বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: “জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ব্যাণার প্লাকার্ড ও ফেস্টুন সহকারে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারি পরিচালক সৌমেন মৈত্র এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ.এম রহমাতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার ও গণপূর্ত বিভাগ সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ প্রমুখ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক ফিফা রেফারী তৈয়েব হাসান বাবু, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জয়ন্ত সরকার প্রমুখ। এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিসহ পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা।

আলোচনাসভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

Ads small one

রাগ থেকে কলহ : কলহে অশান্তি ও মানসিক ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
রাগ থেকে কলহ : কলহে অশান্তি ও মানসিক ক্ষতি

মানুষের রাগ একটা জটিল ও ক্ষতিকর বিষয়। কেননা রাগ থেকে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বা কলহ। আর কলহ থেকে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, সুখী দম্পতিদের চেয়ে অসুখী দম্পতিদের ক্ষত বা ঘা নিরাময় হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া এ ধরনের অসুখী দম্পতিদের বিষাদগ্রস্ততা, উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত রাগের সময় কর্টিসল হরমোন ক্ষরিত হয়, কর্টিসল (Cortisol) হল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি প্রধান স্টেরয়েড হরমোন, যা “স্ট্রেস হরমোন” নামে পরিচিত। এটি শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মানসিক বা শারীরিক চাপের সময় এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শরীরকে সামাল দিতে সাহায্য করে।

দীর্ঘ সময় ধরে রেগে থাকলে এই হরমোন শরীরকে অবিরত ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে দেয়। সুতরাং রাগে কলহ আর কলহ থেকে শারিরীক ও মানসিক ক্ষতি অনিবার্য!

ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, অসুখী দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দাম্পত্য কলহ থেকে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় তা রক্তে প্রোটিনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেয়। অসুখী দম্পতিদের জন্য এটি দুঃসংবাদ বটে।

জেনে নিন রাগের সময় শরীরে কি ঘটে
আমরা যখনই রেগে যাই বা কোন মানসিক বা শারীরিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়, মস্তিষ্ক কিডনির ওপরে অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে সঙ্কেত পাঠায় ফলে, গ্রন্থি থেকে দ্রুত কর্টিসল হরমোন রক্তে নিঃসৃত হয়।

কর্টিসল যকৃতে প্রোটিন এবং চর্বি ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এর ফলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস পায়।

আবার কর্টিসল ইনসুলিনের কার্যকারিতার বাধা দেয়, যাতে পেশি বা চর্বি গ্লুকোজ ব্যবহার না করে এবং মস্তিষ্ক তা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারে। (কর্টিসল কোষের ইনসুলিন রিসেপ্টর এবং পরবর্তী সংকেত প্রদান ব্যবস্থা নষ্ট করে, ফলে ইনসুলিন থাকলেও কোশ গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না, সাময়িক ডায়াবেটিসের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়)

রাগ হজম প্রক্রিয়ার ওপরেও খারাপ প্রভাব ফেলে,যাকে বলে “অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেল্থ ব্যাহত হয় (Gut Health)”, এটা কেবল হজম প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়, বরং এটি আমাদের মানসিক অবস্থা, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

কর্টিসলের উচ্চমাত্রা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ, কারণ অতিরিক্ত কর্টিসল অন্ত্রের কোশগুলোর মধ্যেকার সূক্ষ্ম সংযোগ বা ‘টাইট জাংশন’ গুলোকে দুর্বল করে দেয়, এরফলে অন্ত্রের প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়লে টক্সিন, ক্ষতিকর জীবাণু সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যায়, যা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে।

অন্যদিকে আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ‘মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস এবং রাগ এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, স্ট্রেসের কারণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।

আবার রাগের সঙ্গে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ মানসিক উত্তেজনা বা রাগ মস্তিষ্কের মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে সংকেত পাঠিয়ে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে এবং খাদ্যনালীর পেশী শিথিল করে রিফ্লাক্স বা অম্বল বাড়িয়ে দেয়। রাগের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ (Stress) শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়ায়, ফলে সামান্য অ্যাসিডেও তীব্র বুকজ্বালা অনুভূত হয় এবং খাবার হজমে দেরি হয়, যা রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়।

(সায়েন্স ম্যাগাজিন)

যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ কর্মকর্তা

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বড় পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। একসঙ্গে ১৭২ জন উপসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল এরই মধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনোরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচ। এছাড়া এর আগে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় আছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’- এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) ওপরই নির্ভরশীল। দেশজুড়ে রিয়েল-টাইম ও নির্ভুল আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহে অধিদপ্তরের হাতে রয়েছে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো বর্তমানে এই পাঁচটি রাডারের চারটিই অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে অন্যান্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো রকমে দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করছে সংস্থাটি।
বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের ভরা মৌসুমে দেশের পুরো রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় সময়মতো এবং নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রাডারগুলো বিকল হয়ে পড়ার পেছনে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন রাডার কেনা এবং বিদ্যমান রাডারগুলোর জরুরি মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যেই দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও সচল রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীনে ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া (পটুয়াখালী), রংপুর ও মৌলভীবাজারে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার স্থাপিত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যন্ত্রাংশের মেয়াদোত্তীর্ণতা এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সম্পূর্ণ অচল। রংপুরের নতুন রাডারটি গত ১৭ জুন থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। তবে বর্তমানে রাডারটি সচল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর ঢাকার রাডারটি শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত সমস্যায় অচল হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তারিফুল কবির নওয়াজ জানান, রংপুরের রাডারটি অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর)-এর ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। এটি এখনও ওয়ারেন্টির আওতায় থাকায় জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন।

তিনি আরো জানান, রাডারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হলেও যন্ত্রাংশ আমদানির জটিলতা, স্পেয়ার পার্টসের সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান জেআরসির পুরোনো রাডারগুলোর স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ডুয়াল-পোলারাইজেশন ডপলার রাডার স্থাপনের জন্য কয়েকশ’ কোটি টাকা প্রয়োজন। কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের পুরোনো রাডারগুলো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

 

রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একটি ডপলার রাডার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বায়ুর গতি ও দিক, এমনকি ঝড়ের গতিবিধিও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু রাডার অচল থাকায় পূর্বাভাসের নির্ভুলতা এবং সময়মতো সতর্কবার্তা জারির সক্ষমতা কমে গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্ক অচল থাকায় বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রাডারের ডেটা ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইমেজ, স্থলভিত্তিক আবহাওয়া স্টেশন এবং প্রতিবেশী দেশের তথ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মুস্তফা কামাল পলাশ বলেন, একটি আবহাওয়া রাডারের কার্যকরী পরিসর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। সমুদ্র থেকে কোনো ঝড় ওই পরিসরে প্রবেশ করলে রাডার তার গতি ও দিক নির্ধারণ করতে পারে। স্যাটেলাইট শুধু মেঘ দেখায় কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ নির্ভুলভাবে বলতে পারে না। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিবিধি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা উপকূলবাসীকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

কেন্দ্রীয় বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (সিএপিএস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, তিনটি রাডার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় উপকূলবাসী সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত। আগের সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ে গুরুতর অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, স্যাটেলাইট, নিউমেরিক্যাল ওয়েদার প্রেডিকশন (এনডব্লিউপি) মডেল এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাডার ডেটা সহায়ক হলেও এগুলো কোনোভাবেই ডপলার রাডারের বিকল্প নয়। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে স্বল্পমেয়াদি (নাউকাস্টিং) পূর্বাভাসের নির্ভুলতা কমে যায়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল সতর্কবার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

রাডারগুলো কবে নাগাদ আবার সচল হবে এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকার রাডার শিগগিরই মেরামত করা হবে। আর পুরোনো তিনটি রাডারের জন্য আপগ্রেডেশন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তর বর্তমানে স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জনগণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিন্তু মৌলিক যন্ত্রপাতির অভাবে সেই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রাডার নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরকার, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।

এদিকে দেশের আবহাওয়া রাডার নেটওয়ার্ক যখন প্রায় সম্পূর্ণ অচল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ এই মৌসুমের দ্বিতীয় প্রধান ও পূর্ণাঙ্গ মৌসুমি বৃষ্টিপ্রবাহ বা ‘রেইন ব্যান্ড’-এর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধারা’।

বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ধারা’ নামের এই রেইন ব্যান্ড ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দফায় দফায় দেশের ওপর সক্রিয় থাকবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।