সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার ও আধুনিক ইরানের পথচলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার ও আধুনিক ইরানের পথচলা

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকে যে কটি দেশ বিশ্ব ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছে, পারস্য বা বর্তমানের ইরান তাদের মধ্যে অন্যতম। কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন এই ভূখ- কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং এটি শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি এবং সামরিক কৌশলের এক মহাকাব্যিক সমন্বয়। খ্রিস্টপূর্ব সাড়ে পাঁচশ বছর আগে মহান কুরুশ যখন আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তখন থেকেই এই অঞ্চলটি বিশ্বের প্রথম সুসংগঠিত শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে দরিয়ুস এবং জারক্সিসের শাসনামলে এই সাম্রাজ্য তৎকালীন বিশ্বের এক বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত হয়েছিল। যদিও বিভিন্ন সময়ে আলেকজান্ডার কিংবা আরব যোদ্ধাদের আগমনে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু পারস্যের সংস্কৃতি কখনোই বিলীন হয়নি; বরং তা নতুন রূপে বিকশিত হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই ভূখ-ের নাম পরিবর্তন করে ইরান রাখা হয়। তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর এক অনন্য মিশ্রণ। বর্তমানে এই ব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা, যার অধীনে দেশ পরিচালনা করেন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক সময়ে ইব্রাহিম রাইসির আকস্মিক প্রয়াণের পর মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশটির প্রশাসনিক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভৌগোলিক দিক থেকে ইরান পশ্চিম এশিয়ার এক কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। দেশটির বুক চিরে বয়ে যাওয়া জাগ্রোস পর্বতমালা, বিস্তীর্ণ দাশত-এ কাবির মরুভূমি এবং দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর একে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এই ভূমি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, তেমনই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ সম্পদ একে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে। জ্বালানি তেলের বিশাল মজুদ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ভা-ার দেশটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়েছে। তবে কেবল তেল নয়, কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে জাফরান, পেস্তা এবং হাতে বোনা কার্পেট ইরানের নাম সারা বিশ্বে উজ্জ্বল করে রেখেছে।
ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত—একটি সীমান্ত রক্ষার জন্য প্রথাগত বাহিনী এবং অন্যটি শাসনব্যবস্থা ও বিপ্লব রক্ষায় নিবেদিত বাহিনী। আধুনিক ইরান আজ নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতায় অবিশ্বাস্য সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং দূরপাল্লার চালকবিহীন বিমান বা ড্রোনের সক্ষমতা অনেক উন্নত রাষ্ট্রকেও বিস্মিত করে। শত প্রতিকূলতা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মাঝেও তারা যেভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, তা এক বিস্ময়। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌ-বাহিনীর আধিপত্য বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এক বড় প্রভাব বিস্তারকারী ফ্যাক্টর।
বর্তমানে ইরান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানামুখী চাপের সম্মুখীন হলেও তাদের ইতিহাস এবং জনগণের দৃঢ় চেতনা তাদের পথ চলতে সাহায্য করছে। একদিকে প্রাচীন পারস্যের গৌরবময় ঐতিহ্য, অন্যদিকে আধুনিক যুগের সামরিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিÑএই দুইয়ের সমন্বয়ে ইরান বিশ্ব মানচিত্রে এক প্রভাবশালী শক্তির নাম। তেল-গ্যাসের প্রাচুর্য আর কৌশলগত সামরিক শক্তির কারণে দেশটি কেবল একটি রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। হাজার বছরের পরিবর্তনের স্রোতে গা ভাসিয়েও ইরান আজও তার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান- ইজরাইল-মার্কিন যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর সংকট নিয়ে এবং ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ট্রাম্পের আল্টিমেটাম পরবর্তী পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে।
যুদ্ধের সর্বশেষ হালনাগাদ অবস্থা :
২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি অন্ধকার দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য যে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা ৭ এপ্রিল রাত ৮টায় (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী মধ্যরাত) শেষ হয়েছে। ইরান এই আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্য এখন এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
১. ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও এফ-৩৫ (ঋ-৩৫) হামলার বর্তমান পরিস্থিতি :
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্রিজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
হামলার শুরু: আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরপরই পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো থেকে ঋ-৩৫ খরমযঃহরহম ওও স্টিলথ ফাইটার জেটের স্কোয়াড্রনগুলো আকাশে উড়তে দেখা গেছে। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড এবং কৌশলগত সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরান এই আল্টিমেটামকে “আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” এবং “যুদ্ধাপরাধের উসকানি” হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে তারা প্রণালী খুলবে না।
২. যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের সরাসরি হামলা
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-ে হামলা করার সক্ষমতা সীমিত রাখলেও, তারা “অপ্রতিসম যুদ্ধ” (অংুসসবঃৎরপ ডধৎভধৎব) কৌশলে আঘাত হেনেছে:
সাইবার হামলা: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগমুহূর্ত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং আর্থিক খাতে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ শুরু করেছে ইরানি হ্যাকাররা।
আঞ্চলিক আঘাত: ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-ে ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়লেও, তারা ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এবং ইসরায়েলের তেল আবিব লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
৩. হতাহতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান (৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) যুদ্ধের ভয়াবহতা উভয় পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানির কারণ হয়েছে।
২০২৬ সালের এই প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা কঠিন হলেও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি আনুমানিক চিত্র তুলে ধরা হলো।
হতাহতের পরিসংখ্যান ও মানবিক বিপর্যয়
এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষের জীবনহানি ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা আনুমানিক চল্লিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার এর মধ্যে। এর মধ্যে একটি বড় অংশই হলো সামরিক বাহিনীর সদস্য, তবে আমেরিকার তীব্র বিমান হামলায় ইরানের তেহরান ও ইসফাহানের মতো শহরগুলোতে প্রায় পঁচিশ হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানে আহতের সংখ্যা বর্তমানে এক লক্ষ বিশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
ইসরায়েলের ক্ষেত্রে প্রাণহানির সংখ্যা ইরানের তুলনায় কিছুটা কম হলেও তা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ইরানের মুহুর্মুহু ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রায় দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যার মধ্যে সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে আহতের সংখ্যা প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার, যারা মূলত রকেট হামলা ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আমেরিকার ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় সাত হাজার সৈন্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মূলত ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চোরাগোপ্তা হামলায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে। লেবানন এবং সিরিয়ায় অন্তত আট হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ আহত হয়েছে। সব মিলিয়ে এই যুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় পঁচাত্তর হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা দুই লক্ষাধিক। এই বিশাল সংখ্যক হতাহত এবং তার ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।