শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস: পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা, ময়লামুক্ত নদীর পাড়, প্লাস্টিকবিহীন সমুদ্রসৈকত কিংবা আবর্জনামুক্ত শহরÑএসব শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার এ বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস।

২০২৬ সালের বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের প্রতিপাদ্যÑ“পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর”। এবারের কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি খাদ্য অপচয় রোধ, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চক্রাকার অর্থনীতি ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওশিং শহরে দিবসটির বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাস। ২০০৮ সালে এস্তোনিয়ায় মাত্র পাঁচ ঘণ্টার একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পুরো দেশকে এক দিনে পরিচ্ছন্ন করার সেই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। মানুষ নিজ উদ্যোগে জনপরিসর পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্য কমানো, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের বিষয়ে সচেতন হতে শুরু করে।

এই ব্যাপক নাগরিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে গৃহীত রেজুলেশন ৭৮/১২২-এর মাধ্যমে প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি দিবসটি উদযাপনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।

হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নÑএই ৩আর নীতি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি। এবারের “পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে পরিচ্ছন্ন নগর” প্রতিপাদ্য খাবারের প্লেট থেকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র তুলে ধরে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে। এর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার, ২৮ শতাংশ খাদ্য পরিবেশন খাত এবং ১২ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে অপচয় হয়েছে। বিশ্বে বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রতিদিন অপচয় হলেও একই সময়ে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। খাদ্য অপচয় পরিবেশের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি জড়িত।

পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ও অনুকরণীয় পদ্ধতি রয়েছে। জাপানে বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় খাদ্যবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আইন, নাগরিক সচেতনতা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় দেখা যায়।

বাংলাদেশের শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য পৃথকীকরণের অভাব পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট-এর মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়িত্বশীল করার লক্ষ্যে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)-ভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; এটি প্রতিদিনের অভ্যাস পরিবর্তনের একটি আহ্বান। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করা, বাজারে পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ নেওয়া, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলা এবং জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরির মতো ছোট ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

একটি পরিচ্ছন্ন প্লেট থেকে শুরু হতে পারে পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, পরিচ্ছন্ন বাড়ি, পরিচ্ছন্ন পাড়া এবং পরিশেষে একটি পরিচ্ছন্ন নগর। আসুন, বর্জ্য ফেলার আগে এর পরিণতি নিয়ে ভাবি এবং পরিচ্ছন্নতাকে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলি।

 

Ads small one

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত ব্যয় কমাতে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে সংবর্ধনার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনাতেও অংশ নেবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার খুব ব্যস্ত সময়সূচী থাকবে। সাধারণ পরিষদের ফাঁকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।’

জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন নিয়ে আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে সরকার বৃহত্তর রোহিঙ্গা সংকটের দিকে নজর দেবে।

তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে হুমায়ূন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রায়ই শেষ মুহূর্তে এ ধরনের আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের আন্দোলনের পরে সরকারের প্রতিশ্রুতি, বিশেষত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা তুলে ধরতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে জনগণের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তার সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং প্রচেষ্টা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ছয় মাসে সংসদে পাস হওয়া বিলসহ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতিগত সংস্কার ও উদ্যোগের রূপরেখাও তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার সরকারের মিশন, ভিশন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকার উপস্থাপনের সুযোগ দেবে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি নতুন যাত্রা, একটি নতুন সম্ভাবনা এবং একটি নতুন আকাঙ্ক্ষা চিহ্নিত করে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততার দিকনির্দেশনা দেবে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করার ওপর জোর দেবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ নজর পাবে এবং সাধারণ পরিষদের সময় প্রধানমন্ত্রীকে সম্পৃক্ত করে একটি নিবেদিত অধিবেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

খুলনায় চুরির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় চুরির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত আজমল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তবে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তব্যরতদের জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন।

হাসপাতালের ভর্তির কাগজপত্র অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম আজমল। তার বাবার নাম কুতব। ঠিকানা গল্লামারী, হরিণটানা, খুলনা। হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ওয়ার্ডবয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে আনার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানান, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে চুরি করতে গিয়ে আটকের ভয়ে আজমল লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজমলের মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি চারতলা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন, নাকি এর আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাড়ির মালিক আবু বকর জানান, অভিযুক্তরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তারা রুমে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। নিহত আজমলকে ছাদে নিয়ে নির্যাতন করে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং পাশের একটি রুমে থাকতেন।

পুলিশ জানায়, আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ওই অংশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকেন। আজমলের মৃত্যুতে ছাত্র ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য সামনে এলে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে চুরির অভিযোগে তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করার পর লাফিয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের চার বছর মেয়াদি (২০২৬) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর দুইটা থেকে বেলা পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ১৬ পদমর্যাদার এ নির্বাচনে ১৬৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৫০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

পদাধিকারবলে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। নির্বাচনে সহসভাপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মো. রফিক উল ইসলাম খান ও মো. রিয়াজুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান। কোষাধক্ষ্য পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মনিরুজ্জামান মনির এবং দপ্তর সম্পাদক পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এসএম ওয়াসি উদ্দীন খান (পিপুল)।
যুগ্ম সম্পাদক পদে ১০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ইকবাল কবির খান বাপ্পি; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল গাফফার পেয়েছেন ৩৮ ভোট।

এ ছাড়া ৮টি সদস্য পদে সকুমার দাস বাচ্চু (১১৭ ভোট), আবু অহিদ বাবলু (১১৬ ভোট), এম এম মজনু ইলাহী (১১৫ ভোট), ফারুক হোসেন স্বপন (১১৫ ভোট), মো. আনিসুর রহমান (১১১ ভোট), মো. জাহিদ হাসান (১১০ ভোট), আবুল কাশেম বাবর আলী (৯২ ভোট) ও জাফরুল খান চৌধুরী সামু (৮৪ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন সহকারী নির্বাচন কমিশনার প্রভাষক মো. আতাউর রহমান। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে আরও ছিলেন এম ইদুজ্জামান ইদ্রিস। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাবিব ও মনোরঞ্জন মন্ডল। পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক মুকুল ও অনুপম।