সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলাদেশ-নদীমাতৃক দেশের এক অনন্য উদাহরণ। এই ভূখ-ের জন্ম, বিকাশ ও সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদী, খাল-বিল ও পানির ওপর নির্ভর করে। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই পানিই আজ সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব পানি দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে” আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে-বাংলাদেশে কি সত্যিই পানি প্রবাহ আছে? আর থাকলেও তা কি সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের চোখে পড়ে এক জটিল বাস্তবতা-কোথাও পানি বেশি, কোথাও কম; কোথাও পানির গুণগত মান ভয়াবহ, কোথাও প্রাপ্যতা সীমিত; কোথাও নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও বন্যা গ্রাস করছে জনপদ। এই বৈপরীত্যই বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০০টিরও বেশি নদী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদের অনেকই আজ মৃতপ্রায়। নদীর নাব্যতা হ্রাস, দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা, যমুনা, মেঘনার মতো প্রধান নদীগুলো এখনো শক্তিশালী হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অসংখ্য শাখা নদী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব নদী হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু পানি হারানো নয়; এটি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি আঘাত। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে একদিকে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মাটির নিচের পানি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে-যা একটি দ্বিমুখী সংকট তৈরি করছে। বাংলাদেশে পানি সংকটের অন্যতম বড় দিক হলো এর বৈষম্য। শহরের একটি শ্রেণি সহজেই বোতলজাত পানি কিনতে পারে, কিন্তু গ্রামের দরিদ্র মানুষকে অনেক দূর হেঁটে পানি আনতে হয়। রাজধানী ঢাকায় ওয়াসার মাধ্যমে পানি সরবরাহ থাকলেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক এলাকায় পানির রং, গন্ধ ও স্বাদ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় এখনো অনেক মানুষ নিরাপদ পানির বাইরে রয়েছে। এই বৈষম্য কেবল ভৌগোলিক নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক। দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ফলে পানি সংকট একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং ভেড়িবাঁধের দুর্বলতার কারণে লবণ পানি ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে, পানীয় পানির সংকট বাড়ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মিঠা পানি সংগ্রহ করছে। নারীরা এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আবার ভিন্ন চিত্র। এখানে শুষ্ক মৌসুমে খরা দেখা দেয়। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এই অঞ্চলে পানি সংকট খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শহরে পানি সংকট একটু ভিন্ন রূপে দেখা দেয়। এখানে পানির প্রাপ্যতা থাকলেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্প বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে নদী ও খাল দূষিত হচ্ছে। ফলে পানি পরিশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক নদী কার্যত মৃত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের নদীগুলো আজ দূষণের ভারে ন্যুব্জ। শিল্প বর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিক এবং গৃহস্থালি বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর প্রয়োগ দুর্বল। বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানি একটি প্রধান উৎস। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আর্সেনিক সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অনেক এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিপজ্জনক। এটি একটি নীরব স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের পানি সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস-সবকিছুই পানির স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল মনিটরিং এবং রাজনৈতিক প্রভাব বড় বাধা। বাংলাদেশে পানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে। তবে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় উদ্যোগে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কমিউনিটি ব্যবস্থাপনা-এসব উদ্যোগ টেকসই সমাধানের পথ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের পানি সংকট মোকাবেলায় জরুরি কিছু পদক্ষেপ-নদী পুনরুদ্ধার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবহার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি।
এখনই সময় পানি সংকট এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান বাস্তবতা। “পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে”-এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা আজ কী সিদ্ধান্ত নিই তার ওপর। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ পানি সংকট রেখে যাব। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।