রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, রবিবার (২৬ এপ্রিল) দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তার পরিবার। এসময় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষক আশিক রেহমান লিওন। মিমো একই বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, মৃত্যুর আগে ডায়েরি ও হোয়াটসঅ্যাপে সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন মিমো। সেখানে তার সহপাঠী উম্মে হানিকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল- “তুই আর সুদীপ স্যার ভালো থাকিস।”

এদিকে মিমোর সুইসাইডের খবর পেয়ে বিভাগের শিক্ষকরা ছুটে যান তার বাসায়। সেখানে গিয়ে তাকে বিছানায় শায়িত অবস্থায় দেখতে পান বলে  জানিয়েছেন শিক্ষক আশিক রহমান লিওন। তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা যখন জানতে পারি। তখনই ছুটে যাই তার বাসায়। গিয়ে দেখি তাকে বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। তার বাবা জানান, কখনও দরজা বন্ধ করে ঘুমাতো না মিমো। সেদিনই দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছিল। সকালে অনেকবার ডেকেও না খোলায় দরজা ভেঙে এই অবস্থায় দেখতে পান তার পরিবার।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Ads small one

আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে রাতের আঁধারে স্লুইসগেটের কপাট তুলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি ঢুকিয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানিতে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ধান চাষের পাশাপাশি এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালকি স্লুইসগেটের কপাট তুলে দেওয়ায় লোনাপানি ঢুকে খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া, ফটিকখালী এবং বড়দল ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনতলা ও পাঁচ পোতা গ্রামের হাজার হাজার বিঘা জমি এখন পানির নিচে। অনেক জমির পাকা ধান এখনও কাটা শেষ হয়নি।
গজুয়াকাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শিবপ্রসাদ ম-ল বলেন, “দিন ১৫ আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা গেট তুলে দেয়। এতে প্রায় ৭০০ বিঘা জমির ধান ও পুকুর লোনা পানিতে ভরে গেছে। মারা যাচ্ছে গাছপালাও।” কৃষক সতীশ চন্দ্র বৈদ্য জানান, লোনা পানির কারণে এলাকায় গো-খাদ্য ও রান্নার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেউটিয়া খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের কপাটও খুলে দিয়েছে। এর ফলে আরও কয়েক হাজার বিঘা জমি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গত তিন বছর এসব এলাকায় কোনো ফসল না হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু লোনাপানির কারণে বোরো ধানের পাশাপাশি আসন্ন আউশ মৌসুমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খাজরা ইউনিয়ন নদী-খাল সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান বলেন, খালের মাছ ধরার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ কাজ করছে। স্লুইসগেটটি সংস্কারের পর কোনো তদারকি কমিটি না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বড়দল গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে গেটের কপাট তুলে নদী ও খালে মাছ ধরছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, লোনাপানি প্রবেশ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আগুনের ক্ষত ও স্তব্ধ ভাষা জয় করেছে নুরজাহানের রং-তুলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আগুনের ক্ষত ও স্তব্ধ ভাষা জয় করেছে নুরজাহানের রং-তুলি

আসাদুজ্জামান সরদার: নুরজাহানের মুখে ভাষা নেই, কানেও শোনে না সে। কিন্তু তার হাতের রং-তুলি কথা বলে। ক্যানভাসে ফুটে ওঠে হৃদয়ের সব না বলা গল্প। সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার এই শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর শৈশবের এক ভয়াবহ অগ্নিসন্ত্রাসের ক্ষত জয় করে এখন মেধার স্বাক্ষর রাখছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তার অর্জিত পুরস্কারের সংখ্যা এতই যে, সেগুলো রাখার জন্য বিধবা মা হামিদা বেগমকে আলাদা একটি শোকেস কিনতে হয়েছে।
নুরজাহান সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার মৃত নুরুল গাজী ও হামিদা বেগম দম্পতির সন্তান। তাদের আদি বাড়ি শ্যামনগরের সুন্দরবনঘেঁষা টেংরাখালী গ্রামে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ইয়াতিম সন্তানকে নিয়ে মা হামিদা বেগমের জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে মা-মেয়ের সংসার। ছোট একটি কুঁড়েঘরে তাঁদের বসবাস।
হামিদা বেগম জানান, পাঁচ বছর আগে যখন নুরজাহানের বয়স মাত্র চার কি পাঁচ, তখন প্রতিবেশী এক দুর্বৃত্ত তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুনে তার পা থেকে কোমর পর্যন্ত ঝলসে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। কিন্তু সেই অসহ্য যন্ত্রণা আর শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বর্তমানে সে সাতক্ষীরা সুইড খাতিমুন্নেছা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থী।
হামিদা বেগম আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর এই মেয়েটিই আমার সব। ও কথা বলতে পারে না, কিন্তু ওর আঁকা ছবির মধ্যে আমি আমার স্বপ্ন খুঁজে পাই। ওর পুরস্কারগুলো রাখার জায়গা হচ্ছিল না বলে কষ্ট করে একটি শোকেস কিনেছি। ও যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, এটাই আমার চাওয়া।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম রফিক বলেন, “নুরজাহান আমাদের স্কুলে আড়াই-তিন বছর ধরে আছে। পড়াশোনার চেয়ে ছবি আঁকা ও নাচে সে অসাধারণ পারদর্শী। ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বা বাংলা নববর্ষের মতো জাতীয় দিবসগুলোতে জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমির প্রতিযোগিতায় সে নিয়মিত অংশ নেয় এবং প্রতিবারই পুরস্কার জয় করে। ওর সৃজনশীলতা আমাদের বিস্মিত করে।”
নুরজাহানের এই মেধার প্রশংসা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, “চরম প্রতিকূলতা জয় করে নুরজাহান শিল্পের মাধ্যমে নিজেকে মেলে ধরছে। এমন প্রতিভাকে বিকশিত করতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত। সঠিক সহযোগিতা পেলে সে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”
শারীরিক ক্ষত আর দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে নুরজাহান এখন এক লড়াকু সত্তার নাম। তার এই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তালায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
তালায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা

তালা প্রতিনিধি: তালায় ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিলÑ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’।
শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ বিশ্বাস। তিনি শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও মেধা বিকাশে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. খায়রুল ইসলাম ও মেডিকেল টেকনোলজি (ইপিআই) শেখ সাহিদুর রহমান রিপন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রেশমা খাতুন, সহকারী শিক্ষক মো. ইবাদুল গাজী, মো. সাদিকুজ্জামান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সাকিব।
আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘খাদ্য ও পুষ্টি’ বিষয়ক কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।