মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় অনুদানের চেক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় অনুদানের চেক বিতরণ

সংবাদদাতা: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ সাতক্ষীরা জেলার কোচ ও কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা এবং ট্রাউজার ও ট্রাকসুট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস সাতক্ষীরার আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ এঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের কৃতি ক্ষুদে খেলোয়াড়রা আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তারা একদিন দেশের হাল ধরবে। ভালো ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনবে এবং জাতীয় দলে নেতৃত্ব দেবে ইনশাল্লাহ।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলতাফ হোসেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হয়ে দ্রুততম মানব হওয়া সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের জাকির হোসেন’র পিতা মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

 

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ সাতক্ষীরা জেলার কোচ ও কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাউজারও ট্রাকসুট বিতরণ করা হয়। এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তা, কৃতি খেলোয়াড় ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ হতে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুকূলে এককালীন অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয় সাতক্ষীরার আয়োজনে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চেক বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখ আবুল কালাম আজাদ ও সুশান্ত কুমার মল্লিক প্রমুখ। এসময় জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সাতক্ষীরার পক্ষ থেকে ২৭টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মাঝে প্রায় ১৪ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান।

Ads small one

বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

এসএম বিপ্লব হোসেন
বাড়ির উঠানে এখনও বিকেলের রোদ পড়ে। সন্ধ্যা নামলেই আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন একজন মা। কোনো শব্দ হলেই বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে আশা। মনে হয়, এই বুঝি ছেলেটা ফিরে এল। কিন্তু পরমুহূর্তেই বাস্তবতা তাকে মনে করিয়ে দেয়, সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই।
ধীরে ধীরে তিনি বলেন, “ও বাবা, তুমি যাইওনা… কত বলেছিলাম, বাবা যাস না। তাও গেলে। আমার আসিফ আর ফিরল না…” এরপর আর কথা বলতে পারেন না শিরীন সুলতানা। কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলেকে হারানোর সেই বিকেলটি যেন আজও থমকে আছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামের ছোট্ট সেই বাড়িতে।
দেশ বদলেছে। ইতিহাস বদলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে নানা আয়োজন। কোথাও নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ, কোথাও পাঠাগার, কোথাও বা চত্বর। কিন্তু একজন মায়ের কাছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সন্তানের খালি বিছানা, অপূর্ণ অপেক্ষা আর না-ফেরা একটি মুখ।
মাত্র ২১ বছর বয়সে আহত এক সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম আজ শহীদ আসিফ হাসান। নর্দান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী নিজের জীবন নয়, অন্য একজনের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছিলেন।
১৮ জুলাই ২০২৪: রাজধানীর উত্তরা তখন ধোঁয়া, আতঙ্ক আর গুলির শব্দে ভারী। আন্দোলনের মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলছে। ঠিক সেই সময় বড় বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন আসিফ।
“আপা, আমি ভালো আছি। ভয় পেয়ো না। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওকে পানি খাওয়াতে যাচ্ছি…”Ñএটাই ছিল তার শেষ কথা।
ফোনের অপর প্রান্তে বড় বোন বারবার ডাকছিলেন, “হ্যালো… হ্যালো… আসিফ…” কিন্তু আর কোনো উত্তর আসেনি। আহত সহযোদ্ধাকে পানি খাওয়ানোর আগেই গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন আসিফ। পরে সহযোদ্ধারা তাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়িতে তখনও কেউ জানত না, পরিবারের সবচেয়ে ছোট স্বপ্নবাজ ছেলেটি আর কোনোদিন ফিরবে না।
কয়েকদিন পর বাড়ি ফেরার জন্য বাসের টিকিট কাটা ছিল। মা ভেবেছিলেন, ছেলেটা এলে তার প্রিয় ভেটকি মাছ, চিংড়ি আর গরুর মাংস রান্না করবেন। কিন্তু বাস থেকে নামল না আসিফ। ফিরল সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে পরিবার প্রথম নিশ্চিত হয়, তাদের আসিফ আর নেই। সেই থেকে এই বাড়ির সময় যেন থেমে আছে।
শিরীন সুলতানা আজও বলেন, “আমার মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়বে। বলবে, মা খেতে দাও। এখনও রান্না করলে মনে হয়, আমার আসিফ এসে বলবে, মা গরম গরম দাও।”
পাশেই বসে থাকেন বাবা মাহমুদ আলম। খুব বেশি কথা বলেন না। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। চোখের ভাষাতেই যেন লুকিয়ে থাকে সব বেদনা।
জমজ ভাই রাকিব হাসানের কাছে এই শূন্যতা আরও গভীর। একই দিনে জন্ম, একই সঙ্গে বড় হওয়া, একই স্বপ্নে পথচলা। ভাইকে হারানোর পর যেন নিজেরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
রাকিব বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো কিছুই আলাদা ছিল না। যা করতাম, একসঙ্গে করতাম। এখন মনে হয়, আমার অর্ধেকটাই যেন হারিয়ে গেছে।”
দুই বছর পরও পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, বিচার কবে হবে?
মামলার তদন্ত চলছে বলে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির খবর পরিবার জানে না। দীর্ঘ এই অপেক্ষা তাদের বেদনা আরও গভীর করেছে।
তবে সাতক্ষীরা তার এই সন্তানকে ভুলে যায়নি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পাঠাগারের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ আসিফ পাঠাগার’। জেলার কেন্দ্রস্থল খুলনা রোড মোড় এখন পরিচিত ‘আসিফ চত্বর’ নামে। দেবহাটায় উদ্বোধন হয়েছে ‘শহীদ আসিফ হাসান মিনি স্টেডিয়াম’। এসব শুধু স্থাপনার নাম নয়, একটি প্রজন্মের আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী।
তবু দিনের শেষে যখন সন্ধ্যা নামে আস্কারপুরের সেই বাড়িতে, তখন একজন মা এখনও নিঃশব্দে ছেলের ঘরে ঢোকেন। বালিশে হাত রাখেন। আলমারি খুলে কাপড় গুছিয়ে রাখেন। কখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলেন, “বাবা, আর একবার যদি ফিরে আসতে…”
হয়তো কোনোদিন সেই ডাকের উত্তর মিলবে না।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন পেরিয়ে সময় এগিয়েছে। বদলে গেছে রাষ্ট্র, বদলে গেছে রাজনীতির অনেক হিসাব। কিন্তু দেবহাটার আস্কারপুর গ্রামের একটি বাড়িতে সময় যেন এখনও আটকে আছে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ে। একজন মা এখনও সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, একজন বাবা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, আর একজন যমজ ভাই প্রতিদিন নিজের অর্ধেক শূন্যতা বয়ে বেড়ান।
রাষ্ট্র আজ নানা আয়োজনে শহীদ আসিফ হাসানকে স্মরণ করছে। তার নামে হয়েছে পাঠাগার, চত্বর ও মিনি স্টেডিয়াম। কিন্তু পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটাই, যে আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে, সেই আত্মত্যাগের ন্যায়বিচার একদিন নিশ্চিত হবে।
ইতিহাসের পাতায়, জুলাইয়ের লাল-সবুজ স্মৃতিতে, আর লাখো মানুষের হৃদয়ে, আহত সহযোদ্ধাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম চিরকাল লেখা থাকবে-শহীদ আসিফ হাসান। লেখক: সংবাদকর্মী

আন্তর্জাতিক ট্রাফিক লাইট দিবস: সভ্যতার গতিপথে এক নীরব আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ট্রাফিক লাইট দিবস: সভ্যতার গতিপথে এক নীরব আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ৫ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক ট্রাফিক লাইট দিবস। আধুনিক নগরজীবনে ট্রাফিক লাইট এমন একটি পরিচিত অবকাঠামো, যার উপস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা প্রায়ই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ভুলে যাই। অথচ প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের নিরাপদ চলাচল, সড়ক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরজীবনের গতি সচল রাখার পেছনে এই ছোট্ট আলোক সংকেতের অবদান অসামান্য। আন্তর্জাতিক ট্রাফিক লাইট দিবস মূলত সেই অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
এই দিবস পালনের পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯১৪ সালের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহরের ইউক্লিড অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ১০৫তম স্ট্রিটের ব্যস্ত মোড়ে বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। প্রকৌশলী জেমস হোগের নকশায় নির্মিত এই ব্যবস্থা আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির সূচনা করে। তখনকার সিগন্যাল ব্যবস্থায় কেবল লাল ও সবুজ আলো ছিল এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা হাতে পরিচালিত সুইচের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেই সময়ে এটি ছিল এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যা পরবর্তীকালে বিশ্বের সব আধুনিক শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
তবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৮৬৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিশ্বের প্রথম গ্যাসচালিত ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। কিন্তু গ্যাস লিক হয়ে বিস্ফোরণের কারণে তা অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা লেস্টার ওয়্যার লাল ও সবুজ আলো ব্যবহার করে একটি বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবস্থা তৈরি করেন। পরে ১৯২০ সালে ডেট্রয়েটের উইলিয়াম পটস লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন রঙের ট্রাফিক লাইট চালু করেন, যা আজও বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ উদ্ভাবক গ্যারেট মর্গান এমন একটি সিগন্যাল ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেন, যা যানবাহন ও পথচারীর নিরাপদ চলাচলের জন্য অতিরিক্ত বিরতির সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এসব উদ্ভাবনের সমন্বিত ধারাই আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের বর্তমান রূপ গঠন করেছে।
ট্রাফিক লাইট শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি সামাজিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মোটরযানের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর ফলে যানবাহনের চলাচল নিয়মতান্ত্রিক হয় এবং দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম সফল আবিষ্কার হলো ট্রাফিক লাইট, যা প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করছে।
বাংলাদেশে ট্রাফিক সিগন্যালের ইতিহাসও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাকিস্তান আমলে ১৯৬০-এর দশকে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ইলেকট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করলেও ২০০১ সালে বৃহৎ পরিসরে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এসব প্রকল্প কাক্সিক্ষত সাফল্য না পেলেও বর্তমানে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর কাজ এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহায়তায় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোর বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সাতক্ষীরা জেলা শহরে এখনো কোনো কার্যকর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হয়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা হাতে ইশারা দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন। খুলনা রোড মোড়, পাকাপুল এলাকা, নিউ মার্কেট মোড়, বড়বাজার মোড় কিংবা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ইজিবাইক, ইঞ্জিনভ্যান, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহনের মিশ্র চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাতক্ষীরায় আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে ট্রাফিক লাইট প্রযুক্তি এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এখন আর শুধু নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী লাল-সবুজ বাতি জ্বলে না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর, ক্যামেরা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা বাস্তব সময়ে যানবাহনের চাপ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চীনের কিছু শহরে ‘সিটি ব্রেইন’ নামের এআই ব্যবস্থা ট্রাফিক প্রবাহ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করে এবং জরুরি যানবাহনের জন্য দ্রুত পথ উন্মুক্ত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি যানজট তৈরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি শনাক্ত করে সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করতে সক্ষম। সিঙ্গাপুরে কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কভিত্তিক স্মার্ট সিস্টেম পথচারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সিগন্যাল পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপেক্ষার সময় কমিয়ে পরিবহন দক্ষতা বৃদ্ধি করছে।
এমন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়Ñট্রাফিক লাইট কেবল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বাতি নয়; এটি প্রকৌশল, গণিত, তথ্যপ্রযুক্তি, নগর পরিকল্পনা এবং মানবিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল ও কার্যকর ব্যবস্থা। এর প্রতিটি রঙের পেছনে রয়েছে শত বছরের গবেষণা, অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ইতিহাস।
আন্তর্জাতিক ট্রাফিক লাইট দিবস তাই শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি নিরাপদ সড়ক, সুশৃঙ্খল নগরজীবন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের গুরুত্ব উপলব্ধির দিন। বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যালের সেই ছোট্ট আলো আজ কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট সিটির যুগে এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে। আর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আধুনিক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রশ্ন নয়; এটি নাগরিক জীবনমান উন্নয়নেরও একটি অপরিহার্য শর্ত।

সাতক্ষীরা মেডিকেলের গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, বড় দুর্ঘটনা এড়াল ফায়ার সার্ভিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মেডিকেলের গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, বড় দুর্ঘটনা এড়াল ফায়ার সার্ভিস

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যারেজে রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই তা পুরো অ্যাম্বুলেন্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্যারেজে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটির পাশেই সংরক্ষিত ছিল অসংখ্য অক্সিজেন সিলিন্ডার। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দ্রুত ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে আগুন সিলিন্ডারে ছড়াতে পারেনি, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে হাসপাতালটি।
এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকা-ে একটি অ্যাম্বুলেন্স, ভেতরের চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গ্যারেজের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।