শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যাত্রা থেকে চলচ্চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
যাত্রা থেকে চলচ্চিত্র

এম শফিকুল ইসলাম

দুর্দান্ত প্রত্যাপে তাঁরা অভিনয় করতেন যাত্রা মঞ্চে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন যাত্রালোকে। পরে এক সময় এলেন চলচ্চিত্রে। এখানেও বেশ সুনাম কুড়ালেন। যদিও এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। যার তারা থেকে চলচ্চিত্রে আসা কয়েকজন শিল্পীর কথা তুলে ধরছি আজকের সাহিত্য পাতার প্রকাশনীতে। যাত্রাশিল্পের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও যাত্রা গবেষক এম. এ মজিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিনেতা আনোয়ার হোসেন পঞ্চাশের দশকে জীবনে প্রথম যাত্রা মঞ্চে অভিনয় করেন ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্র’। এ চরিত্রে অভিনয় করে এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি মুকুটহীন নবাব খ্যাতিতে ভূষিত হন। এরপর অসংখ্যবার তিনি নবাব চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন। এছাড়াও আরও কয়েকটি যাত্রাপালায় অভিনয় করেন তিনি। পরে খান আতিউর রহমান পরিচালিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে ‘নবাব চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন।

 

১৯৫৯ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ননী দাস নির্দেশিত ‘এক টুকরো জমি’ নাটকে এবং ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন এবং চলচ্চিত্রের অভিনয়ে থিতু হন। অভিনেত্রী আনোয়ারা প্রথম জীবনে কয়েকটি যাত্রাপালায় অভিনয় করলেও সংখ্যায় তা বেশি ছিল না। আনোয়ারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা যাত্রা পালায় আলেয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন এবং সুখ্যাতি পান। পরে খান আতিউর রহমান পরিচালিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে আলেয়া চরিত্রে অভিনয় করেই প্রশংসিত হন। ১৯৬১ সালে আনোয়ারা ফজলুল হকের ‘আজান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় করেন। অভিনেতা আমির সিরাজী সত্তরের দশক থেকে যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

 

চলচ্চিত্রের নতুন মুখের সন্ধানের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ১৯৮৪ সালে ঢাকায় আসেন এবং এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ইবনে মিজানের ‘পাতাল বিজয়’। আমির সিরাজীর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা মতিন রহমানের ‘রাধা কৃষ্ণ’। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সাত শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। শর্বরী দাসগুপ্ত একজন বলিষ্ঠ যার দ্বারা ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তাঁর প্রকৃত নাম রিনা রানি। ১৯৭০ সালে তিনি এ যাত্রা দল গীতাশ্রী অপেরায় অভিনয় জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো-কেয়ামত, মনে পড়ে তোমাকে, বাবা কেন চাকর প্রভৃতি।

 

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে শর্বরী দাশগুপ্ত ২০১৭ সালের জিয়া গোল্ড মেডেল পদকে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে অঞ্জু ঘোষ ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরার যাত্রার নৃত্য পরিবেশন করতেন ও গান গাইতেন। ১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে অঞ্জুর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। চলচ্চিত্রের অভিনয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ১৯৯৬ সালে অঞ্জু কলকাতায় পাড়ি জামান। সেখানে চলচ্চিত্র ও যাত্রাপালায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেতা সিরাজ হায়দার একাধারে একজন মঞ্চ যাত্রা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন। ১৯৬২ সালে নবম শ্রেণীতে পরকালীন ‘টিপু সুলতান’ শিরোনামে নাটকে প্রথমবার অভিনয় করেন। আশির দশকের নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘সুখের সংসার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সিরাজ হায়দারের।

 

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন, মঞ্চ ও যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন। প্রখ্যাত যাত্রাশিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস এবং জ্যোৎনা বিশ্বাসের কন্যা অরুনা বিশ্বাস। তিনিও যাত্রাপালায় বাবা মার মতো অভিনয় করেন। এছাড়া মঞ্চ নাটকের ও তাঁর সফলতা ছিল। ১৯৮৬ সালের নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত অরুনা বিশ্বাসের প্রথম সিনেমা ‘চাপা ডাঙ্গার বউ’। তার বিপরীতে ছিলেন বাপ্পারাজ। এরপর ‘দুর্নাম সম্মান ‘কৈফিয়ত, হাঙ্গর নদী গ্রেনেডসহ আরো বহু সিনেমায় অভিনয় করেন।

 

অরুনা বিশ্বাস অভিনেতা সুজনের প্রকৃত নাম পঙ্কজ বৈদ্য। তার জন্মস্থান চট্টগ্রাম। তিনি সত্তরের দশক থেকে চট্টগ্রামে যাত্রাপালা এবং মঞ্চ নাটকের জনপ্রিয়তার সঙ্গে অভিনয় করতেন। আশির দশকে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। প্রথমে পাশ্বচরিত্রে অভিনয় করতেন। নায়ক হিসাবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে সিবি জামান পরিচালিত উজান ভাটি। তিনি প্রায় দুই ডজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চ্যানেল সমূহের কল্যাণে বাংলাদেশের নাটক ও যাত্রার উন্নতির হাওয়া বইছে। নাটক যাত্রার ক্ষেত্র যথেষ্ট প্রসার লাভ করছে। সারাদেশে অসংখ্য নাট্যগোষ্ঠী ও যাত্রা অপেরা গড়ে উঠেছে নিয়মিত মঞ্চস্থ ও চিত্রিত হচ্ছে। রেডিও টিভিতে নাটক যাত্রাপালা প্রচারিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমী প্রতিবছর নাট্যকার ও পালাকারকে পুরস্কৃত করছে।

 

এছাড়া শিল্পকলা একাডেমী নাট্য উৎসবের আয়োজন করছে। দিন দিন নাটক ও যাত্রার দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বর্তমান সময়ের নাট্যচর্চার আশিব্যঞ্জক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বাংলার লোকনাট্য ও লোক যাত্রা পালা মানুষের বিবেক জাগ্রত করার এক অনন্য শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।

লেখক : সাংবাদিক ও নাট্যকার

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: পর্যটন মৌসুমের আগেই প্রয়োজন কঠোর নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: পর্যটন মৌসুমের আগেই প্রয়োজন কঠোর নিরাপত্তা

 

তিন মাসের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের দুয়ার খোলার মধ্য দিয়ে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা আবারও দস্যু আতঙ্কের কাছে ম্লান হতে বসেছে। অস্ত্রসহ কয়েকটি বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেও বনে নতুন করে বিভিন্ন দস্যু দলের তৎপরতা ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে আসছে। শ্যামনগরের উপকূলেই নয়, গোটা সুন্দরবন ঘিরে এখন জেলেদের মধ্যে এক অদৃশ্য তাড়া ও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলে ও বনজীবীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নামার আগেই তাঁদের প্রতি নৌকাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ ও ধারদেনা করে পাস-পারমিট নিয়ে বনে যাওয়া এই অসহায় মানুষগুলোর কাছে মাছ শিকারের আগেই এমন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি অত্যন্ত মর্মান্তিক। টাকা দিতে না পারলে বা দেরি হলে গহিন বনের নদী-খালে জোটে নির্যাতন, হামলা কিংবা অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দস্যু বাহিনীর হাতে জেলে অপহরণ, পুলিশি অভিযান এবং কোস্ট গার্ডের কাছে দস্যুদের বিপুল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে যে, সুন্দরবনে দস্যুতার শেকড় এখনো পুরোপুরি উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবন কেবল জেলেদের রুটিরুজির কেন্দ্র নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতি ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সামনেই বনের পর্যটন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবনের সৌন্দর্যে অবগাহন করতে আসেন। যদি বনজীবীদের নিরাপত্তাই সুসংহত না হয়, তবে বনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর থেকে পর্যটকদের আস্থা উঠে যাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কোস্ট গার্ড বা পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান প্রশংসাযোগ্য হলেও সাময়িক বা খ-কালীন তৎপরতা দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধি দূর করা অসম্ভব। দস্যুদমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুন্দরবনের খাঁড়ি ও গহিন নদীগুলোতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সুন্দরবনের দস্যু দমনে কেবল বনের ভেতরের সশস্ত্র ব্যক্তিদের ধরলেই চলবে না; দস্যুদের পেছনে থাকা অর্থদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও আশ্রয়দাতা তথাকথিত মহাজন বা মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত না করতে পারলে উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের জীবিকা যেমন হুমকির মুখে পড়বে, তেমনি আসন্ন পর্যটন মৌসুমও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হবে। বনজীবী ও পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে সমন্বিত ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

সাতক্ষীরায় সাড়ে ৯ মাসে পানিতে ডুবে ২০ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সাড়ে ৯ মাসে পানিতে ডুবে ২০ জনের মৃত্যু

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারানোর ঘটনা থামছেই না। গত জানুয়ারি মাস থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুকুর, নদী, খাল ও মাছের ঘেরে ডুবে অন্তত ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর মধ্যে ১৭ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলতে গিয়ে কিংবা গোসল ও ওযু করার সময় অসাবধানতাবশত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, জানুয়ারি ১জন (অজ্ঞাত), ফেব্রুয়ারি ২ জন (১ জন বৃদ্ধ, ১ জন শিশু), মার্চ ৩ জন (৩ জন শিশু), এপ্রিল ১ (জন১ জন শিশু), মে ২ জন (২ জন শিশু), জুন ৩ জন (৩ জন শিশু), জুলাই ৪ জন (১ জন নারী, ৩ জন শিশু), আগস্ট ৩ জন (৩ জন শিশু), সেপ্টেম্বর ৫ জন (১ জন বৃদ্ধা, ৪ জনশিশু) সর্বমোট ২০ জন, ১৭ জন শিশু, ১ জন বৃদ্ধা, ১ জন বৃদ্ধ, ১ জন অজ্ঞাত পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
মাসভিত্তিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মে থেকে সেপ্টেম্বরÑএই চার মাসে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছেÑসাঁতার না জানা, পুকুর বা জলাশয়ের ধারে অভিভাবকহীন অবস্থায় খেলাধুলো করা এবং হঠাৎ চোখ সরিয়ে নেওয়াতেই একেকটি তাজা প্রাণ নিভে গেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চলতি সালের ২৫ জানুয়ারি কালিগঞ্জ উপজেলার নবীনগর এলাকার হাবড়া (গোয়াল ঘেসিয়া) নদী থেকে আনুমানিক কয়েক দিন আগের ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির (বয়স ও পরিচয় অজানা) মরদেহ উদ্ধার করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। ১৮ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের শংকরকাটি গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিন মিস্ত্রির ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন মো. আবু দাউদ মিস্ত্রি (৭০) বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে পড়ে মারা যান। ২১ ফেব্রুয়ারি কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ-মধুসূদনপুর গ্রামে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে মারা যায় তৌহিদ হোসেন মোড়লের সাড়ে তিন বছরের শিশু তাহির মোড়ল। ১৫ মার্চ তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামের তেতুলতলা পুকুরে পড়ে মৃত্যু হয় ৩ বছরের শিশু আলিফ-এর।

শিশুটি পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের শার্শা গ্রামের মাজেদ গাজীর ছেলে। ২৩ মার্চ কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘেরের পানিতে ডুবে মারা যায় দুই খালাতো ভাই-বোনÑসন্ন্যাসীরচক গ্রামের মো. ফারুক গাজীর ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন (১৩) ও নলতা কাশিমপুর গ্রামের মো. আহসান আলী খা’র মেয়ে জান্নাতুল (১০)। ১৯ এপ্রিল কলারোয়া উপজেলার বামনখালী বাজার সংলগ্ন পুকুরে খেলাধুলার সময় পড়ে গিয়ে মারা যায় পাইকগাছার কাটিপাড়া গ্রামের দিনমজুর শফিকুল ইসলামের ৬ বছরের মেয়ে উর্মি খাতুন। ১৬ মে শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর গ্রামের আমির হোসেন আদরের ২ বছর বয়সী শিশু সন্তান আব্দুর রহমান বাড়ির পাশের জলাশয়ে পড়ে মারা যায়। ২২ মে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের মাগুরী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মো. সাদিকুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতুল (১১) সহপাঠীদের সাথে আকবর আলীর পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে মারা যায়। ১৩ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে পুকুরধারে খেলার সময় পড়ে গিয়ে মারা যায় আব্দুর রহিমের ৫ বছরের ছেলে শান্ত। ১৩ জুন পৃথক ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা এলাকায় ঘরের পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজের পর পার্শ্ববর্তী বেতনা নদী থেকে এক শিশু এবং একটি মাছের ঘের থেকে অপর এক শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। ৩ জুলাই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের পূর্ব সুকদেবপুর গ্রামে রাত ৯টার দিকে খালের কিনারায় মৃগী (খিঁচুনি) রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে মারা যান ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের অরুণ পালের স্ত্রী তমা সরকার (২৮)। ১০ জুলাই তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় পাশে থাকা কাশেম সরদারের পুকুরে ডুবে মারা যায় ইসরাইল হোসেনের ৩ বছরের ছেলে মো. আরাফাত হোসেন।

১৪ জুলাই তালা উপজেলার ঢ্যামসাখোলা গ্রামে মায়ের সাথে মাঠে গিয়ে কালভার্টের নিচে পানিতে পড়ে মারা যায় শাহিনুর রহমান মোড়লের ৫ বছরের মেয়ে রুমানা খাতুন। ২৬ জুলাই দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ সখিপুর গ্রামে মাছের ঘেরে পড়ে মারা যায় মো. হযরত আলীর ২ বছরের কন্যাশিশু আসমা উল হোসনা। ১০ আগস্ট শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামে বাড়ির পাশে বিলের ড্রাম/পুকুরে পড়ে মারা যায় ২৬ মাস (৩ বছর) বয়সী শিশু মো. জাওয়াত (বা জাওয়াদ)। সে যশোর জেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী মনিরুজ্জামান/মনিরুল ইসলামের পুত্র। ২৯ আগস্ট কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউনিয়নের তালুন্দিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে প্রাণ হারায় প্রকৌশলী শাহজাহান কবিরের ২ বছরের শিশুসন্তান আব্দুর রহমান। ৩০ আগস্ট তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামে সকাল ৮টার দিকে পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় শেখ রিয়াজুল ইসলামের ২ বছর বয়সী শিশু মারিয়া। ৮ সেপ্টেম্বর তালা উপজেলার মাছিয়াড়া বাদামতলা গ্রামে বাড়ির পাশের জলাশয়ে পড়ে মারা যায় মো. আছাদুল মোড়লের সাড়ে তিন বছরের ছেলে আরিয়ান মোড়ল। ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা পৌর শহরের বাটকেখালি এলাকায় গফুর সরদারের পুকুরে স্কুলে যাওয়ার আগে গোসল করতে নেমে সাঁতার না জানায় ডুবে মারা যায় বাটকেখালি মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র লাবিব হোসেন (১০, পিতা: সাদ্দাম হোসেন) ও একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী হাবিবা খাতুন (৯, পিতা: হাবিবুর রহমান)। ১৮ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে নানাবাড়ির পাশে আবু বক্কর শেখের পুকুরে ডুবে মারা যায় দুই শিশুÑদক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের আজগার আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (৮) এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে ইকবাল হোসেন (৭)। ১৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামে ফজরের নামাজের আগে পুকুর ঘাটে ওযু করতে গিয়ে পানিতে পড়ে মারা যান মৃত আনছার আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা আমেনা খাতুন (৮০)।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ির আশেপাশে পুকুর ও জলাশয়ে সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকা এবং ছোট শিশুদের একাকী জলাশয়ের কাছে যেতে দেওয়াই এসব অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ। পরিবারের অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দফা ধীরে ধীরে বাড়বে, শেষ পর্যন্ত সব মিলে এক দফায় পরিণত হবে: শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
দফা ধীরে ধীরে বাড়বে, শেষ পর্যন্ত সব মিলে এক দফায় পরিণত হবে: শফিকুর রহমান

‘আমাদের দাবি দেশের কোটি মানুষের জন্য। সরকার যদি ৮ দফা দাবি না মানে, তাহলে আজকের ৮ দফা কাল ৯ দফা হতে পারে, এরপর যুক্ত হতে পারে ১০ দফা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দফা এক দফায় পরিণত হবে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের অংশ হিসেবে সন্ধ্যার পর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সেই এক দফা চাই না। আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, সুযোগ দিচ্ছি। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। কিন্তু সরকার যদি দাবি না মানে, তাহলে অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে; আমরা সেই পাপের ভাগ নিতে রাজি হবো না।’

লং মার্চের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখনকার লং মার্চ ঢাকায় হবে না; এটি হচ্ছে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে। জাতির প্রয়োজনে যদি আরও বৃহত্তর লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়, তাহলে গ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত লং মার্চ হবে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নারী-পুরুষ সবাইকে নিয়ে সেই লং মার্চ হবে।’

দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘অনেক সন্তান মায়ের বুকে নেই। দেশের জুলুম, খুন ও ধর্ষণ আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আজ মায়েরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন, শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে; কিন্তু এসব বন্ধ হচ্ছে না, বিচারও হচ্ছে না।’

ঢাকা থেকে রংপুরে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ পথসভায় এসে তাঁদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মায়েরা যে দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সেই দাবি আদায় করেই ছাড়ব।’

এদিকে পথসভায় বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারাও বক্তব্য দেন। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের এমপি মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন এমপি আখতার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা দেখছি, নির্বাচনের পরে সরকার তার রূপ পরিবর্তন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান সরকার ও সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে পারেন না এবং তাঁদের বক্তব্যের জবাবও দেন না—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সংসদে নীরবতা অবলম্বন করলেও বাংলাদেশের মানুষ নীরব থাকবে না।’

এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পাশে বসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ব্যবসা ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে ব্যস্ত এবং তাঁর ছেলে টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এসব বক্তব্যে তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দেশকে রক্ষায় আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে।’

এর আগে পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি গাইবান্ধা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। লং মার্চের পথসভাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

উল্লেখ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়। কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে।