পত্রদূত রিপোর্ট: পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া বাজারে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে হাটে কোনো শেড (ছাউনি) বা ছায়াযুক্ত স্থান না থাকায় তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খামারি ও ক্রেতারা। ছায়া দেওয়ার মতো গাছগুলো মরে যাওয়ায় সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তীব্র রোদে মাঠ উত্তপ্ত থাকে। প্রচ- গরমে অনেক পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বড় আকারের গরু নিয়ে হাটে আসতে চাচ্ছেন না দূর-দূরান্তের খামারিরা।
রবিবার (১৭ মে) পারুলিয়া পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এবার বিশালাকৃতির গরুর উপস্থিতি বেশ কম। হাতে গোনা কয়েকটি বড় গরু হাটে তোলা হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। খামারিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও ক্রেতা পাচ্ছেন না। তীব্র রোদের কারণে অনেকে লোকসান দিয়ে বাড়ি থেকেই গরু বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি বেশি। এবার মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের প্রধান ঝোঁক ছোট ও মাঝারি পশুর দিকে। হাটে গরুর আকার ও মানভেদে ৭০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি আকারের খাসি ১২ থেকে ১৫ হাজার এবং বড় আকারের খাসি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
হাটে আসা খামারি ও বিক্রেতারা জানান, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এবার পশু পালনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সেই তুলনায় হাটে কাক্সিক্ষত দাম মিলছে না। তবে ঈদের আগে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু না এলে শেষ মুহূর্তে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। অন্যদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি, যার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাজার। অনেকেই বাজেট মেলাতে না পেরে গরুর বদলে ছাগল কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু বলেন, “ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য বাজারে গ্রাম পুলিশ ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া তীব্র গরমে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম হাটে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।”
সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা বলেন, “হাটে জাল টাকা সরবরাহকারী বা প্রতারক চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।”