্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এর মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, মাদকের সহজলভ্যতা কমানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।প্রতিটি স্তরে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

Ads small one

অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষার তারিখ পেছাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষার তারিখ পেছাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। অনিবার্য কারণবশত পূর্বনির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে নতুন এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২০ মে’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই পরীক্ষা আগামী ২৮ জুন ২০২৬ (রবিবার) থেকে শুরু হয়ে ১৩ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণবশত তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ১৬ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)।

দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের এই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

 

 

 

 

 

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র জাহিদ, খোঁজ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র জাহিদ, খোঁজ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: খুলনা নর্থ ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাঈমুর রহমান (জাহিদ) বিরল ও জটিল স্নায়ুরোগ ‘জিবিএস’ (গিলিয়ান-বার সিন্ড্রোম)-এ আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর চিকিৎসা চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার হরিশপুর গ্রামের সোহরাব সরদারের একমাত্র ছেলে নাঈমুর রহমান গত ১৯ জুন আকস্মিক এই রোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম এ আউয়ালের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাহিদকে দ্রুত ঢাকা নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে এনে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। জাহিদের অসুস্থতার খবর পেয়ে দুপুরে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী নিজে হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসাধীন জাহিদের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

 

 

 

তালায় দলিত’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দলিত’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

‎তালা প্রতিনিধি: ‎তালায় বেসরকারি সংস্থা দলিত’র ইনক্লুসিভ ডিজিটাল পাথওয়েজ ফর ডিজঅ্যাডভান্টেজড ভালনারেবল কমিউনিটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলিত’র আয়োজনে এবং দাতা সংস্থা ফান্ডাজিঅন সানজিনো- ইতালির সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, দলিত’র হেড অব প্রোগ্রাম (ইনক্লুশন এন্ড লাইভলিহুড) নিতাই চন্দ্র দাস।

‎প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) মো. শরিফুল ইসলাম।

 

দলিত’র টেকনোলজি এডুকেটের পবিত্র দাস’র সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে ফাইনান্স ও এডমিন কৃষ্ণ পদ দাস, প্রজেক্ট অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস ও কমিউনিটি নারী নেত্রী স্বরসতী দাসসহ ২৭ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

‎সভায় দলিত সংশ্লিষ্ট ইনক্লুসিভ ডিজিটাল পাথওয়েজ ফর ডিজঅ্যাডভান্টেজড ভালনারেবল কমিউনিটি প্রকল্পের মেয়াদ, বাজেট এবং কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।