মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আশাশুনি ও বড়দল ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন এসিল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনি ও বড়দল ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন এসিল্যান্ড

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও বড়দল ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র। মঙ্গলবার তিনি দপ্তর দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বড়দল ভূমি অফিস পরিদর্শনকালে তিনি স্পষ্ট জানান, বাজারের পেরিফেরিভুক্ত জমি যাঁদের দখলে আছে, তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব দিয়ে দখল বজায় রাখতে হবে। রাজস্ব না দিলে বা অস্বীকৃতি জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Ads small one

সাতক্ষীরায় অপার সম্ভাবনাময় শুঁটকি শিল্প, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অপার সম্ভাবনাময় শুঁটকি শিল্প, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় মিঠাপানির মাছের শুঁটকি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি এখন কার্পজাতীয় ও অন্যান্য মিঠাপানির মাছের শুঁটকির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এখানে উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিক তদারকি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই এলাকার শুঁটকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
প্রতিবছর সাতক্ষীরায় কী পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদিত হয়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে নেই। তবে স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের হিসাবমতে, বছরে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি তৈরি হয়। এসবের মধ্যে সিলভার কার্প, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও পুঁটি মাছ উল্লেখযোগ্য। প্রতি মণ শুঁটকির পাইকারি বাজারমূল্য ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে জেলায় উৎপাদিত শুঁটকির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ভারতের পাশাপাশি কার্পজাতীয় এসব মাছের শুঁটকি দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে মাছচাষিরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে লাভবান হচ্ছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলার সাতটি উপজেলার ৬০ হাজার হেক্টর জমির প্রায় ৬৩ হাজার জলাশয়ে (পুকুর, ঘের, খাল ইত্যাদি) মিঠাপানির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হিসাবে যার আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানান, কার্পজাতীয় মাছের শুঁটকি উৎপাদনে সাতক্ষীরায় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় প্রতিবছর প্রচুর মিঠাপানির মাছ উৎপাদিত হয়, যা ব্যবহার করে বড় পরিসরে শুঁটকি তৈরি ও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
তালা উপজেলার ত্রিশমাইল এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী নিপেন দাস ও খামার মালিক রমেশ চন্দ্র খা জানান, তাঁরা দুই বছরের বেশি সময় ধরে শুঁটকির আড়ত পরিচালনা করছেন। তাঁরা প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার কেজি শুঁটকি তৈরি করেন।
অন্যদিকে বিনেরপোতা এলাকার স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী কম দামের ছোট তেলাপিয়া মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। এসব শুঁটকি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পোলট্রি ও মৎস্য ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়।
বিনেরপোতা এলাকার আরেক শুঁটকি উৎপাদনকারী সাধন চন্দ্র রায় জানান, চার বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন এবং বেতনা নদীর তীরে তাঁর খামারে প্রতি মাসে প্রায় আট হাজার কেজি শুঁটকি উৎপাদন করেন। বাজার থেকে সিলভার কার্প, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও পুঁটি কিনে শুকানো হয়। এসব শুঁটকি মূলত চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুরে পাঠানো হয়।
শুঁটকির আড়তদার সাহাবুদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার বিভিন্ন খামার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে শুঁটকি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা।

নদীশাসনের অপপ্রভাব: সাতক্ষীরায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
নদীশাসনের অপপ্রভাব: সাতক্ষীরায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ

অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী
সাতক্ষীরা জেলার বেশির ভাগ এলাকা বছরের দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে মানুষকে প্রায় সময়ই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ও প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকলাপের মতো কোনো শুষ্ক স্থানও খুঁজে পাওয়া কঠিন। একদিকে নোংরা পানির সঙ্গে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের আতঙ্ক, অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় বন্দী জীবনÑসব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে পুরো জেলায়। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে এ এলাকার বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা বিশ্লেষণ করলে একে খুব বেশি অস্বাভাবিক বলা যায় না; বরং অপরিকল্পিত ব্যবস্থার কারণেই এই জলমগ্নতা। সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় এই দুর্ভোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
অনিয়ন্ত্রিত পানিতে ঘরবাড়ির বারান্দা পর্যন্ত তলিয়ে গেছে, চলাচলের পথগুলো গভীর পানির নিচে। বহু পরিবারে রান্না করার মতো কোনো শুকনো জায়গা নেই। শৌচাগার ও নিষ্কাশনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন নারী ও শিশুরা। কেউ মারা গেলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের লাশের সৎকারের জন্য জেলার অন্য কোনো উঁচুতে থাকা আত্মীয়ের বাড়ি বা সরকারি গোরস্থানের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে তার ওপর লাশ রেখে সৎকার কার্য সম্পন্ন করতে দেখা যায়। সাতক্ষীরায় এটি যেন মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা সরাসরি বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত। গঙ্গা নদীর প্রধান দুই শাখা—কপোতাক্ষ ও ইছামতী এই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পতিত হয়েছে। সাগর সংলগ্ন হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এখানকার নদীগুলোর গতিশীল থাকার কথা। সাগরে গঙ্গার পানি সরবরাহ এবং জোয়ার-ভাটার মেলবন্ধনের কারণে পুরো জেলাজুড়ে একসময় অসংখ্য নদী ও খাল জালের মতো ছড়িয়ে ছিল। তা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ আজ পানিবন্দী জীবন যাপন করছেন।
উপকূলীয় জেলা হয়ে এবং চারপাশে নদী-খালের অস্তিত্ব থাকার পরও কেন পানি নামছে না—এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট। নদীগুলোর ওপর অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরি করা, প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার পথ রুদ্ধ করা, মাছ চাষের নামে নদী-খাল ইজারা দেওয়া এবং অবৈধ দখলদারিই এর মূল কারণ। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থ ও মুনাফা অর্জনের মাধ্যম বানানো হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময় অপরিকল্পিত ও ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে প্রায় প্রতিটি সরকারের আমলেই নদী ও খাল দখলের মহোৎসব চলেছে।
ষাটের দশকে, বিশেষ করে ১৯৬২ সালের দিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মিষ্টি পানির আধার তৈরি ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির (সবুজ বিপ্লব) দোহাই দিয়ে নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়। সে সময় বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সাতক্ষীরাকে বিভিন্ন পোল্ডারে বিভক্ত করা হয়। ফলে নদীগুলোর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আদিকাল থেকেই সাগরের লোনা পানি ও উজানের মিষ্টি পানির সংমিশ্রণে এই উপকূলীয় পলিগঠন প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল। জোয়ার-ভাটার জোরালো স্রোতেই নদীগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে তাদের নাব্য ধরে রাখত। আবার জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি জমে জমির উচ্চতা ও উর্বরতা দুটোই বৃদ্ধি পেত। কিন্তু বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর স্রোতহীন নদীগুলোতে ধীরে ধীরে পলি জমে তলদেশ উঁচু হতে শুরু করে। এতে প্রাকৃতিক ভূমিগঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং নিচু বিল এলাকাগুলো আরও নিচু ও অবমিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যোগাযোগের উন্নতির নামে নদী-খালের প্রবাহ আটকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে। স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ ও টেকসই জীবনযাত্রার কথা চিন্তা না করেই জনপ্রতিনিধিরাও এসব স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে যান। সাতক্ষীরার এই জলাবদ্ধতা হঠাৎ তৈরি হয়নি, এর পদধ্বনি পাওয়া গিয়েছিল অনেক আগেই। গত কয়েক দশকে এ সমস্যা নিয়ে অসংখ্য আলোচনা, গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হলেও নীতিপ্রণেতারা সমাধান খুঁজছেন সেই পাউবোর কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমেই, যা মূলত সংকটের মূল কারণ।
সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। প্রতিবছর নদী খননের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রতি বর্ষায় মানুষ পানিবন্দী হয়, ফসল নষ্ট হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অথচ এই সংকটকে পুঁজি করে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভারী হচ্ছে।
একমুখী স্লুইসগেট বা জলকপাট হলো নদী ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড একের পর এক এসব গেট তৈরি করেছে। অন্যদিকে সড়ক ও সেতু নির্মাণের সময় নদীর প্রকৃত প্রস্থ বিবেচনায় না নিয়ে সরু পুল ও অতিরিক্ত পিলার ব্যবহার করা হয়েছে, যা নদীর করুণ মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। আজকের এই সংকটের জন্য প্রধানত পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায়ী। একই সঙ্গে নদী-খাল ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ও উদাসীন জনপ্রতিনিধিরাও এর দায় এড়াতে পারেন না।
সাতক্ষীরার ভূমিগঠন ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থার প্রধান দুই রূপকার হলো কপোতাক্ষ ও ইছামতী নদী। বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে খোলপেটুয়া, রায়মঙ্গল, মালঞ্চ, চুনার, আড়পাংশিয়া এবং অন্যান্য স্থানীয় নদী যেমন বেতনা, লাবণ্যবতী, আদি যমুনা ও মরিচ্চাপ জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করত। ব্রিটিশ আমলে জেলার নদীগুলোর সংযোগ রক্ষা করার জন্য প্রধানত তিনটি মানবসৃষ্ট খাল কাটা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রাণসায়র খাল (যা বেতনা ও মরিচ্চাপকে যুক্ত করেছে), কালীগঞ্জের কাকশিয়ালী খাল (আদি যমুনা থেকে খোলপেটুয়ার শাখা গণঘেসিকে যুক্ত করেছে) এবং শ্যামনগরের চৌদ্দরশি খাল (খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষের সংযোগ) উল্লেখযোগ্য।
এ অঞ্চলের নদী ও খালগুলো একসময় একটি অপরটির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত ছিল। একটি নদী অন্যটির উদ্বৃত্ত পানি ধারণ করে সাগরের দিকে নিয়ে যেত। লোনা ও মিষ্টি পানির এই সংমিশ্রণ পুরো এলাকার প্রতিবেশব্যবস্থাকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছিল। সুতরাং যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা নীতিপ্রণেতারা এর তোয়াক্কা করেননি। ফলে ভুল পরিকল্পনার চড়া মাশুল আজ দিতে হচ্ছে স্থানীয় অধিবাসীদের।
বর্তমানে সাতক্ষীরার একমাত্র জীবিত নদী বলা চলে ইছামতীকে। এর উৎপত্তিস্থল ভারতে হওয়ায় বছরের অন্তত ৭-৮ মাস উজান থেকে পানি আসে। ১৯৭২-৭৩ সালে স্থানীয় মানুষের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও দেবহাটার শাকরায় ইছামতী ও লাবণ্যবতীর সংযোগস্থলে ১৫ ভেন্টের একটি স্লুইসগেট তৈরি করা হয়। একই সময়ে ইছামতীর ভাতশালায় সাপমারা নদীর মুখে এবং মরিচ্চাপের সংযোগস্থলে টিকেট, কামালকাটি, শালখালী ও বালিথাসহ বিভিন্ন স্থানে বহু স্লুইসগেট বসানো হয়। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই লাবণ্যবতী, সাপমারা ও মরিচ্চাপ নদী শুকিয়ে যায়। পরবর্তীতে এর প্রভাবে বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীও তাদের নাব্য হারায়। জোয়ার-ভাটা বন্ধ হওয়ায় পলি জমে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
গত দুই দশক ধরে সাতক্ষীরার মানুষ ইছামতীর সঙ্গে অন্যান্য নদীর আগের মতো অবাধ জোয়ার-ভাটা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন। ইছামতীর জোয়ারের পানি লাবণ্যবতী, সাপমারা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া ও আদি যমুনা হয়ে নেমে যেত, আবার সেসব নদীর পানির টানে ইছামতীও পলি মুক্ত থাকত। দূরবর্তী হলেও এর প্রভাব বেতনা ও কপোতাক্ষ পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। কপাট বসিয়ে সেই প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন বাঁধ বা কৃত্রিম খনন কোনো কাজে আসছে না। মুক্ত জোয়ার-ভাটা তৈরি করা ছাড়া সাতক্ষীরাকে বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই।
একসময় বেতনা নদীর একটি শাখা খেজুরডাঙি হয়ে কদমতলা ও ঝাউডাঙা পার হয়ে সোনায় নদীতে মিশত। সেখান থেকে কাটা একটি খালের মাধ্যমে শহরের বুক চিরে এলাচর হয়ে মরিচ্চাপের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে প্রাণসায়র খালের জন্ম হয়। ফলে সমগ্র সদর এলাকায় পানির অবাধ প্রবাহ ছিল। কিন্তু খেজুরডাঙিতে ৬ ভেন্টের স্লুইসগেট বসানোর পর পুরো এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। সম্প্রতি জনদাবির মুখে প্রাণসায়রের এলাচর অংশটি উন্মুক্ত করায় খালটি কিছু প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে বিনেরপোতার কাছে খেজুরডাঙির স্লুইসগেটটি সরিয়ে দিলে সাতক্ষীরা সদরের প্রায় ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা দূর হতো এবং বেতনা নদীও পুনরায় প্রবাহমান হয়ে উঠত।
একইভাবে ইছামতী নদী কালীগঞ্জের বসন্তপুর থেকে আদি যমুনা নাম নিয়ে শ্যামনগরের মাদার নদী হয়ে মালঞ্চ ও সাগরে মিশত। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কালীগঞ্জের নাজিমগঞ্জে স্লুইসগেট নির্মাণ করে এবং মাদার নদীর সংযোগ পুরোপুরি আটকে দিলে আদি যমুনার গতি স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে মাদার নদীর মুখে একটি ছোট স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলেও এটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও কিছুটা গতি ফিরে আসায় ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। আদি যমুনার কিছু অংশ খনন করা হলেও এখনো বিস্তীর্ণ এলাকা অবৈধ দখলে রয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরার পানি সাগরে নামার অন্যতম পথ খোলপেটুয়া নদীর মুখে (শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ও পদ্মপুকুরের মধ্যবর্তী স্থানে) সম্প্রতি বিশাল চর জেগে উঠেছে। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই পলি অপসারণ করা না হলে আগামী কিছু বছরের মধ্যে সাতক্ষীরার পানি নিষ্কাশনের শেষ পথটিও বন্ধ হয়ে যাবে, যা পুরো জেলার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
অন্যদিকে কপোতাক্ষ নদের যে অংশটি সাগরের আড়পাংশিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল, আশাশুনি ও পাইকগাছার মধ্যবর্তী অংশে ভুল পরিকল্পনার কারণে শুষ্ক মৌসুমে তা শুকিয়ে যায়। এর ফলে সুন্দরবনে মিষ্টি পানি প্রবাহের পরিধি মারাত্মকভাবে কমে এসেছে।
শ্যামনগর সংলগ্ন দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অস্তিত্বের মূল ভিত্তিই হলো নোনা ও মিষ্টি পানির ভারসাম্য। নদীশাসনের কারণে উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই অঞ্চলটি বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক মাছের অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্র ছিল, যা মিষ্টি পানির অভাব ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এখন চরম হুমকির মুখে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর-মুন্সিগঞ্জ এবং খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক নির্মাণের সময় বেতনা, লাবণ্যবতী, কলকাতার খাল, প্রাণসায়র ও আদি যমুনার স্বাভাবিক গতিপথে বাধার সৃষ্টি করেছে। নির্মিত সেতুগুলোর সরু নকশা ও অতিরিক্ত পিলার নদীর নাব্যতা দ্রুত বিনষ্ট করেছে।
সাতক্ষীরাকে স্থায়ী মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে ইছামতীসহ সব কটি নদীর সঙ্গে জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনরায় চালুর কোনো বিকল্প নেই। কৃত্রিম বাধা অপসারণ করে নদীকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে দেওয়াই এই জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র উপায়। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া ও ইছামতীর সংযোগ পথগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে।

মশা পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
মশা পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ

প্রকাশ ঘোষ বিধান
মশা পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তপিপাসু এবং জীবনঘাতী পতঙ্গ। মশা আকারে ছোট হলেও পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী জীব। প্রতি বছর মশার কামড়ে হওয়া বিভিন্ন রোগে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। আকারে ছোট হলেও মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান সবার উপরে।
মশা হলো একটি ছোট উড়ন্ত পতঙ্গ, যা তার কামড় এবং রোগ ছড়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মশা নিজে কোনো রোগ তৈরি করে না। এটি কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায়। রক্ত চোষার সময় মশা মানুষের শরীরে তার লালা প্রবেশ করায়। এই লালার মাধ্যমেই ভাইরাস বা প্যারাসাইট মানুষের রক্তে মিশে যায়।
মশা সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ এবং প্রাণী। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও এটি বিভিন্ন মারাত্মক রোগ ছড়ানোর মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাঘ, সাপ বা হাঙরের চেয়েও মশার কামড়ে মানুষ বেশি মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মশার কামড়ে হওয়া বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।
জীবাণু বহনকারী এই মশা আসলেই পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ। আকারে অত্যন্ত ছোট হলেও, মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই মশা। পৃথিবীতে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি প্রজাতির মশা রয়েছে। এদের মধ্যে কেবল স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায়, কারণ ডিম পাড়ার জন্য তাদের রক্তের প্রয়োজন হয়। পুরুষ মশারা রক্ত খায় না, তারা গাছের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। ৩টি প্রধান ক্ষতিকর মশা ও রোগ হলো; এডিস মশা: এই মশার গায়ে সাদা-কালো দাগ থাকে। এটি কামড়ালে ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোগ হয়। অ্যানোফিলিস মশা: এই মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া জ্বর হয়। কিউলেক্স মশা: এই মশার মাধ্যমে ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ ছড়ায়।
প্রতিবছর ২০ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস। ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশা বাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন। ২০ আগস্ট মশা দিবস পালন করা হয় মূলত চিকিৎসক রোনাল্ড রসের আবিষ্কারকে সম্মান জানানোর জন্য। পরবর্তীকালে তিনি এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৩০ এর দশক থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি প্রথম পালন করা শুরু করে।
মশা সবসময় জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে ছোট পোকা বা লার্ভা বের হয়। লার্ভাগুলো পানিতে বড় হয়ে কয়েকদিনের মধ্যে উড়ন্ত মশায় পরিণত হয়। প্রজাতি অনুযায়ী ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হওয়ার সময়ের পার্থক্য দেখা যায়। কিছু প্রজাতির ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে সময় লাগে পাঁচ দিনের মত, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে ৪০ দিন বা কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগে। পূর্ণাঙ্গ মশার শারীরিক আকৃতি শূকের ঘনত্ব ও পানিতে খাদ্যের সরবরাহের উপর নির্ভর করে।
এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৩৫১২ প্রজাতির মশা দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত কিউলেক্স মাইমেটিকাসসহ বাংলাদেশে রয়েছে ১১৪ প্রজাতির মশা। একটি মশার ওজন সাধারণত ২.৫ মিলিগ্রাম। মশা ১ থেকে ৩ মাইল পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে, যা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২.৫ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে। ওরা প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ থেকে ৩০০ বার পর্যন্ত পাখা নাড়াতে পারে।
মশা এক প্রকারের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রীমশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। মশার দাঁত সংখ্যা ৪৭টি। মশা কিন্তু রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে না। মূলত রক্তের প্রোটিন অংশটি কাজে লাগিয়ে তারা ডিম পাড়ে। নারী মশা সচরাচর ৬-৮ সপ্তাহ বেঁচে থাকে। পুরুষ মশা কখনো হুল ফোটায় না। পুরুষ মশা কেবল একদিন বাঁচে। আর পুরুষ মশা একদিনের বেশি বাঁচলেও; তাদের পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক হয়ে পড়ে। এই ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ দীর্ঘ ২৫০০ বছর ধরে পৃথিবীর বুকে টিকে আছে।
মশার ছড়ানো প্রধান মারাত্মক রোগসমূহ হলো ম্যালেরিয়া: অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আফ্রিকা মহাদেশে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু: এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি এখন বড় মহামারী। চিকুনগুনিয়া: এটিও এডিস মশার কামড়ে হয়। এতে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাস: গর্ভবতী নারীদের এই ভাইরাস আক্রান্ত করলে নবজাতকের মারাত্মক জন্মত্রুটি হতে পারে।
যেকোনো নোংরা বা জমে থাকা পানিতে মশা খুব দ্রুত ডিম পেড়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। মশার হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির আশেপাশে বালতি, টব বা ডাবের খোসায় পানি জমতে না দেওয়া। বালতি, ফুলের টব বা টায়ারে ৩ দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে। ঘরে যাতে মশা ঢুকতে না পারে, সেজন্য জানালায় জালি বা নেট লাগানো। ঘরের কোণে রসুন ও লবঙ্গের ধূপ দিলে মশা দূর হয়। মশা তাড়াতে নিরাপদ মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা। মসকুইটো রিপেলেন্ট বা মশা তাড়ানোর উপাদান হলো এমন কিছু পদার্থ যা ত্বকে, পোশাকে বা ঘরে ব্যবহার করলে মশা দূরে থাকে এবং কামড়াতে পারে না। বাজারে ক্রিম, স্প্রে, লিকুইড ভেপোরাইজার, কয়েল ও রোল-অন আকারে বিভিন্ন ধরনের কার্যকর মসকুইটো রিপেলেন্ট পাওয়া যায়।
মশাকে যতই তুচ্ছ আর অবহেলা করা হোক না কেন, জীবাণু সংক্রমণকারী এই মশাই পৃথিবীতে সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ। মশা মারার ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণেই এখন ডেঙ্গু নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট