Header Top Small Advertisement

17158135 - online internet banner with text your ad here on a web page web page with all pictures and informations are created by contributor himself
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কার্পেটিং সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কার্পেটিং সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ মধুসূদনপুর এলাকায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কার্পেটিং সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এ কাজের উদ্বোধন করেন।
সাতক্ষীরা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত সড়কটি জলিল গাজীর বাড়ি থেকে বন্দকাটি আমিন মোড়লের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে এ সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মোঃ আব্দুল হাকিম আর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মোঃ আসাদুল ইসলাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ads small one

বিজিবির যশোর রিজিয়নে সাড়ে ৩ মাসে ৯৬ জনকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
বিজিবির যশোর রিজিয়নে সাড়ে ৩ মাসে ৯৬ জনকে আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গত সাড়ে ৩ মাসে যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতক্ষীরাসহ ৬০০কি.মি. সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯৬ জনকে আটক করেছে। এসময় ৬২ কোটি ৬৫ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়। আটক মালামালের মধ্যে রয়েছে ১ কেজি ৯১ গ্রাম স্বর্ণ, ১৫৬ গ্রাম হিরক, সাড়ে ১০ কেজি রৌপ্য, ৪২টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। এরআগে ২০২৫ সালে যশোর রিজিয়ন ৪২০ জন আসামীসহ সর্বমোট ৩৭৭ কোটি ৪৬ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখ্যযোগ্য। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে বিজিবি যাশোর রিজিয়ন ২৬৫২ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১৪৩ কেজি গাঁজা, ৩৯৬৫৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৪৬৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ সর্বমোট ২২ কোটি ৯০ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও গত ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৩০ হাজার ৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হিরোইন, ১ লাখ ৬১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৯ হাজার বোতল ফেন্সিডিল, ২ হাজার কেজির অধিক গাঁজাসহ সর্বমোট ১৯ কোটি ৫২ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়।

 

সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীর ঢল, জমজমাট বেচাকেনা

ইব্রাহিম খলিল: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিসিক আয়োজিত বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এই মেলার আজ পঞ্চম দিন। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন। তারা কেনাকাটার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। নানা রঙের স্টল, দেশীয় পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীতে সাজানো মেলাটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে উদ্যোক্তাদের বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈরি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, পাট ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং শিশুদের খেলনার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মেলায় স্টল দেওয়া স্থানীয় এক উদ্যোক্তা নুর জাহান বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে মেলায় মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে আমাদের স্টলে ভিড় বাড়ে। হাতে তৈরি পোশাক ও নারীদের ব্যবহার্য পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা নাহার কালেকশন-এর উদ্যোক্তা সামছুন্নাহার বলেন, মেলায় প্রচুর মানুষের ভিড় রয়েছে, তবে ঢাকা থেকে এসে খরচ তোলা কষ্টকর হবে। তারপরও এসেছি সাতক্ষীরায় কী ধরনের মালামাল চলে সেটা বোঝার জন্য।
মেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি কেনাকাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থী মো.নাজমুস সাকিব বলেন, প্রতি বছরই আমরা পরিবার নিয়ে বৈশাখী মেলায় আসি। এখানে এসে শিশুদের আনন্দ দেখতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। পাশাপাশি দেশীয় নানা পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা আমাদের জন্য সুবিধাজনক।
আরেক দর্শনার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে বিকেলের দিকে মেলায় এসেছি। শিশুদের জন্য খেলনা ও বিভিন্ন খাবারের আয়োজন আছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে ভালো লাগে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের বিষয়ে বিসিকের কর্মকর্তা বলেন, সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই মেলায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত উদ্যোক্তাদের একটি মিলনমেলা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে আমরা বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছি। বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার প্রধান উদ্দেশ্য স্থানীয় যারা উদ্যোক্তা রয়েছে যেমন অনেকে নকশীর কাজ করে, কাঠ দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর শোপিস তৈরি করে এমন বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের এখানে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নববর্ষের উৎসবমুখর পরিবেশে শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
মওলানা ভাসানী(১৮৮০-১৯৭৬) ছিলেন একাধারে ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলা হয় কারণ তিনি সারাজীবন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। জন্ম: ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০, সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। শিক্ষা: ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণ করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক সূচনা: ১৯১৭ সালে খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ। ১৯৪৯ সালে তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন এবং বিখ্যাত “ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে বিদায় জানানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
’ভাসানী’ নামকরণের ইতিহাস
তাঁর নামের সাথে ‘ভাসানী’ যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯২০-এর দশকে আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে বাঙালি কৃষকরা নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। আব্দুল হামিদ খান সেখানে গিয়ে শোষিত কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং তাঁদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন। ভাসান চরের সেই ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই জনগণ তাঁকে ভালোবেসে ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ’মওলানা’ বনাম ‘মাওলানা’: শব্দতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও এদের প্রায়োগিক ও উৎসগত দিক নিয়ে বিতর্ক ও ভিন্নতা রয়েছে:
মাওলানা: এটি আরবি শব্দ ‘মাওলা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অভিভাবক, বন্ধু বা নেতা। সাধারণত ইসলামি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
মওলানা: বাংলায় অনেক সময় উচ্চারণভেদে বা স্থানীয় বানান রীতিতে ‘মাওলানা’ কে ‘মওলানা’ লেখা হয়। তবে আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ক্ষেত্রে ‘মওলানা’ বানানটি বাংলা সাহিত্যে এবং তাঁর ভক্তদের কাছে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও আবেগের রূপ নিয়েছে। অনেকে মনে করেন, তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও কৃষকবান্ধব রাজনীতির কারণে তাঁকে সাধারণ মাদ্রাসার আলেমদের থেকে আলাদা করতে এই বানানটি অধিক জনপ্রিয় হয়েছে।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল মূলত মজলুম জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের (রুবুবিয়াত) সংমিশ্রণ। তিনি আজীবন কৃষক-শ্রমিকের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন, ক্ষমতার মোহে বিমোহিত না হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার মতাদর্শ ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, শোষণমুক্ত সমাজ গঠন এবং “হুকুমত-ই-রব্বানীয়া” বা ন্যায়ভিত্তিক সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা।
মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
মজলুমের অধিকার ও কৃষক আন্দোলন: তার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ। আসামের ‘লাইন প্রথা’ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত-সর্বত্রই তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।
রুবুবিয়াত বা ইসলামী সমাজতন্ত্র: ভাসানী ইসলামের মানবিক ও সাম্যবাদী দিকগুলো নিয়ে “রুবুবিয়াত” দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ সবার জন্য সমানভাবে বণ্টিত হওয়া উচিত।
বামপন্থা ও অসাম্প্রদায়িকতা: তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট বা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।
আপসহীন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: তিনি সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং শোষণের কঠোর বিরোধী ছিলেন। কাগমারী সম্মেলনে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে “আসসালামু আলাইকুম” বলে বিচ্ছিন্নতার হুংকার দিয়েছিলেন।
সাধারণ জীবনযাপন: তিনি ক্ষমতার লোভ বর্জন করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। এজন্যই তাকে “মজলুম জননেতা” এবং “লাল মওলানা” বলা হয়।
সারসংক্ষেপে, ভাসানীর দর্শন ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রে জনমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ধর্ম ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানী: সম্পর্ক ও কথোপকথন
মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো গভীর, আবার রাজনৈতিকভাবে গুরু-শিষ্যের মতো। বঙ্গবন্ধু মওলানা ভাসানীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং ‘ভাসানী সাহেব’ বা ‘হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়, মওলানা ছিলেন সভাপতি আর শেখ মুজিব ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মওলানা ভাসানীই তরুণ মুজিবকে রাজনীতির মাঠ পর্যায়ে পরিচিত করতে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিতেন।
ঐতিহাসিক কিছু কথোপকথন ও ঘটনা:
১. কারাগারে দেখা (১৯৫০-এর দশক): একবার কারাগারে থাকাকালীন মওলানা ভাসানী অনশন করছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তে লিখেছেন যে, তিনি মওলানাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে মওলানা বলেছিলেন: “মুজিব, মরতে তো একদিন হবেই, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নয়।”
২. আওয়ামী লীগের কাউন্সিল (১৯৫৫): দল থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’ করার সময় মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবের দূরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেছিলেন: “মুজিব, তুমি ঠিকই ধরেছো। এই দেশ সবার, এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি বেশিদিন চলবে না।”
৩. স্বাধীনতার পর (১৯৭২): বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন, মওলানা ভাসানী তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন: “মুজিব, তুই এসেছিস, এখন আমার মরেও শান্তি।” বঙ্গবন্ধুও সবসময় বলতেন, “হুজুর (ভাসানী) যা বলেন, তার মধ্যে জনগণের মনের কথা থাকে।” যদিও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনও ম্লান হয়নি।
মওলানা ভাসানী ছিলেন রাজপথের আপসহীন নেতা, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই আন্দোলনের সার্থক রূপকার। মওলানা ছিলেন আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তির উৎস, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই শক্তির প্রয়োগকারী। তাঁদের এই রসায়নই বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লেখক: কলামিষ্ট ও গবেষক।