হরিণের মাংসসহ আটক ব্যক্তিকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় ২ কনস্টেবল প্রত্যাহার
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়ায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে রবিবার (১৭ মে) দুপুরে মাদারতলা পুলিশ ফাঁড়ির দুই কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে খুলনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন—কনস্টেবল মো. মাইনুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. মুছাব্বির হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে দুপুরে ডুমুরিয়ার মাদারতলা এলাকার একটি টাওয়ারের পাশ থেকে ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ সুফল মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন ওই দুই কনস্টেবল। পরে মামলার ভয় দেখিয়ে সুফলের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেন তাঁরা। টাকা নেওয়ার পর জব্দ করা হরিণের মাংস নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়ে সুফলকে ছেড়ে দেন ওই দুই কনস্টেবল।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সুফল মন্ডলের স্বজনদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে চতুর্মুখী চাপ তৈরি হলে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য গত শনিবার সুফলের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আছের আলী শনিবার রাতেই মাদারতলা ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পান।
খুলনার পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম বলেন, “আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হরিণের মাংসসহ আটক এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় ওই দুই কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”












